বাস ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক শ্রমিক প্রশাসন কেউ কথা রাখেনি

কথা দিয়ে কথা না রাখা বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে যেন। আবার দায় এড়ানোর জন্য মিষ্টি কথা বলা খাছিলত হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার। সরকারিভাবে বাস ভাড়া বাড়ানোর পরও আরো বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই বেশি ভাড়া আদায় করা নিয়ে যশোর অঞ্চলে যাত্রীদের গলায় পাড়া দিয়ে মালিক-শ্রমিকরা অসভ্য আচরণ করছে। একটা নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে তারা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন তা কার্যকর না করায় এমনটাই মনে হয়। রীতিমত যাত্রীদের সাথ ডাকাতি করা ছাড়া আর কিছুই না।

সপ্তাহখানেক হতে গেল, দৈনিক কল্যাণে ‘বর্ধিত ভাড়ার পরও বেশি আদায় করে যাত্রীদের পকেট কাটা হচ্ছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, যশোরের বিভিন্ন রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম চান্দু বলেছিলেন, বেশি ভাড়া নেয়ার পক্ষে আমরা নই। ্এ অনিয়ম বন্ধের ব্যবস্থা নেবো। আর যশোর জেলা শ্রমিক পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু বলেছিলেন, বেশি ভাড়া নেয়ার বিষয়টি জানতে পারিনি। শ্রমিক নেতা মিঠুর ভাবখানা এমন যে তিনি জানলে এমনটা হতো না। যা হোক পত্রিকায় ওই খবরটি ২৩ নভেম্বর প্রকাশ হয়। গণমাধ্যমের কল্যাণ দুই নেতা বাস ভাড়া নিয়ে এ নৈতিকতার খবর জানলেও কোন ব্যবস্থা নেননি। আমাদের কাছে খবর এসেছে বধিত ভাড়ার ওপরে বর্ধিত ভাড়া আদায় অব্যাহত রয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে যদি ভাড়া আদায়ে সভ্যতা বর্জিত এ আচরণ বন্ধ না-ই করেন তাহলে গণমাধ্যমের সাথে গালভরা কথা বলে নিজেদেরকে মিথ্যাবাদী সাজানোর প্রয়োজনটা ছিল কি? এমন ধরনের প্রতারণামূরক কথা না বললে কি তাদেও কেউ মাথা কেটে নিতো?

করোনার কারণে দেশের সব শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক ভীত ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। তাদের আয়ের উৎসের হারিয়ে গেছে। আর বাসের যাত্রীদের সিংহভাগ এই শ্রেণির মানুষ। তার ওপর দ্রব্যমূল্যেও লাগামহীন ঊর্দ্ধগতিতে তারা একেবারে চিড়ে চেপ্টা। এ অবস্থায় বাস ভাড়া দিতে বাড়তি টাকা গুনতে গিয়ে তাদেও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু কে দেখবে তাদের এ করুণ আর্তি। কে বুঝবে তাদের ব্যথা-বেদনার কথা। যশোরের জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা পর্যায়ে আশা-ভরসার শেষ জায়গা থেকেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান না হওয়ায় মানুষ হাপিত্তেশ করেই কাটাচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসকের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেয়া হোক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে