Wednesday, May 25, 2022

বাড়াতে হবে নাগরিক সচেতনতা

দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণও আশাব্যঞ্জক। সরকার প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে নারীর জয়জয়কার। পুরুষের পাশাপাশি সব ক্ষেত্রেই কাজ করছে নারী।

শিক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করছে। সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের নারী জাগরণ সাড়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারও এসেছে। কিন্তু আমাদের সমাজে নারী নির্যাতনের সেই পুরনো চিত্রই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে ২৪৩ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮০ জন। এর মধ্যে তিনজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ২৪৩ জনের মধ্যে ৩৩ কন্যাশিশুসহ ৪৭ জন ধর্ষণের শিকার, ১৮ কন্যাশিশুসহ ৩০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, দুই কন্যাশিশুসহ তিনজন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ছয় কন্যাশিশুসহ আটজনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন শ্লীলতাহানি, সাত কন্যাশিশুসহ ৯ জন যৌন নিপীড়ন এবং একজন এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছে। তিনজন অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ১০ কন্যাশিশুসহ ১১ জন অপহরণ ঘটনার এবং এক কন্যাশিশু অপহরণচেষ্টার শিকার হয়েছে। নারী ও কন্যাশিশু পাচারের ঘটনা ঘটেছে একটি। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৩ জন। এর মধ্যে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০ কন্যাশিশুসহ ২৬ জন। ১০ কন্যাশিশু উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে দুই কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে। বিভিন্ন কারণে তিন কন্যাশিশুসহ ২৯ জনকে হত্যা এবং একজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

কেন এমন ঘটনা ঘটছে? বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্যক্তি সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিচার পেতে বিলম্ব হওয়া। নারী ও শিশু ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ বন্ধ করতে আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।

দেশে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। সমাজ ক্রমেই বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাওয়ায় আমাদের সমাজের পরিচয়টাই যেন পাল্টে যাচ্ছে। সে কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিলম্বিত বিচার কিংবা বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

প্রতিদিনই যেন প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে নারীকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নারীর অবস্থার উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বদলে দিতে না পারলে নারী নির্যাতন কমবে না। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাড়াতে হবে নাগরিক সচেতনতা। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার সর্বাত্মক সহযোগিতায় নারী নির্যাতন রুখে দেয়া সম্ভব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চুকনগর গণহত্যা জেনোসাইড হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি চাই

কাজী বর্ণ উত্তম: চলুন ফিরে যাই সেই ১৯৭১ সালে। চারিদিকে অন্ধকার অনিশ্চয়তা, নিজের বসত...

যশোরে দিবালোকে ব্যবসায়ীর আড়াই লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের মুজিব সড়কে দুই নম্বর আইনজীবী ভবনের সামনে গতকাল দুপুর পৌনে...

মিথিলার প্রেমে পড়ার ‘গুঞ্জন’!

বিনোদন ডেস্ক: গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর একসঙ্গে কাজ করতে...

খুলনায় ধর্ষণ মামলা আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

খুলনা ব্যুরো: খুলনার বটিয়াঘাটায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবুল আলীকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে...

যুদ্ধাপরাধী আমজাজ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইসিটি বিডি কেস নং - ১০/২০১৮ সংক্রান্তে যশোর জেলার...

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় কিশোরসহ নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে যশোরের কেশবপুরে মামা বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় ট্রাক চাপায় এক...