শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

বেনাপোল দিয়ে ৭১২ টন চাল ও ১৪১০ টন গম এলো দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আবারও চাল ও গম আমদানি শুরু হয়েছে। ১৭ জুলাই ১৪১০ মেট্রিক টন গমবাহী একটি কার্গো রেল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনে এ বন্দর দিয়ে ৭১২ টন চাল বন্দরে প্রবেশ করেছে। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেলাল হোসাইন, মেসার্স লিপু এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স দিন ইসলাম।

দেশে চালের বাজার ঊর্ধ্বগতি রুখতে আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ১০ মাস ১২ দিন পর ভারত থেকে পুনরায় চাল আমদানি শুরু হয়। আর ৪ মাস পর এসেছে গম।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, দেশে উৎপাদিত চালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ৩১ আগস্ট ভারতীয় চাল আমদানি বন্ধ করেছিল। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন জায়গায় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে বেড়ে গেছে চালের দাম। এছাড়াও খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও বাড়ছিল। এতে সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজারের ঊর্ধ্বগতি রুখতে খাদ্য মন্ত্রণালয় শর্ত সাপেক্ষে ৩০ জুন দেশের ৯৫ জন আমদানিকারককে ভারত থেকে ৪ লাখ ৯ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়।

আমিনুল হক আরও বলেন, আমদানির চালের মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টন সিদ্ধ চাল ও ৩০ হাজার টন আতপ চাল রয়েছে। ২১ জুলাইয়ের মধ্যে চালের এলসি খোলা সম্পন্ন ও ১১ আগস্টের মধ্যে আমদানির চাল দেশে বাজারজাত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

চাল খালাসে নিয়োজিত বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সেজুতি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি তুফান বলেন, চালের ট্রাক বেনাপোল বন্দরে ঢোকার আগে ভারতের বনগাঁ কালিতলা পার্কিংয়ে ২০ থেকে ২৫ দিন সিরিয়ালে আটকা ছিল। এখনো অনেক চালবোঝাই ট্রাক কালিতলা পার্কিংয়ে আটকা পড়ে আছে। পচনশীল ও জরুরি খাদ্য পণ্য হিসেবে এসব ট্রাক আগে প্রবেশের নির্দেশ থাকলেও ভারতীয় পার্কিং কর্তৃপক্ষ সিরিয়াল ছাড়া এসব ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। যদি চালের ট্রাক বন্দরে দ্রুত প্রবেশের অনুমতি দেয় তবে দেশের বাজারে দাম অনেকটা কমে আসবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা এনাম হোসেন বলেন, গত তিন দিনে ৭১২ টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানিকারকরা কাগজপত্র সংকটের কারণে এখনো চাল খালাস নিতে পারেনি। চাল বন্দর থেকে যাতে দ্রুত খালাস দেওয়া যায় কাস্টমস তার সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত বন্দর থেকে চাল ছাড় করাতে পারেন সে লক্ষ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভারত সীমান্তে যাতে বেশি দিন ট্রাক আটকে না থাকে তার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে গত ১৩ মে গম রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ভারত। প্রতি মেট্রিক টন গম ২৯ হাজার ৪০১ টাকা মূল্যে ১৭ জুলাই ১৪১০ মেট্রিক টন গমবাহী একটি কার্গোরেল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় সোমবার গম ছাড় করা হয় বন্দর থেকে। আমদানি শুরুতে রেলের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। কমতে শুরু করেছে স্থানীয় বাজার গমের মুল্য।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ গম উৎপাদন হয়। বাকি ৯৭ শতাংশ গম রাশিয়া, ইউক্রেন ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি হয়। চলতি বছরের ফেব্রুারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এ দুই দেশ থেকে স্বাভাবিক গম রফতানি বাধাগ্রস্থ হয়। এতে বিশ্বে গমের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত তাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত ১৩ মে থেকে দেশের বাইরে গম রফতানি বন্ধ করে দেয়।

তবে নিষেধাজ্ঞার আগে খোলা এলসির গম রফতানির সুযোগ থাকবে বলে জানায় ভারত। এতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল গম আমদানি। দেশের বাজারে রাতারাতি গমের দাম কেজি ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকায় দাঁড়ায়। তবে নানান জটিলতায় পুরনো এলসির গমও এতদিন আমদানি হয়নি। এখন জটিলতা নিরসনে আবারও ভারত থেকে শুরু হয় গম আমদানি।
বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, রোববার রাজশাহীর আমদানি কারক বিসমিল্লাহ ফ্লোয়ার মিলস ভারত থেকে একটি কার্গো রেলে ৬০টি কন্টেনারে ১৪১০ মেট্রিক টন গম আমদানি করে। গম আমদানিতে রেল খাতে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

আমদানিকারকের প্রতিনিধি রায়হান উদ্দীন জানান, প্রতি কেজি গমের আমদানি মূল্য পড়েছে ২৯.৪০ টাকা। আনুসাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে আমদানিকৃত এসব গম বাজারে ৩৯ টাকায় বিক্রি করা হবে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় বন্দর থেকে গম ছাড় করা হয়েছে।

শহরের লোনঅফিস পাড়ার ক্রেতা শামসুর রহমান জানান, চালের উর্ধ্বগতির সাথে ৪০ টাকা দামে গম কিনতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়। দাম কমলে সবার উপকার হয়। কেননা বাজার ব্যবস্থা অস্বাভাবিক। আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ছে প্রতিদিন।

স্থানীয় গম বিক্রেতা রহমান জানান, গম আমদানি বন্ধ থাকায় কেজিতে দাম বেড়েছিল ১২ টাকা। এখন আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। গমের সরবরাহ বাড়লে দাম আরো কমবে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-সহকারী সঙ্গ নিরোধ কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার জানান, পুরনো এলসির গম আমদানি শুরু হলেও বন্ধ রয়েছে নতুন করে গম আমদানির অনুমতি। আমদানিকৃত গম খাওয়ার উপযোগী কিনা সেটা পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্রাজিলের সব আক্রমণ গিয়ে প্রতিহত হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে। সত্যিই যেন এদিন...

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার...

যশোরে ৮ নারী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: শুক্রবার ছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪২ তম জন্মবার্ষিকী ও...

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করায় এক কলেজছাত্রী হারপিক পানে আত্মহত্যার...

যশোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাত, একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।...

ইসলামী ধারার তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে যশোরের গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের গ্রাহকরা ইসলামী ধারার তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। নানা অনিয়মের...