Thursday, July 7, 2022

বেনাপোল-যশোর-কালনাঘাট সড়ক হচ্ছে ছয় লেন

পদ্মা সেতু ছুঁয়ে স্বস্তিতে রাজধানী যাত্রা

  • ১১ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প
  • আপাতত ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ

আবদুল কাদের: পদ্মা সেতুর সুফল পেতে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে সড়ক অবকাঠামো। বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে নড়াইল-ভাঙ্গা ও কালনাঘাট পর্যন্ত গড়ে তোলা হবে নতুন ১৩০ কিলোমিটার ৬ লেন সড়ক। এজন্য নেয়া হয়েছে নতুন প্রকল্প। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি পাশ হলে নিয়োগ হবে প্রকল্প পরিচালক। আপাতত ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে।

আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু। ঢাকার সঙ্গে সহজ যাতায়াত প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাড়বে শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ। গতি পাবে নগরায়ণ। সেই সুবিধাভোগী হবে যশোর জেলার মানুষও। তবে পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও অপেক্ষা করতে হবে যশোরের বাসিন্দাদের। কেননা বেনাপোল বন্দর দিয়ে অনন্ত ২০ মেট্রিক টণ পণ্য নিয়ে ট্রাক চলাচল করে। প্রতিদিন ৩শ ট্রাক আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে এই বন্দর ছেড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। পদ্মা সেতু চালুর পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী গাড়িগুলো যশোর-নড়াইল মহাসড়ক ব্যবহার করবে। অথচ সড়কটির ওভারলোড ধারণ ক্ষমতা নেই। যেকারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে নড়াইল-ভাঙ্গা ও কালনাঘাট পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক সমীক্ষা শেষে একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ দৈনিক কল্যাণকে জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বেনাপোল হয়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বেশি ওজনের গাড়ি চলাচল বাড়বে। কিন্তু সড়কটি সেই ধারণ ক্ষমতা নেই। যেকারণে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আমরা একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এতে রয়েছে বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে নড়াইল, ভাঙ্গা-কালনাঘাট পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার ৬ লেন সড়ক নির্মাণ। সড়কে যেগুলো কালভার্ট-সেতু রয়েছে সেগুলো ভেঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র নকশায় নির্মাণ করা হবে। সরকার ভারতের ক্রেডিট ফান্ডের টাকায় সড়কটি নির্মাণ করতে ইচ্ছুক। যদি ভারত সরকার অর্থায়ন না করে তাহলে অন্য বিদেশি সংস্থা রয়েছে যারা অর্থায়ন করতে আগ্রহী। সড়কটি নির্মাণ শেষ হতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তখন যশোর জেলার মানুষ পূর্ণাঙ্গ সুবিধা ভোগ করবেন। আপাতত ৫০ কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ দিয়ে যশোর-নড়াইল সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে। বর্তমানে সড়কটি ১৮ ফিটের রয়েছে। সেটিকে ২৪ ফিটে করা হবে। চলতি বর্ষা মৌসুম শেষে সড়কটির কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে যশোরের বাস মালিকরা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে পদ্মা সেতু দিয়ে তারা গাড়ি ছাড়বেন কিনা। কেননা যশোর থেকে যেসব পরিবহন ছেড়ে যায় সেখানে মাগুরা জেলার যাত্রীরাও উঠেন। আবার সড়কটি ২৪ ঘণ্টা পরিবহন চলাচলের উপযোগী নয়।

যশোরের ঈগল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারী পবিত্র কাপুড়িয়া জানান, যশোর-নড়াইল সড়কে বেশি লোড ক্যাপাসিটি নেই, অপ্রশস্ত। যেকারণে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি পদ্মা সেতু চালু হলে কোথ পথ ব্যবহার করবো। আবার আমাদের পরিবহনগুলোর যাত্রী মাগুরা জেলার মানুষও। তাছাড়া নড়াইলের কালনা সেতুও এখনো চালু হয়নি। নতুন অবকাঠামো গড়ে না উঠলে যশোরের মানুষ পদ্মা সেতুর সুফল পাবেনা।

পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ পুরো বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এজন্য অবশ্যই নতুন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে পণ্যবাহী ট্রাক ও পরিবহন চলাচল করতে পারবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে সহজ যোগাযোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, পর্যটনসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। এ সেতু আমাদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। জেলাটিতে উৎপাদন হওয়া সবজি, মাছ ও ফুল সহজে পৌঁছেবে রাজধানী ঢাকাতে। দাম বেশি পাবেন চাষিরা।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুর রহিম জানান, যশোরের গদখালির ফুল বছরে আবাদ হয় ১২শ হেক্টর। ৪শ কোটি টাকার লেদলেন হয়ে থাকে এখানে। যশোর থেকে গাড়িতে ফুল পাঠালে ঘাটে বসে থাকতে হয় অনেকক্ষণ। এতে ফুলের সজীবতা থাকে না, যেকারণে দাম কম পেতাম। পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি গেলে সময় আড়াই ঘণ্টা বাঁচবে। তখন সহজেই আমাদের ফুল ঢাকার বাজারে যেতে পারবে। ফুল টাটকা থাকলে দামও বেশি মিলবে। এজন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য।

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিইবি) সাবেক সভাপতি এমআর খায়রুল উমাম বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে সুফল পেতে গেলে আমাদের কয়েক বছর সময় অপেক্ষা করতে হবে। কেননা যে সড়কটি ব্যবহার হবে সেটি হলো বেনাপোল হয়ে যশোর-নড়াইল সড়ক। সড়কটি অতিরিক্ত ধারণ ক্ষমতা নেই। এজন্য নতুনভাবে নির্মাণ করার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। যেটি শেষ হতে কমপক্ষে আড়াই থেকে ৩ বছর সময় লাগবে। তখন র্পণাঙ্গ সুবিধা পাবে জেলাটির মানুষ। যশোর থেকে ঢাকায় বাসে প্রায় একশ কিলোমিটার ও ট্রেনে ৩শ কিলোমিটার রাস্তা কম হবে। এতে সহজেই যশোরের সবজি, ফুলসহ অন্যান্য পণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছাবে। এছাড়া যশোর-নড়াইল অঞ্চলে গড়ে উঠবে শিল্পাঞ্চল। তখন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গতি পাবে জেলাটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে যশোরে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। এজন্য সরকার যশোর-নড়াইল সড়ক নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেটি সমপন্ন হলে আমাদের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে যাবে।

এব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, জেলাটি যাতে পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করতে পারে তার সবকিছু করা হবে। ইতিমধ্যে সড়ক অবকাঠামো উন্নত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ৬ লেন মহাসড়কটি বাস্তবায়িত হলে স্বস্তিতে যাতায়াতের সুবিধা মিলবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ঈদের আগে আনন্দধারায় শিক্ষক-কর্মচারীরা

এমপিওভুক্ত যশোরের ৬০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রতিবেদক :  সরকার ২ হাজার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত ঘোষণা...

নতুন রোটারী বর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রোটারী ডিস্ট্রিক-৩২৮১-এর রোটারী বর্ষের সূচনা উপলক্ষে বুধবার বিকেলে যশোর শহরের বর্ণাঢ্য র‌্যালি...

যশোর বাস মালিক সমিতির নির্বাচন : মনোনয়নপত্র কিনেই ভোটযুদ্ধে প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মনোনয়নপত্র কিনেই ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন যশোর বাস মালিক সমিতির নির্বাচনের প্রার্থীরা। শুরু...

যশোরে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ১৫ জন আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলার চার এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় আলাদা চারটি মামলা করা...

সহসা কমছে না লোডশেডিং

ঢাকা অফিস গ্যাস সংকট চলছে তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘœ ঘটাছে। দেশজুড়ে চলছে লোডশেডিং চলছে। কবে...

অপতৎপরতা রুখতে একসাথে কাজ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী স্বপন

মণিরামপুর প্রতিনিধি :  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা...