Saturday, July 2, 2022

বেনাপোল-যশোর-নড়াইল সড়কের দুই ধারের জমির বিক্রেতা নেই!

সুনীল ঘোষ: পদ্মা সেতুকে ঘিরে কদর বেড়েছে যশোর-বেনাপোল-নড়াইল সড়কের দুই ধারের জমির। সেতু উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর কার্যত জমি কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ সড়কের ধারে এক খণ্ড জমি কিনতে অনেকেই চেষ্টা করছেন। তবে এ মুহূর্তে জমি বিক্রিতে নারাজ মালিকরা। তারা দামের আশায় রয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুয়ার খুলবে ২৫ জুন। সেতু চালুর পর এ অঞ্চলের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন জমি মালিকরা। তাই যশোর-বেনাপোল-নড়াইল সড়কের দুই ধারের জমির মালিকরা আপাতত বিক্রি করছেন না।

পুলেরহাটের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন জানান, সড়কের ধারে জমির কেনাবেচা প্রায় আগেই হয়ে গেছে। এখন ৮-১০ গুণ বেশি টাকার প্রস্তাব করেও মিলছে না এক খণ্ড জমি।

তিনি বলেন, বছরখানেক আগেও যশোর-বেনাপোল সড়কের ধারে এক শতক জমি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। এখন ২০-২৫ লাখেও জমি বিক্রি করতে চাচ্ছেন না মালিকরা। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার কারণে জমি মালিকরা এমনটি করছেন।

জমি কেনাবেচার সাথে জড়িত (মধ্যসত্ত্বভোগী) কিনু মিয়া জানান, যশোর-বেনাপোল ও যশোর-নড়াইল সড়কের ধারে জমি বিক্রির কেউ নেই। কেনাবেচা যা হওয়ার দরকার, তা হয়ে গেছে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর পরই। গত বছরও তফসিডাঙ্গা, কৃষ্ণবাটি ও লাউজানীসহ ঝিকরগাছা শহর পর্যন্ত সড়কের ধারে এক শতক জমি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বেচাবিক্রি হয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা আসার পর কেউ-ই জমি বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।

আকাশ নামে এক চা বিক্রেতা বলেন, গত বছর সড়কের ধারে এক খণ্ড জমির জন্য হন্নে হয়ে ছুটেছি। ভেবেছিলাম বাড়ির সাথে একটা দোকান দেবো। কিন্তু তখন জমি পেলেও টাকায় কুলায়নি। নিরুপায় হয়ে মালঞ্চি গ্রামে একখ- জমি কিনেছি। কিন্তু এখনও বাড়ি বানাতে পারিনি। তাছাড়া সেখানে ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না।

যশোর-নড়াইল সড়কের ধারে মিলছে না জমি। ক্রেতার অভাব নেই। কিন্তু খোঁজ মিলছে না বিক্রেতার। এরই মধ্যে একদম সড়কের ধারে এক শতক জমির দাম উঠেছে ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

বিসিক নগরী ঝুমঝুমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস শহীদ জানান, বহু ছুটোছুটি করে সড়কের ধারে এক খন্ড জমি কিনতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত হামিদপুর গ্রামের ভেতরে মেঠো রাস্তার ধারে ৪ শতক জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছি। গত বছর কিনেছিলাম ৩ লাখ টাকা শতক, এখন ৫ লাখেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাও প্রধান সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভিতরে।

বিসিক এলাকার বাসিন্দা গৌতম সাহা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক প্রশস্ত হবে। যাতায়াতের সহজ লভ্যতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তনের চিত্র দেখতে পারছেন মানুষ। যেকারণে সড়কের ধারে জমি মালিকরা বেচাবিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এখন বেশি টাকা দিয়েও জমি কেনা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, পরিবহন মালিকরা কাউন্টার স্থাপনে অনেক আগেই সড়কের ধারে জমি কিনে রেখেছেন। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আশায় জমি কিনেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কেন বিয়ে করেননি, জানালেন সুস্মিতা

বিনোদন ডেস্ক: কেন বিয়ে করেননি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন; এমন প্রশ্ন...

করোনায় নতুন শনাক্ত ১৮৯৭, মৃত্যু ৫ জনের

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল...

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে যে ভূমিকা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়

কল্যাণ ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে...

যশোরের কেশবপুরে নরসুন্দর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কেশবপুর প্রতিনিধি : জেলার কেশবপুর উপজেলায় নরসুন্দর এক যুবকের গলা ও পেট কেটে হত্যা করেছে...

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...