শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

ভবদহে আমন ফসল অনিশ্চিত

সুন্দলী প্রতিনিধি

একসময় চিনের দুঃখ বলা হত হোয়াংহো নদীকে। তেমনিভাবে আজ ভবদহকে বলা হয় যশোরের দুঃখ। কেননা যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলায় এবারও সাত হাজার হেক্টর জমি এখনো আমন চাষের অনুপযোগী। এরমধ্যে মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া, হরিদাসকাঠী, দুর্বাডাঙা ও মনোহরপুর ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার হেক্টর, অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী, পায়রা, প্রেমবাগ, চলিশিয়া ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌরসভার একাংশে প্রায় চার হাজার হেক্টর ও কেশবপুরের পাঁজিয়া ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে এবার আমন ধানচাষের সম্ভাবনা নেই। ফলে হতাশায় দিন কাটছে কৃষকের।

গত দুবছরের ন্যায় এখনও তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই ব্যাপক এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশংকায় রয়েছেন কৃষকরা। সেক্ষেত্রে গতবারের ন্যায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টরে আমন ফসল হবে না বলে শংকা প্রকাশ করেছেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা।

যশোর জেলার অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, সদরের একাংশ ও খুলনা জেলার ডুমরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে গঠিত ভবদহ অঞ্চল। ভবদহের স্লুইসগেট দিয়ে ব্যাপক এলাকার বিলের পানি বের হয়। ষাটের দশকে অভয়নগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে হরি নদীর উপর এ স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়েছিল। কৃষি আর কৃষক বাঁচাতে ওই সময় জোয়ারের নোনা পানি যাতে ভবদহ অঞ্চলের বিলগুলোতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য নির্মিত হয় স্লুইসগেট।

আর ২৭টি বিলের পানি নিষ্কাশন প্রয়োজন হলে তখন পানি বের করে দেয়া হত এ স্লুইস গেট ব্যবহার করে। টিআরএম চালু না থাকায়, নদীতে পলি পড়ে সময়ের ব্যবধানে সেই ভবদহের ২৭টি বিল পরিণত হয়েছে জলাবদ্ধতায়। কৃষিতে নামছে বিপর্যয়। দীর্ঘ ৯ বছর বিলে জোয়ারাধার (টিআরএম) বন্ধ থাকায় নদীতে জমছে পলি।

যার প্রভাব আজ হাজার হাজার কৃষকের উপর পড়েছে। সম্প্রতি ভবদহ অঞ্চল ঘুরে দেখা যায় নদীতে জোয়ার-ভাটা নেই।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের প্রায় ১২ লাখ লোক পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্যদিন বিলগুলো পানির নিচে থাকায় চরম বিপদে এ অঞ্চলের কৃষক।
মণিরামপুর উপজেলার বিল বোকড় এখনো পুরোটাই পানিতে পরিপূর্ণ। অভয়নগরের কেদারিয়া, গান্ধিমারি বিল, বিল ঝিকড়া এখনো কুলে কুলে পানি। বিলগুলোর কোথাওবা তিন ফুট আবার কোথাও ৭ ফুট পর্যন্ত পানি। মণিরামপুরের পাঁজিয়া, শুবলকাঠি ও হরিদাসকাঠি ইউনিয়নে বেশি পরিমাণে আমন চাষ হয়ে থাকে কিন্তু সেখানেও এবার নামমাত্র ধানের চাষ হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে এই বিলগুলিতে কোনো প্রকার ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, সরকার দলীয় নেতারাই আমাদের এ সমস্যার কারণ। ভবদহের সমস্যা সমাধানে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয় তার কোন সঠিক কাজ হয় না। নদী কেটে খাল তৈরি করে। ভবদহে পুনরায় টিআরএম চালু না করতে পারলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। অচিরেই আমাদের বসতবাড়ি ত্যাগ করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্রাজিলের সব আক্রমণ গিয়ে প্রতিহত হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে। সত্যিই যেন এদিন...

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার...

যশোরে ৮ নারী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: শুক্রবার ছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪২ তম জন্মবার্ষিকী ও...

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করায় এক কলেজছাত্রী হারপিক পানে আত্মহত্যার...

যশোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাত, একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।...

ইসলামী ধারার তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে যশোরের গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের গ্রাহকরা ইসলামী ধারার তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। নানা অনিয়মের...