Tuesday, August 9, 2022

ভবদহ সমস্যা প্রতিশ্রুতির বড় বলফিল্ডে পরিণত

জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে আমডাঙ্গা খাল পুনঃখনন ও বিল কপালিযায় টিআরএম চালুর দাবিতে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কামিটির উদ্যোগে ৩০ জুলাই এলাকার হাজার হাজার মানুষ আমডাঙ্গামুখী পদযাত্রায় অংশ নেন। ওই পদযাত্রায় উল্লেখ করা হয়, বাস্তবতা এড়িয়ে সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। কিন্তু তাতে টাকার হরিলুট হওয়া ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৫ বার স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

৪০ বছর আগে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছিল শৈশব, কৈশোর, যৌবন, তারুণ্য সব পেরিয়ে আজ জীবনের সাজবেলার দিকে সেই শিশুটির গতি। ভবদহ এলাকার মানুষ ৪০ বছর ধরে একটি কষ্টের জালে আটকে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে যার জন্ম তার জীবনের পুরোটাই এই কষ্টের জালে আষ্টেপিষ্টে জড়িত। আর তাই দুঃখের সারি, বেদনার আহাজারী সব সময় অনুরণিত হচ্ছে ভবদহের পানি দুর্যোগ কবলিত লাখো মানুষের কণ্ঠে। সুদীর্ঘকালের টিআরএম’র (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) দাবি বাতিল হওয়ায় বিদ্রোহের বহ্নিশিখা দাও দাও করে জ্বলে ওঠে। যা আজো থামেনি। ধিকিধিকি জ্বলছে। ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটি ও কেন্দ্রীয় পানি কমিটি আন্দোলন করেই যাচ্ছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি কতবার যে এই কথাটি বলে আসছে তার হিসেব দেয়া মুশকিল। ধন্যবাদ জানাতে হয় সংগ্রাম কমিটিকে। এত বলাবলির পরও তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আমরা মনে করি ক্লান্তির চেয়ে জনস্বার্থ তাদের কাছে বড়। আর তাই তারা আবারো ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে টিআরএম চালুর দাবি করা হয়েছে।

ভবদহ সমস্যার কারণে এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এককালের সম্পদশালীরা এখন পথের মানুষে পরিণত হয়েছে। দরিদ্ররা পরিণত হয়েছে ছিন্নমূলে। এলাকাবাসী ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটিসহ বিভিন্ন উপায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। এ জন্য জীবনও গেছে এলাকার একাধিক মানুষের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমানুষের এই প্রাণের দাবিটির প্রতি কোনো সরকারেরই কানে পানি ঢোকানো যায়নি। কাজের মধ্যে একটা বড় কাজ হয়েছে, ভবদহ স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বড় বলফিল্ডে পরিণত হয়েছে। এই অর্ধ শতাব্দিকালে যত নির্বাচন এসেছে ততটাতেই প্রার্থীদের কাছ থেকে ভবদহ সমস্যা সমাধানের গালভরা আশ্বাস পাওয়া গেছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার একটি বড় মাধ্যম হয়েছে এই ভবদহ সমস্যা।

টিআরএম প্রকল্প স্থানীয় অভিজ্ঞতার আলোকে সমৃদ্ধ মানুষের পক্ষের প্রস্তাবনা। অভিশপ্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে যখন কোনো টেকসই উপায় পাওয়া যাচ্ছিল না তখন টিআরএম পদ্ধতি এলাকার কয়েকটি বিলে কার্যকর করে তার সুফল পাওয়া যায়। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে গত ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের উপস্থিতিতে জাতীয় কর্মশালায় বিলকপালিয়ায় টিআরএম ও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিলে টিআরএম চালুর প্রকল্প গৃহীত হয়। কিন্তু টিআরএম প্রকল্পের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিয়ে থোক বরাদ্দে পাইলট চ্যানেল করে পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং অর্থ লোপাটের ও নদী মারার একটা রাস্তা করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

জীবন জীবিকায় জ্বালানির জ্বালা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছে ট্রাক মালিকরা। বাস মালিকরা বাড়িয়েছেন যাতায়াত ভাড়া। সবজি...

পবিত্র আশুরা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের...

পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা। বিভিন্ন দিক দিয়ে এ দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানবজাতির আদি পিতা হজরত...

যশোরে স্বজন সংঘের নতুন কমিটি গঠন

স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা স্বজন সংঘের দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।...

বাফওয়া যশোরের উদ্যোগে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) মতিউর আঞ্চলিক শাখা যশোরের উদ্যোগে সোমবার বঙ্গমাতা...

স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গমাতা ছিলেন সহায়ক : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালীন প্যারোলে...