Wednesday, July 6, 2022

ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রধান রুট যশোর!

তিন বছরে জব্দ একশ কেজি
প্রাইভেটকার থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ

আবদুল কাদের: যশোরে আবারও ১৩ কোটি টাকা মূল্যের আরও একটি বড় স্বর্ণের চালান জব্দ করেছে বিজিবি। বুধবার ভোরে যশোর-মাগুরা সড়কের বাহাদুরপুর এলাকায় তিনটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি ৮শ’ গ্রাম ওজনের এই ১৩৫টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ২০ মে বিজিবি যশোরের চৌগাছা সীমান্ত থেকে ১৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১২৪টি স্বর্ণের বারসহ শাহআলম নামে একজনকে আটক করেছিল। উদ্ধারকৃত ওই সোনার দাম ছিল ১০ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়াও শুধুমাত্র যশোর বিজির হাতে গত ৫ মাসে ৩০ কেজি সোনা জব্দ হয়েছে। আর গত তিন বছরে একশ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে বিজিবি। এরমধ্যে বড় চালান হচ্ছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৮ কোটি টাকা মূল্যের ১০৪টি স্বর্ণের বার জব্দ। এ গেল জব্দ করার পরিমাণ। এই বাইরে পুলিশ-বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে এর কয়েকগুন স্বর্ণ ভারতে এসময়ের মধ্যে পাচার হয়েছে। যশোর জেলাটি সোনা চোরাচলানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এখান থেকে প্রতিনিয়িত পাচার হচ্ছে সোনা। সোনা চোরাচালান ঠেকাতে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায় না। যেটুকু উদ্ধার হয় তা বিজিবি সদস্যরা করে থাকেন। তবে বৈধ সোনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিজিবি বা কাস্টমের হাতে যে সোনা উদ্ধার হয় তার ২০ গুণ সোনা পাচার হয়ে থাকে।

যশোর-মাগুরা সড়কের বাহাদুরপুর এলাকায় তিনটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি ৮শ’ গ্রাম ওজনের এই ১৩৫টি স্বর্ণের বার জব্দ করার সময় আটককৃতরা হলেন, বেনাপোলে দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩০), পুটখালী গ্রামের আতিয়ারর রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন (২৫), চাঁদপুর জেলার ঘাগড়া গ্রামের আরিফ মিয়াজী (৩৬), কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার নৈয়ার গ্রামের সিরাজুল ব্যাপারির ছেলে শাহজালাল (৩২), মাদারীপুর জেলার বলশা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আবু হায়াত জনি (২৮) ও নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার অতিউল্লাহ বেপারীর ছেলে রবিউল ইসলাম রাব্বি (২৯)। স্বর্ণেরবারগুলো বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

এদিকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি যশোরের শার্শা, শ্যামলা গাজী এলাকা থেকে এক কেজি ১৬৫ গ্রাম ওজনের ১০ টি স্বর্ণের বারসহ ইসমাইল হোসেন (৩৮) নামে একজনকে আটক করেন ৪৯ বিজিবি সদস্যরা। তিনি শার্শার নামাজগ্রামের বাসিন্দা।

তবে সোনা বহনকারীরা আটক হলেও চোরাচালানে মূল হোতারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তারা টাকার বিনিময়ে লোক দিয়ে পাচার করেন। শার্শার শিকারপুর, ভবেরবেড়, দৌলতপুর বেশিরভাগ মানুষ সোনা চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া মনোহরপুর, ছুটিপুর, কাশিপুর, শালকোণা, পাকশিয়া এলাকা দিয়েও পাচার হচ্ছে সোনা।
বাংলাদেশ জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতি যশোরের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয় জানান, সোনা চোলানের সাথে জড়িত মূল হোতারা আটক হয় না। তারা টাকার বিনিময়ে লোক দিয়ে এ কাজ করে থাকে। বিজিবির কাছে যে পরিমাণ সোনা আটক হয়, তার চেয়ে বেশি সোনা পাচার হয়ে থাকে। এদের কারণে আমাদের সমিতির সদস্যদের বদনাম হয়। আবার ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে সোনার বার উৎপাদন হবে। তখন মেডইন বাংলাদেশ লেখা থাকবে বারের গাঁয়ে।
যশোর বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে তারা একশ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে। যার মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। গেল ২০২১ সালে উদ্ধার হয়েছে ১২ কেজির বেশি সোনা।
যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক, শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী জানান, সোনা চোরাচালানসহ বিভিন্ন চোরাচালান রোধে আমাদের বিজিবি সদস্য কাজ করছেন। বিশেষ করে সোনা চোরাচালানের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে আমাদের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। সোনা চোরাচালানে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না।
বেনাপোল কাস্টমের যুগ্ম কমিশনার আবদুর রশিদ মিয়া জানান, চেকপোস্ট দিয়ে বৈধভাবে তেমন সোনা চোরাচালান হয়না। কিছু সোনা উদ্ধার হয়েছে। আমাদের সদস্যরা সোনা চোরাচালানরোধে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাংগীর আলম জানান, সোনা মূলত সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হয়ে থাকে। যেকারণে বিজিবির কাছে বেশি ধরা পড়ে। সোনা পাচারকারীদের আটকে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এদিকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্ণেল শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার যশোর ৪৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জানতে পারে- ঢাকা থেকে তিনটি প্রাইভেটকারে যশোরের বেনাপোল দিয়ে স্বর্ণ পাচার হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির সদস্যরা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ একটি চৌকস দল শহরের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফাঁদ পাতে। ভোর ৪ টার দিকে পরপর মেরুন রংয়ের ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-৩৩৮৭ এবং সাদা রঙের ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-৩৫-৭৫ ও ঢাকা মেট্রো-ম-০০-৭০২৫ তিনটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে। এসময় গোপন বক্স বসিয়ে অভিনব কায়দায় রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয় প্রাইভেটকার থেকে। যার বাজার মূল্যে ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এসময় ৬জনকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, স্বর্ণের বারগুলো ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোর সীমান্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এটি পার করে ইউএস ডলার নিয়ে ঢাকায় ফেরত যাওয়ার কথা ছিল তাদের। এই অঞ্চল দিয়ে পাচারকালে উদ্ধারকৃত এটিই বড় সোনার চালান বলে দাবি করেছেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

পিঠে ছুরিবিদ্ধ খোকন নিজেই গাড়ি ভাড়া করে আসেন যশোর হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিঠে বিদ্ধ হওয়া ছুরি নিয়ে নিজেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন...

নায়কদের নামে কোরবানির গরু, আপত্তি জানালেন ওমর সানি

কল্যাণ ডেস্ক : আগামী ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায় এই ঈদে পশু কোরবানির...

এশিয়ার বাইরের উইকেটের যে কারণে অসহায় মোস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক : মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দেখে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকে তাকে বলতেন, 'জোর বল করা...

নতুন ২৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত

কল্যাণ ডেস্ক : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের আওতায় আরও ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার...

নওয়াপাড়া বন্দরে অবৈধ তালিকায় ৬০ ঘাট

অবৈধভাবে গড়ে উঠা ঘাটের কারণে কমছে নদীর নাব্যতা ৫ বছরে অর্ধশত জাহাজ ডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত...

মণিরামপুরে জমজমাট কোরবানির পশু হাট

আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর : দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম হাট মণিরামপুরের গরু-ছাগলের হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে...