শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

ভৈরব দূষণ রোধে কঠোর হতে হবে

ভৈরব নদ দূষণের প্রতিযোগিতা চলছে। নদের বাবলাতলা থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত দুই ধারের ১০৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত দূষণ করে চলেছে। বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও হাসপাতালের সোয়ারেজ লাইন নামিয়ে দেয়া হয়েছে নদে। অনেক স্থানে নদে সংযোগ দেয়া হয়েছে পৌরসভার ড্রেনের লাইন। ফলে শহরের বর্জ্য পড়ছে নদে। এভাবে নদ দূষণকারীদের একটি তালিকা করেছে প্রশাসন। সেই তালিকা ১৭ জুলাই জেলার মাসিক উন্নয়ন সভায় উপস্থান করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভৈরব নদ দখল ও দূষণ চলছে দীর্ঘকাল ধরেই। এ নিয়ে বহু আন্দোলন করেছেন যশোরবাসী। এর ফলে নদের পশ্চিম তীরের ৮৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল গত তিন বছর আগে। কিন্তু পূর্ব প্রান্তের দেড় শতাধিক অবৈধ দখলদার এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর পূর্ব-পশ্চিম উভয় প্রান্তে নদ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। তবে এবার ১০৬টি প্রতিষ্ঠানকে দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদফতর।

এরমধ্যে পৌরসভার ড্রেনও রয়েছে। এদের কারণে নদের পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ভৈরব নদ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। ভৈরবের মতো এভাবে দূষণ হচ্ছে। কিন্তু প্রতিকার নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত বায়ু পরিশোধন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সুইস সংস্থা আইকিউ এয়ারের রিপোর্টে দূষিতের তালিকায় প্রথমেই নাম এসেছে বাংলাদেশের।

আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে বিশ্বের ১১৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত ছিল বাংলাদেশের। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর গড় পরিমাণ ৭৬ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম, সমীক্ষার আওতাধীন ১১৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এই হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বে বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে দূষিত।

দেশে দূষণের কারণে বছরে ২ লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিষন্নতায় আক্রান্ত হচ্ছে ৭০ ভাগ মানুষ। দেশে দূষণ দু-একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ প্রভৃতি দূষণে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষের জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। দূষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়তো সম্ভব হবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত অনেক দেশেও দূষণ হয়। তবে সেসব দেশ দূষণকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কেন সেটা একটা প্রশ্ন। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, আইন না মানা, অসচেতনতা প্রভৃতি কারণে দূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। দূষণ বিরোধী অভিযানে সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তা না হলে টেকসইভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বায়ু, পানি. মাটি, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকেও চরম মূল্য দিতে হবে। শুধু তালিকা করেই দায়িত্ব শেষ করলে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যে কারণে ছিটকে গেল ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক : কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ছিল ব্রাজিল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে বিবশ করা খেলা...

ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্রাজিলের সব আক্রমণ গিয়ে প্রতিহত হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে। সত্যিই যেন এদিন...

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার...

যশোরে ৮ নারী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: শুক্রবার ছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪২ তম জন্মবার্ষিকী ও...

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করায় এক কলেজছাত্রী হারপিক পানে আত্মহত্যার...

যশোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাত, একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।...