Saturday, July 2, 2022

ভোরের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড যশোরাঞ্চল

উপড়ে পড়েছে গাছপালা ভেঙে গেছে বাড়িঘর-বিদ্যুতের খুঁটি

অশনির আঘাত না কাটতেই কৃষকের ঘরে কালো থাবা

শাহারুল ইসলাম ফারদিন: যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হেনেছে। শনিবার সকাল ৬ টার দিকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে গাছপালা ও বাড়িঘর। উড়ে গেছে বসতঘরের টিন। ভেঙে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি। দুধারের গাছপালা ভেঙে রাস্তা ও রেললাইনের পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন ও রেল চলাচল। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় বৃষ্টি। সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।

ভোরে হঠাৎ ঝড়ের তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যায় অনেকের। শুধু যশোর শহর নয়, শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝড় ও বৃষ্টি হয়েছে। অশনির আঘাতের ক্ষতির মধ্যে কালবৈশাখীর আঘাতে হা-হুতাশা বেড়েছে।
যশোর বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬ টা ৫ মিনিট থেকে ঝড় শুরু হয়। এ ঝড় স্থায়ী ছিল প্রায় ১৫ মিনিট। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩২ নটিক্যাল মাইল। এদিন বজ্রপাতসহ ১০ মিলিমিটারের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, যশোর পৌরসভাসহ সদরের খাজুরা, বারীনগর, লাউখালি, চুড়ামনকাটি, হাশিমপুর, নুরপুর, ডাকাতিয়া, হৈবতপুরসহ ২০টি গ্রাম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো স্থায়ী হওয়া এই ঝড়ে বাড়িঘর, আম, কলা, লিচুসহ বিভিন্ন গাছ ভেঙে গেছে। ভেঙ্গে গেছে বিদ্যুতের পোল। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে কোন কোন এলাকা।

সকাল ৬টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের উপর গাছ উপড়ে পড়ে। এতে এ রুটে যানবাহান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন রাস্তার উপর পড়ে থাকা গাছ অপসারণ করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, যশোর-মাগুরা মহাসড়কে ফলদ ও অন্যান্য গাছ ভেঙে পড়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীরা নিজ উদ্যোগে গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দশমিনিট স্থায়ী এ ঝড়ে প্রচুর পরিমাণ গাছপালা ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে ও ভেঙ্গে গেছে। ছিড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার আবু বকর শিবলী বলেন, ঝড়ে ৩০টি বিদ্যুতের পোল ভেঙেছে। আটটি ট্্রান্সফর্মা বিকল ও ১২৬টি মিটার ভেঙ্গেছে। এছাড়া ১৩৪ কেভি লাইনের উপর গাছ পড়ে তার ছিড়ে গেছে। আমাদের সব স্থানেই মেরামতের কাজ চলছে। লাইন মেরামতের চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

এদিকে, আম গাছের ডাল ভেঙ্গে কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন আম বাগানের মালিক ও বাগান লিজ নেওয়া ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন আকস্মিক এই ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে আমসহ অন্যান্য গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সদরের মিরা লাউখালির গ্রামের রহমান খাঁ ও ইজহার মোল্ল্যা জানান, ঝড়ে তাদের ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ঘুমানোর মতো কোনো স্থান নেই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া উপায় নেই। চুড়ামনকাঠি গ্রামের রাকিবুল হাসান বলেন, ১০ মিনিটের ঝড়ে সব শেষ করে দিয়ে গেছে। গাছ-পালা ভেঙে গেছে। কারেন্টের পোল ভেঙে গেছে। রাস্তা বন্ধ ছিল। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

ডাকাতিয়া গ্রামের রশীদ আহমেদ বলেন, সকালে হঠাৎ করে খুব ঝড় শুরু হয়। এর আগে আম্পানের সময় যে ঝড় হয়েছিল, সেই রকমই ঝড় হয়েছে। আমাদের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। আম বাগান, লিচু বাগান ও কলা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভাগলপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মকছেদ আলী জানান, আমাদের গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। গাছপালাসহ বাড়ি ঘর ও বিদ্যুৎতের খুটি উপড়ে পড়েছে। শাক-সবজি ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
একই গ্রামের ইউনুচ আলী জানান, জীবনে এমন গতির ঝড় দেখিনি। চোখের সামনে বড় বড় গাছপালা ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে ঝড়ে।

হৈবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বলেন, আমার ইউনিয়নের ১০/১৩ টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়েছে ঝড়ে। তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন অসহায় কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। তিনি আরও বলেন, যেভাবে বৈদ্যুতিক তার ও পোল উপড়ে গেছে তাতে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাবে এখনকার লোক তা এখনো বলা মুসকিল।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক দীপাঙ্কর দাস বলেন, ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনোরঞ্জন সরকার জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের দুপাশে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপ দাশ বলেন, শনিবারের হঠাৎ ঝড়ে উপজেলার বেশ কিছু জায়গায় ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে আছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কেন বিয়ে করেননি, জানালেন সুস্মিতা

বিনোদন ডেস্ক: কেন বিয়ে করেননি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন; এমন প্রশ্ন...

করোনায় নতুন শনাক্ত ১৮৯৭, মৃত্যু ৫ জনের

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল...

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে যে ভূমিকা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়

কল্যাণ ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে...

যশোরের কেশবপুরে নরসুন্দর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কেশবপুর প্রতিনিধি : জেলার কেশবপুর উপজেলায় নরসুন্দর এক যুবকের গলা ও পেট কেটে হত্যা করেছে...

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...