শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

মণিরামপুরে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম

আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর
শীতের অন্যতম একটি সুস্বাদু ও পরিচিত খাবার কুমড়া বড়ি। যেটা ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাষায়, শীতে কোন তরকারি মজেই না। তরকারীর সাথে বড়ি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন বহু বছরের। শীতের মৌসুম এলেই কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম পড়ে মণিরামপুরে। গ্রামে অনেকেই নিজেদের খাওয়ার জন্য ছাড়াও জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়ে সংসার চালান। আবার এমন কিছু পরিবার রয়েছে, যারা বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়া বড়ি তৈরি করে থাকেন। মণিরামপুর পৌরসভার হাকোবা গ্রামটি কুমড়া বড়ি গ্রাম হিসেবে খ্যাত। বিশেষ করে হাকোবা গ্রামের কুন্ডু পাড়ার নারী-পুরুষ শীত এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন বড়ি তৈরিতে। কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস অবধী চলে কুমড়া বড়ি তৈরি কাজ।

সরেজমিনে দেখা মেলে নারী-পুরুষের বড়ি তৈরির ব্যস্ত সময় পার করার দৃশ্য। ভোর বেলায় বাড়ি থেকে কুমড়া বড়ি তৈরির সকল উপাদান গুছিয়ে এসে মাঠের ধারে রাস্তায় মিষ্টি রোদে বসে বড়ি তৈরির কাজ করছেন তারা। কথা হয় রবিণ কুন্ডু ও মিনতী কুন্ডু সঙ্গে। দু’জনে বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত।

তারা জানান, ৪০ বছর ধরে কুমড়ার বড়ি তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন হাকোবা গ্রামের রবিণ কুন্ডু। এটি তাদের পুরানো পেশা। শীতের মৌসুম জুড়ে বড়ি তৈরি করেন। বাকি মাসগুলোতে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালান। এভাবে চলে সংসার।

মিনতী কুন্ডু বলেন, ৩০ বছর ধরে বড়ি তৈরির কাজের সাথে আছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভোর থেকে বেলা ৯টা পর্যন্ত বড়ি তৈরির কাজ করি। এ বছর ডালের দাম বেশি। প্রতি কেজি কুমড়ার বড়ি খুচরা দাম ২২০ টাকা।

একই মাঠে বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সাধন কুন্ডুও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ব্যবসার ফাঁকে এই কাজ করে বাড়তি আয় করেন তিনি। সকাল হলেই স্ত্রীর সঙ্গে হাজির হন বাড়ির পাশের মাঠে। প্রতিদিন ১০-১২ কেজি করে বড়ি বসান।

এক সময় পাড়ার প্রায় সব পরিবার বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করতেন। এখন অনেকে এই কাজ বাদ দিয়েছে। আগে ঢেঁকিতে ডাল কুটে বড়ি তৈরি করতে হতো। এখন ডাল কুটার মেশিন বের হওয়ায় অনেকে বাড়িতে বসে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মতো বড়ি তৈরি করেন। ফলে বাজারের বড়ির চাহিদা কমেছে। আগে ব্যাপারিরা এসে বড়ি কিনে নিয়ে যেত। এখন ব্যাপারিরা আর আসে না। খুচরা হিসেবে বাজারে বিক্রি করতে হয়।

পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে হাকোবা কুন্ডু পাড়ার প্রায় ২০ ঘর পরিবার এখনো বড়ি তৈরির কাজ করে চলেছেন।

কলাইয়ের ডাল সারারাত ভিজিয়ে রাখা হয়। সকালে চালকুমড়া মিহি করে গ্রেট করে ভালো করে ধুয়ে কস বের করে নিতে হয়। ভেজানো ডাল পরিষ্কার করে ধুয়ে এরপর ডাল পাটায় বেটে নেয়া হয়। বড় পাত্রে বাটা ডাল ও চালকুমড়া অল্প অল্প করে ভালোভাবে মিশিয়ে মেখে নিতে হয়। পরিষ্কার পাতলা কাপড় পেতে ছোট ছোট করে বড়ি দেয়া হয়। দু’দিন ভালোভাবে রোদ লাগলেই শুকিয়ে হয়ে যায় খাবার উপযোগী বড়ি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

প্রকাশ্যে শাকিব-বুবলীর সন্তান বীর

কল্যাণ ডেস্ক : ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান ও শবনম বুবলীর ঘরে আড়াই বছরের...

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৪ ধাপ এগোল বাংলাদেশ

কল্যাণ ডেস্ক : বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৪ ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত...

চলিশিয়ার ৬২ হতদরিদ্রের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চলিশিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা থেকে...

কাল থেকে দুর্গোৎসব, প্রস্তুতি সম্পন্ন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা শুরু হচ্ছে আগামীকাল থেকে।...

গরুর এলএসডি রোগ নিয়ে আতঙ্কে যশোরের খামারিরা

এ্যান্টনি অপু : বর্তমান সময়ে গরুর জন্য ভয়ংকর একটি রোগের নাম এলএসডি বা ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ।...

কেশবপুরের আলোচিত মডার্ণ হাসপাতালে চলতি বছরে পাঁচ প্রসূতির মৃত্যু

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর : যশোরের কেশবপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল। সাধারণ জনগণের সেবার...