বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২

মশা নিধনে উদাসীন যশোর পৌরসভা

চোরাইপথে বিষ বিক্রির অভিযোগ
স্প্রেতে মরে না : পৌর সচিব

সুনীল ঘোষ: মশার বিষে দিশেহারা যশোর পৌরবাসী। পৌর কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে কার্যকর ভূমিকা না রাখায় শেষ ভরসা ছিল বাজারের কয়েল। কিন্তু তাতে মরছে না মশা। নামি-দামি ব্রান্ডের কয়েল জ¦ালিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না মশার উপদ্রব্য। এখন দিনেও রক্ত চুষছে মশা। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন অকপটে স্বীকার করলেন আমরা যে বিষ স্প্রে করি তাতে মশা মরে না। এরমধ্যে মশক নিধনের পরিকল্পনাও নেই- যোগ করেন আজমল।

শীত মৌসুমের পর থেকেই মশার উৎপাত বাড়তে থাকে। এখন তা চরমে উঠেছে। দিনের বেলায়ও অফিস কিংবা বাসা বাড়িতে কয়েল জ¦ালিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ঘরে ঢুকে পড়ছে মশা।

মুজিব সড়ক তেতুঁলতলার বাসিন্দা তোতা মিয়া জানান, গরমে মশারির ভেতর ঘুমানো যাচ্ছে না। যেকারণে দিন-রাতে কয়েল জ¦ালিয়ে রাখছি। কিন্তু মশা মরছে না। মশার কামড়ে সারা শরীর ফুলে উঠছে। অসহনীয় যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পরিত্রাণের উপায়ও খুঁজে পাচ্ছি না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অধিকাংশ ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার পানিতে অবাধে প্রজনন কেন্দ্র বানিয়েছে মশা। এসব ড্রেন পরিস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। পানির প্রবাহ না থাকায় মশার প্রজনন বেড়ে গেছে।

শহরের টিবি ক্লিনিক পাড়ার বাসিন্দা পুটু মিয়া জানান, মার্চ মাসের প্রথম দিকে শহরের কিছু এলাকায় স্প্রে করতে দেখেছি। কিন্তু মশার উৎপাত কমেনি। বিষ ছড়ানো নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

খড়কি কবরস্থান এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন ইয়াকুব আলী। পেশায় তিনি শ্রমিক। তিনি বলেন, মশার কামড়ে আমার একমাত্র সন্তানের শরীরে ঘা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসক জানিয়েছেন, মশার বিষে শিশুর এ অবস্থা হয়েছে।

লোন অফিস পাড়ায় একটি মেসে ভাড়া করে থাকেন কলেজছাত্র রফিক, উজ্জল ও রেজাউল ইসলাম। তারা বলেন, দিনে-রাতে ১৫ টাকার কয়েল পুড়ছে, কিন্তু মশার উপদ্রব্য ক্রমাগতভাবে বাড়ছেই। তাদের অভিযোগ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর কিন্তু মশা মারার মতো শক্তি-সামর্থ্য নেই, এটি দুঃখজনক।

যশোর পৌরসভা মশক নিধন অভিযান চালায় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে। খড়কির বাসিন্দা আখতার হোসেন শ্রমিকদের সর্দার। তার নেতৃত্বে ৯টি ওয়ার্ডে বিষ স্প্রে করেন শ্রমিকরা। এ কাজে ফগারমেশিন, হ্যান্ড স্প্রে ও পাওয়ার মেশিন ব্যবহার করার কথা কিন্তু হ্যান্ড স্প্রে করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, আকিক নামে যে বিষ দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ, তার এক বোতলের দাম ৭১৫ টাকা। কিন্তু কয়েক দফা হাত বদলের সময় সিংহভাগ চোরাইপথে বিক্রি হয়ে যায়। বিশেষ করে গরু ও মুরগীর ফার্ম মালিকরা ৭১৫ টাকা দামের বোতল কিনে নেন ৩শ’ টাকায়। এ বছর মার্চে যখন স্প্রে করা শুরু হয়, তখন বারান্দিপাড়ায় রেজাউল নামে এক শ্রমিক হাতে-নাতে ধরাও পড়েন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে শ্রমিক সর্দার আখতার বিষয়টি ধামাচাপা দেন।

সূত্রের ভাষ্য মতে, বরাদ্দের সবটুকু বিষ স্প্রে করা হলে মশার ‘ছা’ও থাকার কথা না। পৌর কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় শ্রমিকরা সিংহভাগ বিষ বিক্রি করে সামান্য পরিমাণ বিষ স্প্রে করে। যেকারণে মশার বংশ বিস্তার কমে না।

যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আপাতত নতুন করে স্প্রে করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আমরা যে বিষ স্প্রে করি, তাতে মশা মরে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

নকআউটে আর্জেন্টিনার সামনে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে সি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত...

সৌদি আরবকে হারিয়েও নক আউটে যেতে পারলো না মেক্সিকো

ক্রীড়া ডেস্ক : আর্জেন্টিনা যখন পোল্যান্ডের বিপক্ষে লড়ছিল। ঠিক একই সময় লুসাইলের আইকনিক স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর...

দুই তরুণের গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক : হারলেই বিদায়, ম্যাচ শুরু আগে ভর করেছিল নানা শঙ্কা। মেসির পেনাল্টি মিসের...

১৬ বছর পর শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : তিউনিসিয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে যতক্ষণ গোল পায়নি, অস্ট্রেলিয়ার সমীকরণ ততক্ষণ সহজই ছিল। ড্র...

ফ্রান্সকে হারিয়ে দিলো তিউনেশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : শেষ ষোলোয় আগেই উঠে গিয়েছে ফ্রান্স। সে কারণেই কিনা তিউনেশিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ...

সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ নাকি মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

ক্রীড়া ডেস্ক: প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এক হারেই...