রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

মাতৃদেবীজ্ঞানে আসন নেয় সৃজিতা ঘোষাল

এসআই ফারদিন :

সোমবারের সকালটা জেগে উঠেছে ঢাক-বাদ্যের তালে। আর এই ঢাকের তাল বলছে মহা অষ্টমীর বার্তা। উলুধনিতে মুখর যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম। ফুল, বেলপাতা আর উলুধনিতে দেবীর আবাহন কোনো প্রতিমার নয়, মর্ত্যরে কুমারী পূজা।

সোমবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দিয়েও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে দেবী দুর্গার পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে কুমারী দেবীকে অঞ্জলী দেওয়ার মধ্য দিয়ে পূজা অর্চনা শুরু হয়। পূজা শেষে ভক্তদের পুস্পাঞ্জলী প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। বিকেলে হয় সন্ধী পূজা, সন্ধ্যার পরে সন্ধ্যা রতীর মধ্যো দিয়ে শেষ হয় মহা অষ্টমী।

শাস্ত্রমতে, ১৬টি উপকরণ দিয়ে শুরু হয় মহা অষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর অগ্নি জল, বস্ত্র, পুস্প ও বাতাস এই ৫ উপকরণ দিয়ে পূর্ণতা আনা হয় পূজার রীতিতে। প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক হচ্ছে কুমারী, তাই কুমারী কন্যাকে দেবী দূর্গা কল্পনা করে সাধণা করা হয়। এর মাধ্যমে নারী হয়ে উঠে পূজারী।

এদিকে সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার পূজারি ও ভক্তবৃন্দ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন এসে জড়ো হয়। জাঁকজমক পূর্ণভাবে মহাষ্টমীর কুমারী পূজা পালন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ কুমারী পূজায় রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল নামে।

সদরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাঁচবছর বয়সী সৃজিতা ঘোষালকে এবার মাতৃদেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। ঢাকঢোল ও শঙ্খ বাজিয়ে অঞ্জলী দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কুমারী দেবীকে বরণ করেন ভক্তরা। এ সময় ভক্তরা আরাধনা করে বলেন, ত্রিলোক শ্রেষ্ঠা সুন্দরী, উৎকৃষ্ট বর্ণধারিনী হে বালিকা তুমি কল্যাণকর, তুমি প্রকাশকারিণী, মনোহরহাস্যযুক্তা, মহানন্দময়ী, মঙ্গলময়ী, পরমানন্দস্বরূপিণী জগৎ জননী- তোমাকে প্রণাম জানাই।

এরপর দেবীর কাছে সবাই প্রার্থনা করেন। কুমারী পূজা পরিচালনা করেন যশোর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী প্রকাশানন্দ মহারাজ।

কুমারী পূজা সম্পর্কে মহারাজ বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ শারদীয় দুর্গোৎসবে এ কুমারী পূজার প্রচলন শুরু করেন। দেবীকে জাগতিকভাবে পূজা করতে শত বছর ধরে এ কুমারী পূজা পালন করা হচ্ছে। সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুসারে দেবীকে শিশুরূপে মায়ের আসনে পূজা করা হয়। প্রতিটি নারীর মধ্যে দেবী মা দূর্গা বিদ্যমান। ফলে নারীকে ভোগের নয় শ্রদ্ধার দৃষ্টিতেও দেখতে হবে। তাহলে সকল পাপাচার বন্ধ হবে।

আশ্রমে পূজায় অংশ নিতে আসা কয়েকজন জানান, গত দুই বছর করোনা মহামারীর জন্য যশোরে কুমারী পূজা হয়নি। এবার জমকালো আয়োজনে কুমারী পূজা উদযাপন করবো কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা আনন্দে ভাটা পড়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে নেদারল্যান্ডস

কল্যাণ ডেস্ক : নিজের হাজারতম ম্যাচের দিনে সকারুদের হটিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন লিওলেন...

সকালেই কানায় কানায় ভরে গেছে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড

কল্যাণ ডেস্ক : চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডসহ আশেপাশের এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রোববার দুপুর ২টা থেকে...

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক : ভালো-মন্দ মিলিয়েই গতকালের দিনটা গেল ব্রাজিলের। একদিকে হাঁটুর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকেই...

আজকের নবীন অফিসাররাই হবে ২০৪১-এর সৈনিক

কল্যাণ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, '২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে...

টুকু-নয়ন গ্রেফতার: যুবদলের বিক্ষোভের ডাক

কল্যাণ ডেস্ক : রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে আমিনবাজারে গ্রেফতার হয়েছেন যুবদল সভাপতি...

খালেদার বাসার সামনে তল্লাশিচৌকি, রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনের সড়কের দুই পাশে...