Tuesday, August 16, 2022

মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে পেটানোর ঘটনায় সেই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

খুলনা ব্যুরো :

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম বাহারুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬ এর একটি টিম। খুলনার লবনচোরা এলাকা থেকে তাঁকে রাত ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-৬ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বজলুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কয়রা থানায় ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মো. মাসুদুর রহমানের স্ত্রী পাখি বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই অভিযান চালিয়ে বাহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলামের নির্দেশে কয়রার একটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাসুদুর রহমানকে তুলে এনে ইউনিয়ন পরিষদে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ভুক্তভোগী কয়রা উত্তরচক আমিনীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মাসুদুর রহমান জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একই সঙ্গে তিনি থানায় অভিযোগ দেন।

অভিযোগ মো. মাসুদুর রহমান উল্লেখ করেন, গত সোমবার (১৮ জুলাই) তিনি মাদ্রাসায় বসে কাজ করছিলেন। এ সময় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলাম এবং ওই মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মোস্তফা আব্দুল মালেকের নির্দেশে স্থানীয় ইউনুসুর রহমান বাবু, মো. নিয়াজ হোসেন, মাসুদুর রহমান, মিলন হোসেন, জহুরুল ইসলাম, রিয়াল, আমিরুল, অমিত মন্ডল, রফিকুল গাজী, সাদিকসহ ১৫-২০ জন লোক তাঁকে জোর করে ধরে রুম থেকে কলার ধরে বের করে নিয়ে আসে। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর তাঁকে সেখানেই ফেলে চোখে, ঘাড়ে, কানে পিঠে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে।

এরপর তাঁকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে চেয়ারম্যানে বাহারুল ইসলামের অফিসের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাঁকে আঘাতের নির্দেশ দেয়। সেখানেও তাঁকে বেদম মারপিট করে। এতে তাঁর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায়। সেখানে চেয়ারম্যান তাঁকে মাদ্রাসা থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। পরিবার প্রথমে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসায় ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি না করায় তার নির্দেশে আমাকে আঘাত করা হয়েছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ক্রিকেট আম্পয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যশোরের নির্বাচনের মাঠে দুই প্যানেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে দুটি...

বেনাপোলে বিএনপির দোয়া অনুষ্ঠানে হামলায় আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেনাপোলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে সুস্থতা...

কেশবপুর প্রেসক্লাবের ভোট ১১ সেপ্টেম্বর

কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬ আগস্ট প্রেসক্লাব নির্বাচন...

ঝিনাইদহে নবজাতক হত্যায় আটক ৩

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক ছেলে শিশুকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে...

দুই চোরসহ ভ্যান উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযানে ইঞ্জিন ভ্যান চুরির ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২ চোরসহ...

শিশু নাঈমার ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

প্রেমবাগ প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়ার বালিয়াডাঙ্গায় শিশু নাঈমার ঘাতক আমজাদের ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার...