রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

‘মুর্খরা মঞ্চ দখল করবে’

গ্রাম্য কথায় ‘আলে খাটো’ বলে একটা কথা আছে। এর অর্থ বুদ্ধিতে কম। আমাদের মধ্যমণি অনেক নেতা আছে যারা এই আলে খাটো পর্যায়ের নেতা। তারা মনে করেন নিজেরা রাজাধিরাজ আর জনগন গরু ভেড়া। বিতর্কিত মোনাজাত শুধু বঘারপাড়ার ইউপি চেয়ারম্যান করেননি। এমন উল্টা পাল্টা কথা বলতে অনেক নেতার মুখ থেকে শোনা যায়। তারপরও তাদেরকে নেতা বলে আমাদের মেনে চলতে হয়। না চলে উপায় নেই। কার ঘাড়ের ওপর কটা মাথা আছে যে, এসব মুর্খদের নেতা মানবে না। কাউকে বলতে শোনা যায় ঈদের জামাতকে জানাজার জামাত বলতে। একবার যশোরের ঝিকরগাছা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ উদ্বোধন করতে গিয়ে এক নেতা বলেছিলেন, আমি ঝিকরগাছা ইন্টারমিডিয়াম কলেজের উদ্বোধন ঘোষণা করছি। যশোর এম এম কলেজে এক শীর্ষ নেতা অধ্যক্ষ সাহেবকে বলেছিলেন, ‘রাবীন্দ্র সঙ্গীত আপনারা লিখতে পারেন না?’ ঘটনা আরো আছে। সব বললে ‘মা মারা যায়, না বললে বাপ—–’।

এমন সব ঘটনার মধ্যে বাঘারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সেই বিতর্কিত মোনাজাতের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় যশোরের জেলা প্রশাসককে এ তদন্তের ভার দিয়েছে।

বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। দোয়া করার সময় তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকারীদের বেহেস্ত কামনা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে দোয়া অনুষ্ঠানের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বিতর্কিত এ মোনাজাতের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের আরো দশজন নেতা স্বাক্ষর করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত একটি পত্র দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসককে। পত্রে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসাল কথা হলো যে দেশে শিক্ষার মূল্য নেই সে দেশে এর চেয়ে আর কি আশা করা যায়। ইসলামের ৪র্থ খলিফা হজরত আলীর (রা) একটি কথা স্মরণীয়। তিনি বলেছিলেন, ‘এমন একটা সময় আসবে যখন মুর্খরা মঞ্চ দখল করবে আর জ্ঞানীরা পালাবে। সেই দিন মনে হয় এসে গেছে। এখনই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

মহালয়া আজ, ক্ষণ গণনা শুরু দুর্গাপূজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : শারদীয় দুর্গোৎসবের পূণ্যলগ্ন, শুভ মহালয়া আজ। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকেই শুরু দেবীপক্ষের। চণ্ডীপাঠের...

আ.লীগ কখনো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতয় আসেনি : প্রধানমন্ত্রী

কল‌্যাণ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়ার কথা...

কোটচাঁদপুরে সক্রিয় অপরাধী ও প্রতারক চক্র

কামাল হাওলাদার, কোটচাঁদপুর : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দিনে দুপুরে চুরি ছিনতাইসহ প্রতারক চক্রের প্রতারণার মাত্রা বেড়ে...

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...