Friday, July 1, 2022

মোংলায় চলছে অবৈধ নৌযান, বাড়ছে দুর্ঘটনা

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল দিয়ে চলছে অবৈধ নৌযান। সার্ভে সনদ ছাড়াই এসব নৌযান চলছে বাধাহীনভাবে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত ১৫ নভেম্বর রাতে ডুবে যায় কয়লাবোঝাই বাল্কহেড ফারদিন-১। এ নিয়ে গত ১১ মাসে এই বন্দরের চ্যানেলে ডুবেছে পাঁচটি নৌযান। দুর্ঘটনার শিকার এ সব নৌযানের কোনোটিরই ছিল না নৌ পরিবহন অধিদফতরের সার্ভে সনদ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ও সচিব কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, ১৫ নভেম্বর ডুবে যাওয়া ফারদিন-১ নামে বাল্কহেডটির সার্ভে সনদ ছিল না। একই সঙ্গে আমদানি পণ্য পরিবহনের অনুমতিও নেই। বেআইনিভাবে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার শিকার বাল্কহেডটিকে পনেরো দিনের মধ্যে বন্দর চ্যানেল থেকে ওঠাতে মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিরাপদ নৌ চ্যানেলের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মোংলা বন্দর চ্যানেলে চলতি বছরে পাঁচটি নৌযান ডুবেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৭৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডোবে এম ভি বিবি-১১৪৮। ৩০ মার্চ ৫১০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডোবে এম ভি ইফসিয়া মাহিন। ৮ অক্টোবর এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ডোবে এম ভি বিউটি অব লোহাগড়া-২। একই দিন ৮৫২ মেট্রিক টন ড্যাপ সার নিয়ে ডোবে এম ভি দেশ বন্ধু। ১৫ নভেম্বর ৩৭০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডোবে ফারদিন-১ বাল্ডহেড।’

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক খোকন বলেন, ইতোমধ্যে নৌযানটি উত্তোলন করতে কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই এম ভি ফারদিন-১ উঠানো সম্ভব হবে।
নৌ পরিবহন অধিদফতরের (ডিজি শিপিং) পরিচালক বদরুল হাসান লিটন বলেন, ‘পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। কিন্তু যেসব নৌযান সার্ভে সনদ না নিয়ে নদীতে চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।’

তিনি জানান, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ অবৈধভাবে চলা নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মেরিন কোর্টে মামলা দিতে পারে। আর সার্ভে সনদ না থাকা নৌযানের বিরুদ্ধে ৩৩ ধারায় ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে, জাহাজের ধাক্কায় কয়লাবাহী বাল্কহেড ডুবির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সহকারী হারবার মাস্টার আমিনুর রহমানকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিনিয়র পাইলট রিয়াজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (নৌ নির্মাণ) অনুপ চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, ১৫ নভেম্বর রাতে বন্দরে অবস্থানরত এলিনা বি জাহাজ থেকে কয়লা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল বাল্কহেড ফারদিন-১। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পণ্য খালাস শেষে বন্দর ত্যাগের সময় হ্যান্ডিপার্ক মাদার ভেসেল জাহাজ ফারদিন-১ বাল্কহেডটিকে ধাক্কা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে বাল্কহেডটি ডুবে যায়। বাল্কহেড থেকে দুই জনকে জীবিত এবং তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...

শাহীন চাকলাদারকে ছাড়লেন একদল নেতা!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: যশোরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় গ্রুপ বদলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে...

বাজেট পাস আজ কার্যকর

ঢাকা অফিস: চোখে পড়ার মতো বড় কোনও সংশোধনী ছাড়াই পাস হয়েছে নতুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের...

ঈদুল আজহা ১০ জুলাই

ঢাকা অফিস: বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ১০ জুলাই...

পদ্মা সেতু : ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য উইকিলিকসে

ঢাকা অফিস: পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের নেপথ্যে যার নাম সবার শীর্ষে, তিনি নোবেল...