Tuesday, August 9, 2022

যবিপ্রবিতে শিক্ষকের নামে মামলার প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের বিরুদ্ধে মামলাকে শিক্ষক সমিতি বলছে, বহিষ্কৃত ছাত্রের সাথে বিরোধের ঘটনাকে পুঁজি করে স্বনামধন্য শিক্ষককে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম চিহ্নিত করে ইতোপূর্বে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান এই মামলাটি করেছেন। আর লাঞ্ছিত হওয়ায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মারধরের অভিযোগে মামলা করেন যবিপ্রবি নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান।

এদিকে মামলার প্রতিবাদে রোববার যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। একাডেমিক ভবনের সামনে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় বক্তব্য দেন, যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি ড. সেলিনা আকতার, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদ, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মনিবুর রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেটর সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ টাকার (বিল) প্রকল্পের বিপরীতে সিকিউরিটি বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জামানত রাখা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওই সিকিউরিটির টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত ছাত্র আজিজুল ইসলামকে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ। টাকা দিতে না চাইলে ২৫ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে আজিজ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত এক ছাত্র প্রকৌশলী মিজানুরকে ডেকে ড. ইকবাল কবীর জাহিদের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গেলে ড. ইকবাল কবীর জাহিদ একাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশে সিঁড়ির নিচে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মিজানুরের কানে থাপ্পড় মারেন। এরপর বহিস্কারকৃত ছাত্র আজিজও মিজানুরকে চড় থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করে।

এই মামলা দায়েরের পর গোটা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকে দাবি করছেন, মিজানুর রহমানের দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ায় এই মামলায় অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদকে ফাঁসানো হয়েছে।

যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদ বলেন, মামলার অভিযোগটি একেবারের ঠিক নয়। ঘটনার সময় মিজানুর ও আজিজের মধ্যকার কথা কাটাকাটি চলছিল। বিরোধ দেখে ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত করেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেমের দুর্নীতির বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছিল। তদন্তে প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন ইকবাল কবীর জাহিদ। সে কারণে দেখে নেয়ার জন্য মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে।

অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, মারপিটের কোনো ঘটনার সাথেই আমার নূন্যতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তদন্ত করে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়ায় আমাকে ওই ঘটনার সাথে জড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিকার না হলে তো আর কেউ অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পাবে না।

তবে যবিপ্রবি নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি মারপিটের শিকার হয়েছেন বলেই মামলা করেছেন। আর গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেমের অনিয়ম দুর্নীতির সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

পবিত্র আশুরা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের...

পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা। বিভিন্ন দিক দিয়ে এ দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানবজাতির আদি পিতা হজরত...

যশোরে স্বজন সংঘের নতুন কমিটি গঠন

স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা স্বজন সংঘের দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।...

বাফওয়া যশোরের উদ্যোগে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) মতিউর আঞ্চলিক শাখা যশোরের উদ্যোগে সোমবার বঙ্গমাতা...

স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গমাতা ছিলেন সহায়ক : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালীন প্যারোলে...

ডলার সঙ্কট : ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণে চিঠি

ঢাকা অফিস : প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার সংরক্ষণ করে দর বৃদ্ধির ‘প্রমাণ পাওয়ায়’ ছয় ব্যাংকের...