যশোরের ৩ উপজেলায় ৩৫ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

বাঘারপাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত

# প্রচার প্রচারণায় সহিংসতা ছিল
# ভোটের দিন পাল্টে যায় দৃশ্যপট
# উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে ভোট প্রদান

কল্যাণ রিপোর্ট
যশোরের তিন উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নে রোববার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠি হয়েছে। ভোটের আগে সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটাররা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করলেও ভোটের দিন দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ভোটদান নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এতে ভোটদানে ভোটারদের উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। তারা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। দৈনিক কল্যাণের প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত প্রতিবেদন।

জেমস রহিম রানা ও আবদুল্লাহ আল সোহান, মণিরামপুর থেকে জানান, যশোরের মণিরামপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোর থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইন দিতে দেখা গেছে। ভোটারদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠে ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরের এলাকা।

এদিকে দুই একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে বোমা হামলা, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সকালে উপজেলার খাকুনদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনোহরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজিতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনোহরপুর কাচারী বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কোদলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রোহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রের ভেতর নারী এবং পুরুষ ভোটারদের লম্বা লাইন পড়েছে। কেন্দ্রের বাইরে ভোটের স্লিপ নেয়ার জন্য ভোটারদের ভিড় জমেছে। ভোটকেন্দ্রে আগত নারী এবং পুরুষ ভোটারদের মধ্যে আনন্দ বইছে।

সকাল ৯টার দিকে টেংরামারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন গোলাম মোস্তফা নামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ভোট দিছি সুন্দরভাবে। পরিবেশ ভালো।

ভোটের পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এ কেন্দ্রের সরোয়ার হোসেন নামে এক মেম্বর প্রার্থী। তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আনন্দ মোহন ম-ল বলেন, এত সুন্দর পরিবেশ অনেক দিন দেখিনি। ভোটাররা উৎসুক পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। একই সুরে মত প্রকাশ করেছেন বাটবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বিমল কুমার।

এদিকে গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে উপজেলার খানপুর ও পাড়দিয়া ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাড়দিয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের বাইরে রাত থেকে ভোট শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তত ২০টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ কেন্দ্রের মেম্বর প্রার্থী ইউনুস আলী বলেন, বহিরাগত দুর্বৃত্তরা ঘুঘুরাইল চাতাল মোড়ে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়।

শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, পাড়দিয়া ৯ নম্বর কেন্দ্রের বাইরে বোমা হামলার ঘটনার খবর পেয়েছি। ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন পরিবেশ অনুকূলে আছে। খেদাপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর-মাঝিয়ালী ভোটকেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুজ্জামান শান্তর এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন প্রার্থীর বোন শিরিনা পারভিন।

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

আব্দুল জলিল, শার্শা প্রতিনিধি জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে এই ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১০ ইউনিয়ানের কোন কেন্দ্রে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের। ১০টি ইউনিয়নের ১২৮টি ভোট কেন্দ্রে ২২৭টি বুথে ভোটগ্রহণ চলে।

উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে তুলনামূলকভাবে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা যতই বাড়তে থাকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ততই বাড়তে থাকে। প্রতিটি কেন্দ্র নিরাপত্তা বলয়ের চাদরে ঢেকে দেয়া হয়।

শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেন, ভোটাররা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে ভোট প্রদান করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাঘারপাড়া প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ইউপি নিবার্চনের ভোট গ্রহণ হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। কোন ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রথমবারের মতো রায়পুর ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে প্রচলিত ব্যালট পেপারেই ভোট হয়।

সকাল ৮টা থেকে সারিবদ্ধভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে শুরু করেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।
রিটার্নিং অফিসার রুহুল আমিন জানান, সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে এই তিন ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ চলছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে