Wednesday, July 6, 2022

যশোরে অর্ধ কোটি টাকা লোপাট

প্রকল্প কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষকসহ ১৭ জন জড়িত
গ্রেফতার এড়াতে কেউ আত্মগোপনে; কেউ বিদেশে

তবিবর রহমান: যশোরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)’র পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের (পজীপ) অর্ধ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক ও ১৫ মাঠ সংগঠক প্রান্তিক পর্যায় থেকে টাকা তুলে জমা না দিয়ে পকেটে ভরেছেন। বিভিন্ন সময় আত্মসাৎ করা সেই অর্থ আদায় করতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে বিভাগীয় ব্যবস্থা। করা হয়েছে মামলা। গ্রেফতার এড়াতে কেউ আত্মগোপনে; আবার কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

অর্থ লুটকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত পেতে আদালতে মামলা চলমান। জড়িতদের ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই
—— বিআরডিবি যশোরের উপপরিচালক
মো. কামরুজ্জামান

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনজীবিকা উন্নয়নে বিআরডিবি দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিত্তহীনদের মাঝে আয়বর্ধনমূলক কর্মকা- করতে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে তাদের কর্মসংস্থান ও আয় উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি; সক্ষম প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দারিদ্র্যতা বিমোচনই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। সেই আলোকে যশোরের আট উপজেলাতেও চলমান রয়েছে এই প্রকল্প। দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিয়ে বিত্তহীন সমবায় সমিতি (বর্তমানে পল্লী উন্নয়ন দল) গঠনের মাধ্যমে শেয়ার ও সঞ্চয় জমা করে পূঁজি গঠন ও ৯ শতাংশ সুদ প্রদান করা হয়। এজন্য প্রকল্পে উপজেলা কর্মকর্তাসহ নিয়োগ করা হয় মাঠ সংগঠক। জেলার ৭টি উপজেলার ১৭ সংগঠক পল্লী উন্নয়ন দলের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় অর্ধ কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। এরমধ্যে একটা মোটা অংকের অর্থ লুটপাট হয়েছে জেলার অভয়নগরে। এই উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাসহ তিন মাঠ সংগঠক লুটপাট করেছেন সাড়ে ২৬ লাখ টাকা।

বিআরডিবি যশোরের একটি সূত্র মতে, অভয়নগরে দায়িত্বে থাকার সময় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস ১২ লাখ এক হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। টাকা আদায়ে আদালতে করা হয় মামলা। বর্তমানে মামলাটি শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এই উপজেলায় মাঠ সংগঠক পদে চাকরি করা সেলিম রেজা পকেটে ভরেছেন ১২ লাখ এক হাজার টাকা। তাকেও চাকরিচ্যুত করে অর্থ আদায়ে আদালতে মামলা করা হয়। আর অন্য দুই মাঠ সংগঠক খাইরুল ইসলাম ও শহিদুল কবির যথাক্রমে এক লাখ ও এক লাখ ৯১ হাজার টাকা দুর্নীতি করেছেন। এরমধ্যে শহিদুল এক লাখ ২১ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তার জমাকৃত গ্রাচ্যুইটি ও সিপিএফ দ্বারা সমন্বয়ের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে দাফতরিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও খাইরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভয়নগর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আমিনুর রহমান।

এদিকে প্রকল্পের চৌগাছা থেকে লুটপাট করা হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এরমধ্যে হিসাবরক্ষক নাসিফুর রহমান চার লক্ষ ১০ হাজার, রাফেজা খাতুন দুই লক্ষ ৮১ হাজার, কনিকা রাণী দাস ৪৫ হাজার এবং আবুল কাসেম এক লক্ষ টাকা দুর্নীতি করেছেন। উপ প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকাশ রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দুর্নীতির অভিযোগে নাসিফুর রহমান, রাফেজা খাতুন, কনিকা রাণী দাস এবং আবুল কাসেমের নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি মামলার আসামি হয়েছেন হিসাবরক্ষক নাসিফুর রহমান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। দ্রুত সব মামলার রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপ প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকাশ রায়।

অন্যদিকে পজীক শার্শা প্রকল্প’র ৮২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন দুই মাঠ সংগঠক। ললিতা রায় ৬২ হাজার ও আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের। এরমধ্যে আব্দুল আলিম মারা গেছেন। আর ভারতে পালিয়ে গেছেন ললিতা রায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। তবে ঝিকরগাছার প্রকল্প থেকে ৪২ হাজার টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত মিলন চৌধুরীর নামে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অপরদিকে কেশবপুরে পজীক প্রকল্প থেকে মাঠ সংগঠক জাহিদুর রহমান এক লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাহানা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, এজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য যশোর সহকারী জজ আদালতে মানিস্যুট মামলা চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের দুই লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে বাঘারপাড়ার মাঠ সংগঠক আব্দুস সাত্তার এবং ৮৬ হাজার টাকা দুর্নীতির কারণে চাকরি হারিয়েছেন সাইদুর রমান। শুধু তাই নয়, তাদের নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা দিলরুবা বেগম।

এছাড়া দুই লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন প্রকল্পের যশোর সদর উপজেলার মাঠ সংগঠক শ্যামল কুমার দাস। ইতোমধ্যে তিনি ৯২ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম। যদিও তার বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের এসব দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরডিবি যশোরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, অর্থ লুটের বিরুদ্ধে জড়িতদের বিষয়ে প্রধান কার্যালয় অবহিত। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত পেতে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জড়িতদের কারও ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

আলেম নামধারী এসব শিক্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক

সাতক্ষীরার দেবহাটার নাজিবের ঘের স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির...

৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব যশোরের বিশেষ সাধারণ সভা

প্রেসক্লাব যশোরের গঠনতন্ত্র পরিবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির দিনব্যাপী...

কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তরবঙ্গে বন্যার্তদের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর...

যশোরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার যশোরে গলায় ফাঁস দিয়ে কামরুন্নাহার কেয়া (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।...

পর্যবেক্ষণে অসুস্থ বিএনপি নেতা নূর-উন-নবী

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী (৬৬) ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি...

জাতীয় স্কুল ফুটবলের শিরোপা যশোরে নিয়ে আসতে চায় পলাশ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রথমবার অংশ নিয়েই জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল যায়গা করে নিয়েছে বেনাপোল মাধ্যমিক...