যশোরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
শ্রীলংকায় সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগে আতংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বিএনপি ভোটের মাঠে থাকবে; চোরের মাঠে থাকবে না’ মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের উপর আস্থা নেই আওয়ামী লীগের। তাই তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তারা বলছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ভোটের মাঠে না থাকলে বিএনপির রাজনীতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আগামী দিনে দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। কিন্তু চোরের মাঠে বিএনপি যাবে না। কারণ ভোট চুরি করে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় আসেনি, আর আসার স্বপ্নও দেখেনি।

দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে শনিবার বিকালে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। যশোর জেলা বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

আমীর খসরু আরও বলেন, শ্রীলংকা সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। তারা বিএনপির সভাসমাবেশ করতে দিচ্ছে না। এর একটাই কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে জনগণের আতংক। তা না হলে আমরা জনসভা করবো, বক্তব্য দিব, চলে যাব। এটা না দেওয়ার তো কোন কারণ দেখছি না।

তিনি বলেন, আতংকের কারণ হলো- আওয়ামী লীগ অবৈধ পন্থায়, জনগণের রায় না নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। ক্ষমতায় থেকে মানুষের বাকস্বাধীনতা, সংবিধান হরণ করেছে। তাই শ্রীলংকায় জনগণের প্রতিবাদ আর সরকার পতন দেখে এখন শেখ হাসিনা ও তার লোকজনদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যেসব দেশের প্রধান জনগণের রায় মানতে নারাজ, সেসকল দেশে কিন্তু জনগণ প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে। একপর্যায়ে সেই সরকারকে ঠিকই জনগণ গদি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও সময় কিন্তু এসে গেছে। এখন থেকে আমরা আর মিছিল-মিটিংয়ের অনুমতি নেব না। এখন থেকে আমরা কোনো অনুমতির তোয়াক্কা করব না। আপনারা প্রস্তুতি নেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের রূপরেখা খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া বন্দি। তার অবর্তমানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়ি আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা উপস্থাপন করবেন।

আন্দোলনের রূপরেখা অনুযায়ী ভোট চুরি করে আসা এই অবৈধ সরকারকে বিতারিত করতেই হবে।
যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেরা নাজমুল মুন্নী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

এছাড়া জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের লালদীঘিস্থ দলীয় কার্যালয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় কানায় কানায় ভরে ওঠে। জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিলে মিছিলে সরগরম করে তোলা হয় সভাস্থল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে