Sunday, May 22, 2022

যশোরে কৃষকের স্বপ্ন ভাসছে বৃষ্টির জলে

আধা পাকা ধান কেটেও শেষ রক্ষা হলো না কৃষকের
ক্ষতির পুরো চিত্র জানতে করতে হবে অপেক্ষা-কৃষি বিভাগ

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক: যশোরে কৃষকের স্বপ্ন ভাসছে বৃষ্টির জলে। হাঁটুজলে তলিয়ে গেছে শ’ শ’ হেক্টর জমির কাটা ধান। আধা পাকা ধান কেটেও ক্ষতি ঠেকানো যায়নি। কাচা ধানও নুইয়ে পড়েছে। গরম বাতাসের মধ্যে ধানের এমন ক্ষতি মানতে পারছেন না কৃষক। বলছেন চড়াদামে কেনা শ্রমিকের দাম ধান বেচে উঠবে না। নুইয়ে পড়া ধানও চিটা হয়ে যাবে। কষ্টের ধন শেষ মুহূর্তে এভাবে ভেসে যাওয়ায় কৃষক এখন দিশেহারা। ক্ষেতে ভেজা ধান আর কৃষকের চোখের জল মিলেমিশে হয়ে গেছে একাকার। কৃষি বিভাগের দাবি বোরো ধানে এখন পর্যন্ত খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তবে নতুন করে বৃষ্টি হলে কাটাধানে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। দু’একদিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে-বলেন এই উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ দৈনিক কল্যাণকে জানান, সোমবারের বৃষ্টিতে জেলার বেশকিছু এলাকায় কাটাধান তলিয়ে গেছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ৬০ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষক। ৪০ ভাগ ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। বোরো চাষীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই বৃষ্টি অন্যান্য ফসলের উপকার বয়ে আনবে। যশোরে চলতি মৌসুমে এক লাখ ৫৮ হাজার ৮শ’ ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে উল্লেখ করে কৃষি বিভাগের এই উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে দু-একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

যশোর সদরের ফুলবাড়ির কৃষক আকতার হোসেন ও বীরনারায়নপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, তারা এখনো ১৫ ভাগ ধান ঘরে তুলতে পারেননি। সোমবারের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কাটাধান। ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে ধান ক্ষতিরমুখে পড়তে পারে ভেবে তারাসহ এলাকার অনেকে আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু সব চেষ্টায় ছাই ফেলেছে সোমবারের বৃষ্টি। দিনে ৭শ টাকা দরে শ্রমিক কিনে ধান কেটেছিলেন-যোগ করেন তারা।

মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের কৃষাণী সাহেলা বেগম জানান, ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে তড়িঘড়ি করে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। তবে প্রতিবেশিদের অনেকের কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। তিনি বলেন, অনেকে চোখের পানি ফেলছেন। বলছেন ধানে শ্রমিকের ঘামের দামও উঠবে না।

সদরের দেয়াড়া গ্রামের সুশান্ত দাস দৈনিক কল্যাণকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা বাড়তেই মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। দুপুরের দিকে বৃষ্টি কমতে থাকে কিন্তু তারআগেই হাঁটুজলে তলিয়ে যায় কাটা ধান। যেকারণে ঘরে তুলতে পারিনি ধান। তিনি বলেন, এসব ধান ক্ষেতেই ঝরে যাবে, যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

যশোর আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনে তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলশিয়াস। বিকেল ৫টার দিকে বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাতেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝিকরগাছা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, সোমবারের বৃষ্টিতে বোরো ধানের খুব বেশি ক্ষতি হয়। সেখানে ৭৫ ভাগ ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষক-যোগ করেন এই কর্মকর্তা।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ বলেন, সব উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র জানা যাবে দু’একদিন পর। যেকোন দূর্যোগ মোকাবিলায় চাষীদের সতর্ক থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখনও মাথায় হাত দেয়ার মতো ক্ষতি হয়নি। রাতে বৃষ্টি না হলে সকালেই ক্ষেতের কাটাধান ডাঙায় তুলে নিতে হবে। তাহলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যশোরে সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (২২...

যশোরে অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাসেল হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ...

কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এভাবে চলতে পারে না

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জোকা কোমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নবিরুজ্জামান বিদ্যালয়ে যান না...

ভোরের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড যশোরাঞ্চল

উপড়ে পড়েছে গাছপালা ভেঙে গেছে বাড়িঘর-বিদ্যুতের খুঁটি অশনির আঘাত না কাটতেই কৃষকের ঘরে কালো থাবা শাহারুল...

যশোর প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট আরএন রোডের জয় ছিনিয়ে নিল হাসানুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শনিবার সকালে যশোর অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী দমকা হাওয়া শামস্-উল-হুদা...

সুজলপুরে দুই বন্ধুকে মারপিটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্বশত্রুতার জের ধরে যশোর শহরতলীর সুজলপুরে সাকিব (২৫) ও নাহিদ (২৩) নামে...