যশোরে চাপিয়ে নিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ টিসিবির পণ্য কিনতে পারছে না

টিসিবির পণ্য

সালমান হাসান
যশোরে টিসিবি’র (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য না পেয়ে হতাশ ক্রেতারা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না ভর্তুকি দামের তেল, চিনি ও ডাল। কালো বাজারে বিক্রির কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। এছাড়া ডিলাররা প্যাকেজ হিসেবে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। ফলে বাজার দামের চেয়ে স্বল্প মূল্যের পণ্য কেনার এই সুযোগ নিতে পারছেন না অনেকে ।

ট্রাকে করে খোলা বাজারে টিসিবির তেল, চিনি, ডাল ও পিয়াজ বিক্রি হয়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো ক্রেতারা এসব পণ্যের যেকোনটি কিনতে পারবেন। কিন্তু সেই নিয়ম মানছেন না ডিলাররা। কেউ তেল কিনতে চাইলে বাধ্যমুলক তাকে ডাল, চিনি ও পিয়াজ প্যাকেজ আকারে নিতে হচ্ছে। ফলে অনেকের পক্ষে টিসিবির পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ২২০ টাকার দিয়ে ২ লিটারের একটি তেলের বোতল নিতে হলে গুনতে হয় বাড়তি আরও ১৮০ টাকা। তেলের সাথে ৫৫ টাকার ১ কেজি ডাল, ৫৫ টাকার ১ কেজি চিনি ও ৬০ টাকা দিয়ে ২ কেজি পিয়াজ কিনতে হয়। বাজারের একটি ব্যাগে করে প্যাকেজ হিসেবে এসব পণ্য বিক্রি করেন ডিলাররা। ব্যাগের দাম ধরা হয় ১০ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে একটি প্যাকেজের দাম দাঁড়ায় ৪০০ টাকা। যেটি অনেকের পক্ষে কেনা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

টিসিবির ঝিনাইদহ ক্যাম্প অফিসের সহকারী কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান ) সোহেল রানা জানান, প্যাকেজ হিসেবে পণ্য কিনতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। এমনটি করতে ডিলারদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। টিসিবি পণ্যের যেকোনটি যে কেউ নিতে পারবেন। বাজারের চেয়ে কম মূল্যে যাতে ক্রেতারা পণ্য কিনতে পারেন তার জন্য সরকারের এমন উদ্যোগ। যদি প্যাকেজ হিসেবে পণ্য কিনতে হয় তাহলে সাধারণ একজন ক্রেতার পক্ষে সেই ব্যয় বহন সম্ভব হবে না। এতে কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

যশোররে টিসিবি পণ্যের বরাদ্দ এখন আগের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। আর সেটুকুও ক্রেতাদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। ডিলারদের অনেকে অর্ধেক পণ্য খোলা বাজারে বিক্রির পর বাকি পণ্য বেশি দামে বাইরে বিক্রি দিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ। নজরদারি না থাকায় ডিলাররা ট্রাক সেলের পণ্যের সবটুকুই হজম করে দিচ্ছে। টিসিবির সিল তুলে ফেলে তেল মুদি দোকানে বিক্রি চলছে। ডাল ও চিনিও মুদি দোকানে চালান করে দিচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে খবর মিলেছে, শহরের বড় বাজার ও গোহাটার হাটচাঁদনির কিছু মুদি দোকানে সিল তুলে ফেলে টিসিবির সয়াবিন তেল বিক্রি হয়। ডিলারদের অনেকে এখানকার মুদি দোকানিদের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে দেন। এদিকে যশোরে টিসিবি পণ্যের বরাদ্দ দিনকে দিন কমছে। গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ এবার অর্ধেক। তারপর একমাসের ব্যবধানে সেটি আরও কমেছে। ফলে ক্রেতারা চাহিদামাফিক পণ্য পাচ্ছেন না। কিন্তু টিসিবি পণ্যের দাম বাজার দরের চেয়ে কম হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

মাস কয়েক আগেও যশোরের জন্য টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের বরাদ্দ ছিল ৩ ট্রাক। কিন্তু সেই বরাদ্দ কমে এখন ২ ট্রাক। এমনিতেই বরাদ্দ কম তারপর সেই পণ্য কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি ঝিনাইদহ ক্যাম্প অফিস সূত্র জানায়, ট্রাক প্রতি তেলের বরাদ্দ এখন ৪০০ লিটার। চিনি ও ডাল ৩৫০ কেজি। পিঁয়াজ ৫০০ থেকে ৭০০ কেজি। কিন্তু গত বছর তেলের এই বরাদ্দ ছিলো একেক ট্রাকে ২ হাজার লিটার। ট্রাকে চিনির বরাদ্দ থাকত ২ থেকে আড়াই হাজার কেজি। ডালের বরাদ্দ ১ হাজার ২০০ কেজি পর্যন্ত।

যশোরের বাজারে মসুর ডালের ১ কেজির বর্তমান দাম ৯০ টাকা। চিনি ১ কেজি ৮৫ টাকা। বোতলজাত ১ লিটার রিফাইন্ড (পরিশোধিত) তেলের দাম ১৬০। খোলা সয়াবিন ১৫০ টাকা। সেই অনুপাতে তুলনায় টিসিবি’র এসব পণ্যের দাম অনেক কম। কেজি প্রতি ডাল ও চিনি ৫৫ টাকা। তেল লিটার প্রতি ১১০ টাকা। যার কারণে টিসিবি’র ট্রাক সেলের পণ্য কেনায় ক্রেতারা বেশি আগ্রী। অথচ বরাদ্দ চাহিদা বিবেচনায় একেবারেই কম। তারপরও সেই বরাদ্দের পণ্যের সবুটুকু ক্রেতা পাচ্ছেন না। অর্ধেক খোলা বাজারে বিক্রির পর ডিলাররা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে দেন। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাক সেলেও সবটুকুই হজম করে দেয়ার অভিযোগ আছে।

যশোরস্থ সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ ও কৃষি বিপণন বিধিমালা-২০২১ মোতাবেক বাজার ও গুদাম তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে। প্রশাসন এটির তদারকি করছে।

টিসিবি পণ্যের তদারক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব জানান, বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে