রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

যশোরে দুর্গাপূজায় বাজেটে টান

সুনীল ঘোষ :

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতিবছর বিগ বাজেট থাকে আয়োজক কমিটির। কিন্তু এবছরের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। করোনার ধাক্কায় স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা এখনো সচল হয়নি। সেই সাথে জিনিসপত্রের দাম ছুঁয়েছে আকাশ ! ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালাতেই নাভিঃশ^াস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের। এর ফলে স্থানীয়রা চাঁদা দিতে পারছেন না। সরকারি অনুদানের পরিমাণও বাড়েনি। এরফলে টান পড়েছে বাজেটে।

যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাব মতে, এবছর ৭০৩টি মন্দির ও ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর পূজার সংখ্যা বেড়েছে ১৯টি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৮৪।

বিজয়নগর কুন্ডুপাড়ায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দুর্গাপূজা হচ্ছে। কমিটির সম্পাদক মিলন কুন্ডু জানান, বাজেটে টান পড়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবছর যে চাঁদা দেন, এবার তার অর্ধেকও দিতে পারছেন না। কিন্তু প্রতিমা তৈরি, ডেকারেশন ও অন্য সরঞ্জামসহ জিনিসের দাম বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। সরকারি অনুদানের পরিমাণও বাড়েনি। সবমিলিয়ে আয়োজক কমিটি চেষ্টা করছে বাজেট কমিয়ে আনার। কিন্তু সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।

যশোর শহরতলীর একটি মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদক জানান, এবছর পুজোর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি বাজেট। মন্দির এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের থেকে চাঁদা পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁদা আদায় করতে গেলে বাকবিত-া হচ্ছে। অনেকে মারমুখী আচরণ করছেন। মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দায়দেনা হয়ে আছি। এখন দুর্গাপূজাতেও দেনার ভার ঘাড়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, শহরের বেশকিছু মন্দিরে নিয়মিত রোজগার হয়। প্রচুর ফান্ড রয়েছে। কিন্তু গ্রামের মন্দিরগুলোর ফান্ড নেই। ফলে শহরের মতো গ্রামের ম-পগুলো পায়নি দৃষ্টিনন্দন রূপ। তাদের দাবি, বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু তারপর খরচ দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বকচর এলাকার প্রতিমা শিল্পী গোপাল পাল বলেন, অধিকাংশ মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ সামান্য কিছু বায়না দিয়ে প্রতিমার অর্ডার দেন। পূজো শুরুর দু-একদিন আগে পুরো টাকা পরিশোধ করে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যান। এবছর অধিকাংশরাই অর্ধেক টাকাও পরিশোধ করতে পারেননি। এখন কর্মচারীদের বেতন দেয়া নিয়ে বিপাকে আছি।

চাড়াভিটার ডেকারেশন মালিক তুষার সাহা জানান, এবছর দুটি মন্দিরের অর্ডার নিয়েছি। কিন্তু সাজসজ্জা শেষে মনে হচ্ছে লোকসান গুণতে হবে। আয়োজকদের লক্ষণও ভাল মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত টাকা বাকি রাখলে পথে বসতে হবে। অনুরূপ মন্তব্য করেন যশোর শহরের বড়বাজারের ডেকোরেটর অশোক দাস।

ঘুরুলিয়ার ঢাকি বিনয় দাস বলেন, এবার এক ঢাক এক কাশির বায়না নিয়েছি ২৫ হাজারে। দুই হাজার টাকা অগ্রিম পেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো টাকা পাবো কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

শহরের ষষ্ঠীতলা মন্দিরের সভাপতি সত্যপদ রায় বলেন, আমাদেরও সেভাবে কালেকশন হয়নি। এবার পকেট থেকে কত গুণতে হবে-তা বোঝা যাচ্ছে না।

যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অঞ্জন সাহা দৈনিক কল্যাণকে বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল নেই। স্থানীয়রা আগের মতো চাঁদা দিতে পারছেন না। বেশকিছু মন্দির কমিটির নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ফলে বাজেটে টান পড়বে বলেই ধারণা করছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে নেদারল্যান্ডস

কল্যাণ ডেস্ক : নিজের হাজারতম ম্যাচের দিনে সকারুদের হটিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন লিওলেন...

সকালেই কানায় কানায় ভরে গেছে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড

কল্যাণ ডেস্ক : চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডসহ আশেপাশের এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রোববার দুপুর ২টা থেকে...

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক : ভালো-মন্দ মিলিয়েই গতকালের দিনটা গেল ব্রাজিলের। একদিকে হাঁটুর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকেই...

আজকের নবীন অফিসাররাই হবে ২০৪১-এর সৈনিক

কল্যাণ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, '২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে...

টুকু-নয়ন গ্রেফতার: যুবদলের বিক্ষোভের ডাক

কল্যাণ ডেস্ক : রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে আমিনবাজারে গ্রেফতার হয়েছেন যুবদল সভাপতি...

খালেদার বাসার সামনে তল্লাশিচৌকি, রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনের সড়কের দুই পাশে...