মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

যশোরে বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে জখম ১০

কল্যাণ রিপোর্ট : সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দীপ্ত করতে ভেতরে চলছিলো কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রেরণাদায়ী ভাষণ। আর বর্ধির সভা স্থলের বাইরের চলছিলো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি গ্রুপ। তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। একে অন্যের ওপর হামলার সময় ছুরিকাঘাতে ১০ জন আহত হয়। ১৫ বছর অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভা ঘিরে গতকাল যশোর শহর হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। তবে পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারীদের নিজেদের ভেতর মারামারিতে ছুরিকাঘাতে ৩ জন জখম হয়েছে। বর্ধিত সভার কোনো সম্পর্ক নেই।

যুবলীগের বর্ধিত সভাস্থল শহরের সিসিটিএস মিলনায়তনের আশপাশে দলে দলে জড়ো হতে হন নেতাকর্মীরা। সভার শুরুর অনেক আগে থেকেই জড়ো হন তারা। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। শহরের ঈদগাহ্ মোড় ও মাইকট্টি এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। এসময় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

আহতরা জানান, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বিপুলের নেতৃত্বে সভায় যোগ দেয়ার সময় অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে এ ঘটনার সঙ্গে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

যুবলীগের শীর্ষ প্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে সিসিটিএস প্রাঙ্গনে জড়ো হন। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক কিশোররাও জড়ো হয় সেখানে। সেখানে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলো, শহরতলীর বিরামপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২০), সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আকিদুল ইসলাম (১৭), শহরতলীর মুড়লী এলাকার আবু সফিয়ানের ছেলে রাব্বি (১৮), সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে শামিম হোসেন (১৮), শহতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার মুরাদের ছেলে রাসেল (১৭), শহরের চাঁচড়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে জয় আহমেদ (১৭), ধর্মতলা এলাকার বাদল গোপালের ছেলে গোষ্ট গোপাল (২০), একই এলাকার স্বপন সরকারের ছেলে সোহাগ (২১), শহরের আরএর রোড এলাকার শফি ড্রাইভারের ছেলে হ্যাপি (১৭) এবং সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে টিটো (১৮)।

আহতদের মধ্যে রাসেল, হ্যাপি, খায়রুল, টিটো, আকিদুল ও রাব্বিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে টিটো, রাব্বি ও খায়রুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুবলীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, রোববার যশোরে সিসিটিএস প্রাঙ্গনে যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহরের গাড়িখানা রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে উভয় গ্রুপের কর্মী সমর্থকরা জড়ো হয় এবং স্লোগান দিতে থাকে। সে সময় রাস্তায় অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে কর্মীরা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছুরিকাঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রাসেল বলেন, সকালে যুবলীগের বর্ধিত সভায় মিছিল নিয়ে শহরের চিত্রার মোড়ে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে আসছিলাম। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঝালাইপট্টি পৌছালে হ্যাপি তার লোকজন নিয়ে আমাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে আসি।

আহত হ্যাপি জানান, রাসেলকে কে বা কারা ছুরি মেরেছে আমার জানা নেই। যুবলীগের মিছিল শেষে রাসেল লোকজন নিয়ে আমাকে ছুরি মেরে আহত করেছে। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। একই ঘটনায় খায়রুলকে টাউন হল ময়দানে ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। তারা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আরএন রোডে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছিনতাইকারী হ্যাপি তার ব্যক্তিগত পূর্ব আক্রোশে শামীম নামে একজনকে ছুরিকাঘাত করে। এরই জের ধরে শামীমের লোকজন দুপুর দেড়টার দিকে জজ কোর্ট মোড়ে টিটো, হ্যাপি, খাইরুলসহ অন্যদের ছুরিকাঘাতে জখম করে। এ ঘটনার সাথে যুবলীগের বর্ধিত সভার কোন সম্পর্ক নেই। তারা কোন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আরএন রোডে ছিনতাইকারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তিনজন ছুরিকাঘাতে জখম হয়েছে বলে শুনেছি। বাকিদের কথা বলতে পারবো না।
যুবলীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ১৮ বছর পর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সভা হয়েছিল ২০০৩ সালে। ১৮ বছর পর এসে যুবলীগের শীর্ষ পদ নিতে অনেকে মরিয়া। এদের মধ্যে অন্যতম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল। এছাড়া আরো অনেক ছাত্রলীগের নেতা শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহী। শহরের মুসলিম অ্যাকাডেমির সামনে সিসিটিএস প্রাঙ্গনে সভার স্থান নির্ধারণ করা হলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয় যুবলীগের নেতা কর্মীরা। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক কিশোর সন্ত্রাসীরাও জড়ো হয় বিভিন্ন রাস্তা ও ময়দানে। মূলত পদ প্রত্যাশীরা নিজেদের অবস্থার জানান দেয়ার জন্য এদের জড়ো করে। সে কারণে রাস্তায় অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

মরুর বুকে সাম্বার ছন্দ

ক্রীড়া ডেস্ক : হলুদ জার্সি, নীল শর্টস। সেই চেনা সাম্বা। এই ব্রাজিলকেই তো ভালোবাসেন বিশ্বের...

টাইব্রেকারে জাপানের স্বপ্নভঙ্গ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ফুটবলে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ ছিল জাপানের। সে লক্ষ্যে এবার...

সাতক্ষীরায় সাবিনা ও মাসুরাকে সংবর্ধনা

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাতক্ষীরার কৃতি...

বাড়ির চারপাশ কাটা দিয়ে ঘিরেছে প্রতিপক্ষ

তালা প্রতিনিধি: জমি দখলের জন্য তালার বাউখোলা গ্রামে ভ্যানচালক আয়ুব আলীর বসত বাড়ির চারপাশ...

পাইকগাছায় নিসচা’র উদ্যোগে ছাগল বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) পাইকগাছা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ...

মণিরামপুরে কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহতদের পরিবারকে সহায়তা

মণিরামপুর প্রতিনিধি: কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত ৫ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে...