Saturday, August 20, 2022

যশোরে ভাটা শ্রমিক ফাহিমা হত্যা : স্বামী আটক, আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ভাটা শ্রমিক ফাহিমা বেগম হত্যা মামলায় তার স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়লকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। শুক্রবার স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে জাহাঙ্গীর মোড়ল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আটক জাহাঙ্গীর মোড়লের বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামে।

এই ঘটনায় নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম শেখ যশোর কোতয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, নিহত ফাহিমা বেগম সাতক্ষীরার তালা উপজেলার চরগ্রামের মৃত আনসার আলী শেখের মেয়ে। ২১ বছর আগে জাহাঙ্গীর মোড়লের সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের মরিয়ম (১৮) ও মুশফিকা (১১) নামে দুইটি মেয়ে আছে। অভাব অনাটনের সংসারে স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই ইট ভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

সাতপাখিয়া গ্রামের ইসমাইল সরদারের সাথে তারা গত ১ ডিসেম্বর যশোরের নারেন্দ্রপুরের দফাদার ভাটায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে আসেন। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ হওয়ায় এক সপ্তাহ কাজ তারা বাড়িতে ফিরে যায়। গত ১৫ ডিসেম্বর তারা ফের যশোরে কাজ করতে আসেন। ওই দিন বিকেলে দুই মেয়ের সাথে ফাহিমার কথা হয়। কিন্তু পরে আর মোবাইলে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে শ্রমিক সরদার ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তার বোন ফাহিমা ও ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর ভাটায় আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে তাদের কোন সন্ধান করতে না পেরে ১ জানুয়ারি তালা থানায় একটি জিডি করেন জাহাঙ্গীর।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে তার এক ভাবি জানান যশোরের নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি সংবাদ শুনে স্থানীয় এক ইউপি মেম্বরকে সাথে নিয়ে যশোরে আসেন এবং বোনের মরদেহ সনাক্ত করেন। তার ধারণা অজ্ঞাতনামা আসামি তার বোন ফাহিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দ্যেশে ট্যাংকির ভিতরে লুকিয়ে রাখে।

কিন্তু রাত হতেনা হতেই পিবিআই পুলিশ ফাহিমার স্বামী জাহাঙ্গীরকে সাতক্ষীরার তালা এলাকা থেকে আটক করে। আটকের পরে প্রাথমিক ভাবে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সেকারণে শুক্রবার জাহাঙ্গীরকে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় বিচারক মাহাদী হাসানের এজলাসে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশের একটি সূত্রে জানায়, ফাহিমা পরপুরুষে আসক্ত ছিলেন। তার স্বামীর শারীরিক দুর্বলতার কারণে ফাহিমা এই কাজ করে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে জাহাঙ্গীর তাকে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করেন। এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিবাদ চলতে থাকে। ১৫ ডিসেম্বর তারা এক সাথে বাড়ি থেকে নরেন্দ্রপুরে যাওয়ার পথে রাতে দুইজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক ফাঁকে একটি লাঠি দিয়ে ফাহিমার মাথায় আঘাত করে জাহাঙ্গীর। তিনি মারা যাওয়ার পর লাশ নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংকির ভেতরে ফেলে তিনি পিরোজপুরে পালিয়ে যান। কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীর বাড়িতে ফেরেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আইন না থাকায় বন্ধ ঘোষিত ক্লিনিক চলছে

গ্রাম্য কথায় আছে ‘বকো ঝকো যাই করো কানে দিয়েছি তুলো/মারো ধরো যাই করো পিঠে...
00:03:31

দুর্বলের অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আবির্ভূত হন যুগাবতার শ্রীকৃষ্ণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ‘তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িয়েছে সে’ প্রসঙ্গ টেনে এমপি কাজী নাবিল আহমেদ...

যবিপ্রবিতে নানা কর্মসূচিতে শুভ জন্মাষ্টমী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আলোচনা সভা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, পূজা অর্চনা, গীতা পাঠসহ নানা কর্মসূচিতে যশোর বিজ্ঞান...

যশোরে মাদকসহ চারজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর কোতোয়ালি থানা ও ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা...

আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে দেশকে দেউলিয়া বানিয়েছে : যশোরে শামসুজ্জামান দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গণসমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আওয়ামী...

যশোরে মারপিটের অভিযোগে দুইজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদরের ইছালী ফুলবাড়ি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের...