যশোরে সাথী ফসলের আবাদ বাড়ছে

যশোরে সাথী ফসলের আবাদ বাড়ছে

সালমান হাসান
কয়েক রকমের সবজির চাষ চলছে একই জমিতে। পটলের মাচার নিচে লাগানো হয়েছে লাল শাক। একই জায়গায় বেড়ে উঠছে পুঁইয়ের লতা। যশোর সদর উপজেলার লেবুলতার বীরনারায়নপুরের অনেক চাষি একই জমিতে মিশ্র ও সাথী ফসলের চাষ করছেন। সমন্বিত এমন সবজির চাষ লাভজনক বলছেন তারা। এরকম দৃশ্য শুধু বীরনারায়নপুরের নয় উপজেলার অনেক জায়গায় এভাবে সবজির চাষ চলছে।

কৃষকরা বলছেন, একসাথে এভাবে রকমারি সবজি চাষে তাদের লাভ হয়। কোনটিতে লোকসান হলে অন্যটিতে পুষিয়ে যায়। এভাবে চাষাবাদও সুবিধাজনক। সবকটি ফসলের সেচ, সার ও বালাইনাশক দেয়ার কাজটিও একইসাথে করা যায়। এতে খরচ কম হওয়ায় লাভ হয় বেশ।

যশোর সদরের অনেক জায়গায় কৃষকরা একই জমিতে কয়েক রকম সবজির মিশ্র চাষাবাদ করছেন। একটি ক্ষেতে চলছে ঢেঁরস, বেগুন ও লাউয়ের চাষ। কারোর ক্ষেতে আছে পটল, লাল ও পুঁইশাক। কৃষকরা লাভ করছেন ৩ থেকে ৪ গুণ। লেবুতলার বীরনারায়নপুর মাঠে ক্ষেত থেকে লাল শাক তুলছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। দেখা গেলে, একই জমিতে তিনি পটলের মাচা করেছেন। তার নিচে বেড়ে উঠে লাল শাক। একই ক্ষেতে আছে পুঁইশাকও।

আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১৬ শতক জমিতে সবজির চাষ করেছেন। মাঁচায় পটল বাড়ছে। এরমধ্যে লালশাক বড় হয়ে গেছে। প্রতি কেজি লাল শাক ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। মুঠো হিসেবে নিলে ১০ টাকা। প্রতি শতকে লাল শাকের ৩০ কেজিরও বেশি ফলন হয়েছে। পুঁইশাকও বিক্রি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস বলছে, একই জমিতে দুই তিন রকমের ফসলের আবাদ হলে তাকে বলে মিশ্র চাষ। এছাড়া একটি চাষ শেষ আরেকটির শুরু এরকম আবাদকে বলে সাথী ফসল। একই সময়ে একই জমিতে এভাবে কয়েক রকমের সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ক্ষেতে একটি ফসল থাকা অবস্থায় আরেকটি ফসলের চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। কারণ এভাবে অল্প জমিতে অধিক লাভবান হওয়া যায়। একই সঙ্গে কয়েকটি ফসলের মিশ্র চাষে কোন ক্ষতি হয় না বরং লাভ হয়।

সদরের চাঁচড়ার দক্ষিণ সাড়াপোল, মাহিদিয়া, বানিয়াবুহ, রূপদিয়ার বেশ কয়েকটি সবজি ক্ষেতে মিশ্র ও সাথী ফসলে চাষাবাদ দেখা যায়। সাড়াঘুটোর আব্দুর রাজ্জাক ৫ শতক জমিতে ঢেঁড়সের পাশাপাশি বেগুন ও লাউ চাষ করেছেন। ঢেঁড়স ক্ষেতের চারপাশে বেগুনের চারা ও লাউয়ের মাঁচা করেছেন। তিনি জানান, এর আগেও এভাবে সবজির মিশ্র আবাদ করে লাভবান হয়েছেন। ঢেঁড়সের পাশাপাশি ইতোমধ্যে লাউ ও লাউশাকও বিক্রি করেছেন। ক্ষেতের বেগুনও বড় হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ^াস জানান, কৃষদের এক ফসলে না থাকতে তারা পরামর্শ দেন। চাষিরাও এটা বুঝে গেছে এক ফসলে থেকে লাভ কম। এজন্য তারা একই জমিতে মিশ্র ও সাথী ফসলের আবাদ করেছেন। এতে তাদের বাড়তি লাভ হয়। কারণ বাড়তি সার ও বালাইনাশকের দরকার পড়ে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে