রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

যশোরে স্বাভাবিক জীবনে দেড়হাজার ক্লাবফুট শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যশোরে গত ১৩ বছরে প্রায় দেড় হাজার ক্লাবফুট (মুগুর পা) শিশুকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে ‘ওয়াক ফর লাইফ’। দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘ওয়াক ফর লাইফ’ বিনামূল্যে এই চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আগামী দু’বছরের জন্য স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’র সহযোগিতায় ‘ওয়াক ফর লাইফ’ ক্লাবফুট (মুগুর পা) শিশুদের চিকিৎসায় নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের পরিচিতি সভায় ‘যশোরকে ক্লাবফুট ফ্রি’ জেলায় পরিণত করার প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়।

প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত প্রকল্প পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) রফিকুল হাসান। ক্লাবফুট (মুগুর পা) ও এর চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুর রউফ। বক্তব্য রাখেন যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহনেওয়াজ, যশোর সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান তুহিন, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিণ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকল্প প্রতিনিধি ও ফিজিওথেরাপিস্ট কাজী মুন ই মুল হুদা ও এডাব যশোরের সহসভাপতি শাহজাহান নান্নু।

সভায় আয়োজকরা জানান, জন্মগত প্রতিবন্ধিতার মধ্যে অন্যতম ক্লাবফুট বা মুগুর পা (বাঁকা পা)। এমন পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবার ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার শিশু ক্লাবফুট নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। এই শিশুরা বিভিন্নভাবে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে পরবর্তীতে পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযাপন করে। জন্মের পরপরই ধারাবাহিকভাবে যথাযথ চিকিৎসা করলে এই মুগুর পা সমস্যা ভালো হয়।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুর রউফ বলেন, জন্মের পরপরই ক্লাবফুটে চিকিৎসা দিলে এসব শিশু স্বাভাবিক হয়ে যায়। ২০০৯ সাল থেকে ‘ওয়াক ফর লাইফ’র সহযোগিতায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ বছরে এখানে দেড় হাজার শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা হয়েছে। এর ৯০ ভাগের বেশি শিশু পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন লাভ করেছে।

প্রকল্প প্রতিনিধি ও ফিজিওথেরাপিস্ট কাজী মুন ই মুল হুদা বলেন, প্রথমে জেলায় ক্লাবফুট বা মুগুর পা সম্পর্কে জানতো না। কিন্তু এখন সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক শিশু এই চিকিৎসা গ্রহণ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় এখন যশোর রোটারি হেলফ সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ক্লাবফুট নিয়ে জন্মগ্রহণের পর থেকে তিনবছর বয়স পর্যন্ত ক্লাবফুটের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে জন্মের এক, দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশুর চিকিৎসা শুরু করা হলে সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। আগে পুরোপুরি বিনামূল্যে এই সেবা দেয়া হলেও এখন নামমাত্র সেবামূল্য নেয়া হচ্ছে। তবে দরিদ্র রোগীদের জন্য এই চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হবে। যাতে শিশুর মুগুর পা নিয়ে অভিভাবকরা বাড়িতে বসে না থাকেন। এভাবে ‘যশোরকে ক্লাবফুট ফ্রি’ জেলায় পরিণত করার টার্গেট নেয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

মায়ের সন্ধানে পথে পথে ছেলে

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...

কেশবপুরে ভাটা মালিক ও সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

গৌরীঘোনা প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে ভাটা মালিক ও সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। চুকনগর-সোলঘাতিয়া সড়কের...