শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২

যশোর অঞ্চলকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

একনেকে ১৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রদ প্রযুক্তি ব্যবহারে উচ্চ মূল্য ফসলের

 

উৎপাদনশীলতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি ও ব্যয় ২০ শতাংশ কমবে

এইচ আর তুহিন: উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন, শস্য উৎপাদনে বৈচিত্রতা আনা, নিরাপদ ফসল উৎপাদন, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষি বাণিজ্যিকীকরণসহ নানা সুবিধা দিতে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৮ হাজার ৬২০ জন কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় উচ্চমূল্যের নিরাপদ ফসল উৎপাদন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হবে। এছাড়া ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ মূল্য ফসলের উৎপাদনশীলতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় ২০ শতাংশ কম করে কৃষিকে লাভজনক করা হবে।

পাশাপাশি খোরপোশ কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের জন্য ১ হাজার ৮০০ জন শিক্ষিত তরুণ ও নারী কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। ‘যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদিত এ প্রকল্প ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।
প্রকল্পে বলা হয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদাপূরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সকল পর্যায়ে কৃষককে লাভজনক করা আবশ্যক। এ উদ্দেশ্য অর্জনে উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন, টেকসই কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, সংগ্রহ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষির মূল ধারায় অর্ন্তভূক্ত করা অপরিহার্য। বাংলাদেশে পুষ্টিকর উচ্চমূল্যের শস্য উৎপাদন, কৃষি পণ্য বিপণনে অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগানো, শিক্ষিত নারী, তরুণ ও যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে অবদান রাখার জন্য প্রকল্পটি করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৩৪ হাজার ৬৬২টি কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এছাড়া ৬২টি কৃষি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ, ৩১৮টি বিদ্যুৎবিহীন কুলিং চেম্বার, ৯৩টি কৃষি প্রযুক্তি মেলা, ১২৪টি উদ্বুদ্বকরণ ভ্রমণ, ৩ হাজার ৪৬৬টি মাঠ দিবস আয়োজন, ২ হাজার ৬৯২ ব্যাচ অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং ৩০ হাজার ৯৫৯টি কৃষি সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে।

যেসব উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে
প্রকল্পের আওতাভূক্ত জেলা ও উপজেলাগুলো হচ্ছে- যশোরের সদর, শার্শা, মণিরামপুর, কেশবপুর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া এবং অভয়নগর উপজেলা। মাগুরার সদর, শালিখা, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর উপজেলা। ঝিনাইদহের সদর, মহেশপুর, হরিণাকু-, কোটচাঁদপুর, শৈলকুপা এবং কালীগঞ্জ উপজেলা। কুষ্টিয়ার সদর, দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা। চুয়াডাঙ্গার সদর, দামুড়হুদা, জীবননগর, আলমডাঙ্গা এবং মেহেরপুরের সদর, মুজিবনগর এবং গাংনী উপজেলা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি নেওয়ার আগে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তি এবং কার্যক্রম প্রতিপালন করে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের স্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকল্পের ঝুঁকি হিসাবে যশোর অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ,বারিড পাইপ সেচ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, নিরাপদ উপায়ে চারা উৎপাদন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, ‘যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবভিত্তিক। সরকার একটি সময় উপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে। উপকৃত হবে কৃষক।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির পুরোটা আমার দেখা হয়নি। তবে যতটুকু জেনেছে খুলনা বিভাগের যশোর অঞ্চলে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন, শস্য উৎপাদনে বৈচিত্রতা আনা হবে। এছাড়া নিরাপদ ফসল উৎপাদন, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্ত সৃষ্টি, কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ এবং জাতীয় পুষ্টির চাহিদাপূরণ সম্ভব হবে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যশোর বিজিবির অভিযানে ১০ স্বর্ণের বারসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল চুয়াডাঙ্গার লকুনাথপুর থেকে যুবক মারুফ বিল্লাহকে ১০টি স্বর্ণের বারসহ আটক করেছে...

শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের যশোরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুক্রবার শহরের মাইকপট্টি এলাকায় বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের যশোর জেলার প্রথম সম্মেলন...

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সাংস্কৃতিক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর জেলা শাখা সাংস্কৃতিক সমাবেশ...

ফখরুল ও আব্বাসের জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত

কল্যাণ ডেস্ক : পুলিশের উপর হামলা, ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলায়...

মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে আটকের অভিযোগ

কল্যাণ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা...

অভিযোগ তদন্তে যশোর শিক্ষাবোর্ডের কমিটি 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার বিআরএকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের...