যশোর আয়শা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
সভাপতি নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

সভাপতি নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যানের

কল্যাণ রিপোর্ট
যশোর সদর উপজেলার ইছালীর আয়শা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে হট্টোগোল হয়েছে। সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর লাঞ্চিত হয়েছে এমন অভিযোগ শোনা গেলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। প্রভাব বিস্তার, হট্টোগোল, ভয়ভীতির এই নির্বাচনে সভাপতি মনোনীত হয়েছেন রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মাজাহারুল ইসলাম।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইছালীর আয়শা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় গত ২১ অক্টোবর। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী অভিভাবক সাধারণ শ্রেণিতে চারজন, মহিলা সংরক্ষিত সাধারণ শ্রেণিতে একজন, শিক্ষক প্রতিনিধি সাধারণ শ্রেণিতে দুইজন এবং সংরক্ষিত মহিলা শ্রেণিতে একজনসহ ৮ জন মনোনয়ন গ্রহণ করেন। ৩১ অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনে কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এবং অতিরিক্ত কেউ মনোনয়ন না নেয়ায় ৮জনের সকলে মনোনীত হন।
তারা হলেন, অভিভাবক সাধারণ শ্রেণিতে জগমোহনপুর গ্রামের ফারুক হোসেন ও মশিউল আজম, হাশিমপুর গ্রামের নওশের আলী মন্ডল, হুদারাজাপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা শ্রেণিতে রাজাপুর গ্রামের সেলিনা খাতুন, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসাবে ওই বিদ্যালয়ের এনামুল কবীর ও আলমগীর হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী শিক্ষক প্রতিনিধি হিসাবে সুরাইয়া পারভীন।

নিয়মানুযায়ী এই ৮জন ভোট দিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করবেন। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বতর্মান আহবায়ক কমিটির প্রধান মাজাহারুল ইসলাম এবং সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল রোববার সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কক্ষে সভাপতি পদে নির্বাচন হওয়ার দিন ছিল। সেখানে আগেই হাজির হন দু’জন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। সেখানে উপস্থিত হন যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সরকারি দলের বেশ কয়েকজন নেতা। মৌখিকভাবে ভোট চাইতে গেলে সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টোগোল বাধে। তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ৫ জন থাকেন বাকিরা বেরিয়ে যান। পরে নওশের আলী, সেলিনা খাতুন ও মনিরুল ইসলাম ফের কক্ষে ঢোকেন এবং তারা ভোট দান থেকে বিরত থাকেন।

এ বিষয়ে আয়শা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচনের দিন তিনিসহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। ৮জনের মধ্যে ৫জন ভোট দিয়ে মাজাহারুল ইসলামকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। সেখানে হট্টোগোলের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেছেন, তেমন কিছু হয়নি। নির্বাচনের সময় হাত তোলা বা সমর্থন নিয়ে বাইরের কিছু লোক হঠাৎ করে হট্টোগোল শুরু করে। এরপর তিনজন বেরিয়ে যান। কিছু সময় পর তারা আসেন কিন্তু ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ভোট গ্রহনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধি উপস্থিত থাকলে ভোটাররা সঠিকভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সমস্যায় পড়েছেন কি-না এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধি অফিসে আসলে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই। তবে যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলো বা যেভাবে সম্পন্ন হয়েছে এটা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে