Wednesday, May 25, 2022

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জোড়াতালি অবস্থা

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার এক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে দৈনিক কল্যাণে। পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫জন। হাসপাতালের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী পরিচালকের প্রধান দুটি পদ আজও সৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে একজনকে সংযুক্তি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক পদটি চালনো হচ্ছে। চেইন অব কমান্ড দুর্বল থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রমে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। যেসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত ্আছেন তারা ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যক্তিগত বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার রোগি। যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে রোগি আসে। ডাক্তার সংকটের কারণে রোগিরা সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।

দূর-দুরান্ত থেকে আসা রোগিদের টিকিট কাটতে সময় লাগে এক ঘন্টার বেশি। তারপর আছে টেস্ট, ডাক্তার দেখানোসহ আরো নানা বিড়ম্বনা। অর্থাৎ টানা অপেক্ষার পর টিকিট পেলেও পরের দুটি কাজ করতে গেলে দ্বিতীয় দিন আবার যেতে হয়। এক কথায় এ হাসপাতালে চিকিৎিসা নিতে গিয়ে ধৈর্যহারা হয়ে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য গতানুগতিক, টিকিট কাউন্টার বাড়ানো হবে।
যশোর জেনারেল হাসপাতাল জেলার সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র। কিন্তু রোগিদের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। অথচ সরকার এর জন্য মোটেই দায়ী নয়। দায়ী এ হাসপাতালে কর্তব্যরত কর্তাব্যক্তিরা। তারা বিষয়গুলো দেখেন না। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে মাসের দিকে। কবে মাস যাবে আর এক কাড়ি টাকায় পকেট ভরে বাসায় ফিরবে।

কোন রোগি যদি সমস্যার কথা তুলে ধরেন তাহলে ধাতানি দিয়ে হয়তো কর্তাব্যক্তিরা বলবেন যদি সহ্য না হয় তাহলে সরকারি হাসপাতালে এসেছেন কেন। বিষয়টা হলো সরকারি হাসপাতাল মানে মনে হয় রোগিদের প্রতি অবহেলা আর উদাসিনতা। যদি কেউ বলেন একটু কষ্ট তো হবেই, তাহলে তাদের উচিত এক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্টটা কাকে বলে তা উপলব্ধি করা। দায়িত্ব নিলে কর্তব্য পালন করতে হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতির মীমাংসা তাদেরই করতে হবে। মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে টাকা ঢালছেন আর কর্মকর্তরা সে সেবা নিশ্চিত না করায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে তা হতে পারে না। কাউন্টার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেছেন সমস্যা সমাধানে কাউন্টার বাড়ানো হবে। কিন্তু না বাড়িয়ে গ্রাম্য কথায় ‘আঙুলে পাচিল’ দিচ্ছেন কেন। মানুষের দুর্ভোগ কোন মাত্রায় উঠলে কাজটি তিনি করবেন এটাই আজ প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে যে অবস্থা চলছে তাতে মানুষ এখানে চিকিৎসা না নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ছুটবে। আর এজন্য তো ওই সব হাসপাতালের দালালরা আছেই। চিকিৎসা নিতে এসে রোগিরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এসব সহমর্মীতার কথা উচ্চারণ করে রোগি ভাগাতে দালালদের বেশ সুবিধে হচ্ছে। এ কথা সবার জানা বেসরকারি হাসপাতাল মানে গলাকাটা প্রতিষ্ঠান। সরকার যেখানে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন সেখান বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হবে কেন। আমরা মনে করি মানুষের সেবায় বিশেষ করে সাধারণ গরিব মানুষের সেবায় যশোর জেণারেল হাসপাতালের যত অব্যবস্থার নিরসন হোক। মানুষ চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ জীবন যাপন করুক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চুকনগর গণহত্যা জেনোসাইড হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি চাই

কাজী বর্ণ উত্তম: চলুন ফিরে যাই সেই ১৯৭১ সালে। চারিদিকে অন্ধকার অনিশ্চয়তা, নিজের বসত...

যশোরে দিবালোকে ব্যবসায়ীর আড়াই লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের মুজিব সড়কে দুই নম্বর আইনজীবী ভবনের সামনে গতকাল দুপুর পৌনে...

মিথিলার প্রেমে পড়ার ‘গুঞ্জন’!

বিনোদন ডেস্ক: গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর একসঙ্গে কাজ করতে...

খুলনায় ধর্ষণ মামলা আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

খুলনা ব্যুরো: খুলনার বটিয়াঘাটায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবুল আলীকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে...

যুদ্ধাপরাধী আমজাজ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইসিটি বিডি কেস নং - ১০/২০১৮ সংক্রান্তে যশোর জেলার...

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় কিশোরসহ নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে যশোরের কেশবপুরে মামা বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় ট্রাক চাপায় এক...