মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আ.লীগের গ্রুপ রাজনীতি চাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সাইফুজ্জামান পিকুল আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। তবে সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যের ক্ষেত্রে প্রার্থীতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের সব পদে সব ওয়ার্ডেই ভোটযুদ্ধে নেমেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। কেউ কেউ তার বলয়ের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ ও পরামর্শে প্রার্থী হয়েছেন। নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্র। এতে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি চাঙ্গা হচ্ছে গ্রুপ রাজনীতি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির যুগ্ম মহাসচিব মারুফ হোসেন কাজল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ পদে সাইফুজ্জামান পিকুলের জয় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ সদস্য পদে আট ওয়ার্ড থেকে ৪০ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের তিন ওয়ার্ড থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ১৪ জনের মধ্যে ভোটের লড়াইটা জমে উঠবে। কারণ দুই-একজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রার্থী হলেও বেশিরভাগই জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগনেতাদের আশীর্বাদ নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, সদস্য ও মহিলা সদস্য পদে একক প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে যে যার মতো প্রার্থী হচ্ছেন। আমি যেহেতু ভোটার না; তাই আমি কারো পক্ষে নেই।

এদিকে এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সালেহ আহমেদ মিন্টু ও সহিদুল আলম। তারা আলাদা গ্রুপ করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন সালেহ আহমেদ মিন্টুকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তার অংশের নেতাদের নিয়ে মিন্টু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অবশ্য তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সহিদুল আলম সেভাবে নেতাকর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তবে তার সাথেও দলের একটি অংশের নেতাকর্মী রয়েছেন।

দুই নম্বর ওয়ার্ড থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইমামুল হাবিব, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইকবাল আহমেদ, আনারুল ইসলাম ও সুরত আলী। এরমধ্যে ইকবাল আহমেদ ছাড়া অন্য চারজন নতুনমুখ। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মী নিয়ে তারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তিন নম্বর ওয়ার্ড চৌগাছা থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দেওয়ান তৌহিদুর রহমান, কামরুজ্জামান, আসাদুল ইসলাম ও আহসান হাবীব। তারাও স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই অংশের নেতা।

সাধারণ চার নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রদীপ দে, আব্দুর রউফ মোল্লা, জিএম মনিরুজ্জামান, শেখ মাহবুব উর রহমান, ফারাজী আশিকুল ইসলাম বাঁধন ও এমএম আজিম উদ্দিন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করেন। তারাও নিজ নিজ গ্রুপের নেতাদের আশীর্বাদ নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন জমা দেওয়া জয়নাল আবেদীন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ইউনুছ আলী, এনায়েত হোসেন লিটন ও রাকিব হাসানও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

আর ছয় নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাতজন। তারা হচ্ছেন, জবেদ আলী, শেখ ইমামুল কবির, অহেদুজ্জামান, সুলতান মাহমুদ বিপুল, সোহেল রানা, রাকিবুল আলম রাকিব ও শেখ আব্দুল মতলেব। তাদের জেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়; এদের মধ্যে এক গ্রুপের একাধিক নেতাও রয়েছে। কেউ কেউ শীর্ষ নেতার গ্রিন সিগনাল পেতে শেষদিকে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে সাত নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন গৌতম চক্রবর্তী ও শহিদুল ইসলাম মিলন। এরমধ্যে গৌতম চক্রবর্তী প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে। অন্যজন মিলন গেলবার জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

আর সবচেয়ে বেশি প্রার্থী আট নম্বর ওয়ার্ডে। এখানে জাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন, এসএম মহব্বত হোসেন, সাঈদুর রহমান, মাসুদুজ্জামান, আজিজুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন বিশ্বাস ও নজরুল ইসলাম খানসহ মোট ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন।

অপরদিকে সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ১ নম্বর থেকে রেহেনা খাতুন, হাজেরা পারভীন, রাখী ব্যানার্জী, লায়লা খাতুন, নাছিমা সুলতানা, সান-ই-শাকিলা আফরোজ, মরিয়াম বেগম ও বিলকিস সুলতানা সাথীসহ মোট আটজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাদেরও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গ্রুপের সাথে মিছিল মিটিং করতে দেখা গেছে। আর সংরক্ষিত দুই নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাসরিন সুলতানা, রুকসান ইয়াসমীন পান্না ও নাদিরা বেগম এবং সংরক্ষিত তিন নম্বর ওয়ার্ডে সাহানা আক্তার, নাসিম আরা চৌধুরী ও শ্যায়লা জেসমিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারাও আওয়ামী লীগ পরিবারের। ফলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তাদের লড়তে হবে অন্য গ্রুপের প্রার্থীদের সাথেই।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। এক হাজার ৩১৯ জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহত রনির...

মাতৃদেবীজ্ঞানে আসন নেয় সৃজিতা ঘোষাল

এসআই ফারদিন : সোমবারের সকালটা জেগে উঠেছে ঢাক-বাদ্যের তালে। আর এই ঢাকের তাল বলছে মহা...

এলজিইডি যশোর অফিসের মধ্যে ঠিকাদারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অফিসের মধ্যে হারুণ অর রশিদ নামে এক...

সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান এমপি নাবিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রীতি ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য...

যশোরে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে মেয়ের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে পথ রোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে জখম, শ্লীলতাহানি...

যশোর বঙ্গবন্ধু প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের ‘খ’ গ্রুপের সেরা রাহুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রেলিগেশন এলাকায় থাকা নওয়াপাড়া খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কাছে...