Sunday, May 29, 2022

যশোর পৌরসভায় সভ্যতাবর্জিত কারবার

পৌরসভা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা। এখানে যারা প্রতিনিধি হয়ে আসেন তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কিন্তু কেউ সেটা মনে করেন না। তারা নিজেদেরকে রাজাধিরাজ ভাবেন। ভাবেন যেন জমিদারি পেয়েছেন। প্রজা অর্থাৎ জনগণ সব ‘হরিদাস পাল’। আর তাই তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন না। ‘ফুলের মত চরিত্রের অধিকারী ওমুক নেতাকে ভোট দিয়ে জনগণের খেদমত করার সুযোগ দিন’ এমন কথার পোস্টারে স্লোগানে এলাকা মাতিয়ে তোলা হয়। কিন্তু কোন রকমে একবার চেয়ারে বসতে পারলে ওই সব কথা আর মনে থাকে না। সভ্যতা বর্জিত আচরণ করেন তারা। এ ক্ষেত্রে নিন্দুকের কথাটাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়। নির্বাচনী ব্যানারে-পোস্টারে লেখা থাকে ‘প্রচারে এলাকাবাসী’। কিন্তু আসলে তো তা নয়। প্রার্থীর নিজের টাকায় সেগুলো প্রচার করে জনগণকে ব্যবহার করেন। শুরুতেই যারা মিথ্যচার করেন তারা চেয়ারে বসে ভালো কাজ করতে পারে না। এসব কথার দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন যশোর পৌরসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

জন্মসনদ নিয়ে এ পৌরসভায় চলছে হয়রানির নির্লজ্জ সব কারবার। সার্ভার সমস্যা, ইন্টারনেটের গতি কমসহ নান অজুহাতে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। আর নামে ভুল হলেতো দুর্গতির শেষ নেই। তিন পুরুষের ‘ঠিকুজি’ সংশোধনে অন্তহীন জটিলতা। তবে টাকায় মেলে এসবকিছুর সমাধান। এমন একটি তথ্য নির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে দৈনিক কল্যাণে।

জন্মসনদ নিতে যাওয়া পৌরবাসীর হয়রানির যে চিত্র প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে তা কোন সভ্য সমাজে চলতে পারে না। ১২০০ টাকার ওপর খরচের পরও একজনকে সনদ নিতে দফায় দফায় পৌরসভায় যেতে হচ্ছে, চার সন্তানের জন্মনিবন্ধন সনদ অনলাইন কিনা সেটি জানতে একজনকে গুণতে হয়েছে ৮০ টাকা। সনদের আবেদন ফরম লিখতে প্রতিটির জন্য ৫০ টাকা করে গুণেছেন ২০০ টাকা, চারটি জন্মসনদের নিবন্ধন ফি-বাবদ খরচ করেছেন ৮০০ টাকা। প্রতিটি সনদের জন্য ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। এছাড়াও যেদিনই সনদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে কিনা খোঁজ নিতে আসেন রিক্সা ভাড়ায় ব্যয় হয় ৬০ টাকা। তারপরও পৌরসভায় জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে গিয়ে হাতে পানি। তিনি জানান-সনদ পেতে দেড় মাস ধরে এভাবে ঘুরছেন।

একজন সংশোধিত সনদ পেতে ৮৫০ টাকার ওপর দিয়েছেন। আড়াই মাস ধরে পৌরসভায় ঘোরাঘুরি করেও এখনও নিবন্ধন সনদ পাননি। ফরম নেয়ার সময় একজনের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে রশিদ দিয়েছে ৫০ টাকার। জন্মনিবন্ধন সনদের ভুল সংশোধন করতে ২০০ টাকা ফি নিয়ে ১০০ টাকার রশিদ দেয়া হয়েছে।
১৩ জানুয়ারি জানুয়ারি প্রেসক্লাব যশোরে জন্মনিবন্ধনের সমস্যা নিয়ে একটি মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে, জন্মনিবন্ধন ও এর সংশোধন সনদের কন্ট্রোলিং অথরিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের যশোর উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত বলেছিলেন, এখন থেকে জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমবে। কিন্তু যশোর পৌরসভায় তার এমন ঘোষণার উল্টোটা চলছে।

পৌরসভাটি কি কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতায় চলে? নিয়ন্ত্রণে কি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোন দায়িত্ব নেই? ‘জনগণের খেদমত করার সুযোগ দিন’ প্রতিশ্রুতি কি তারা ভুলে গেছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর দেবার কেউ নেই। তবে তাদের ভুলে গেলে চলবে না তাদের ললাটে লেখা হয়ে যাচ্ছে গণবিক্ষোভের আগুনে ঝলসে যাবার ভবিষ্যৎ বাণী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ছাত্রনেতা শাহীর মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন যশোর...

খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস আজ ফের চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রোববার থেকে ফের কলকাতা-খুলনা রুটে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ রেল চলাচল শুরু হবে।...

রসুনের গায়ে আগুন!

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা ক্ষুব্ধ ক্রেতা, স্বস্তিতে নেই কিছু বিক্রেতাও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: এবার ভোক্তার...

আনারসের পাতা থেকে সুতা সৃজনশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু হলে কি হবে। সম্ভবনা থাকলেই তো আর আপনা আপনি...

দড়াটানার ভৈরব পাড়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আঁখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড কুইন্স হাসপাতালের পূর্ব পাশে ভৈরব নদের পাড়ে মাদকসেবীদের...

আজকের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে অনিবন্ধিত ও নবায়নহীন অবস্থায় পরিচালিত অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার...