যশোর পৌর এলাকার বিধ্বস্ত সড়ক উন্নয়নে দ্রুত ব্যবস্থা চাই

সম্পাদকীয়

‘দৈনিক কল্যাণে ৯ জানুয়ারি ‘ডানে খানা বামে গর্ত : যশোর পৌর এলাকার সব সড়কের একই চিত্র’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। জনদুর্ভোগের একটি বাস্তব চিত্র এ খবরটি। যশোর শহরের এসব সড়ক দিয়ে চলতে গেলে সংগীত বেরসিক মানুষও বাবুল সম্রাট ফকির লালন শাহের গানের চরণ কটি যেন মনের অজান্তে আউড়িয়ে বসেন ‘বড়ির কাছে আরশী নগর/সেথা পড়শি বসত করে/একঘর পড়শী বসত করে/আমি একদিনও না দেখলাম তারে–। এক পশলা বৃষ্টি হলে রাস্তাগুলোর অবস্থা কি হয় তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। পিচের রাস্তা হলেও কোথাও পিচের নাম-গন্ধ নেই। তাই কাদা-পানিতে সয়লাব। এই এলাকার মানুষের চলাচলের আর কোনো মাধ্যম না থাকায় ওরই ওপর দিয়ে কাপড় গুটিয়ে বিরস বদনে চরম বিরক্তিতে চলতে হয়।

গানটির চরণগুলো এ জন্য মনের পর্দায় ভেসে ওঠে যে, এই রাস্তাগুলো তো আর কোনো পাড়াগাঁর অজানা অপরিচিত রাস্তা নয়। তাহলে কেন রাস্তার দিকে পৌর প্রশাসনের নজর নেই? পৌরবাসী কি পৌরকর পরিশোধ করেন না। নাকি ভোট দেয়া না দেয়া নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব আছে। রাস্তার দুরবস্থার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও একবারও গরজ বোধ করছেন না কর্তৃপক্ষ।

রাস্তার এ অবস্থায় রিকশা ইজিবাইক যেতে চায় না। এলাকাবাসী রসিকতা করে বলে রাস্তা খারাপ হওয়ায় উপকার একটা হয়েছে, তা হলো রাস্তায় কাদা-পানির কারণে ছিনতাইকারীরা এ পথ মাড়াচ্ছে না বলে হালে মানুষ বেশ নিরাপদে আছে। ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলছেন, কাকে জানাবেন এই সমস্যার কথা?

মানুষের যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণে পৌরসভাকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পৌরবাসী জানছে যশোর পৌরসভাকে দৃষ্টিনন্দন করতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তার এমন হাস্যকর অবস্থায় থাকবে কেন? রাস্তাতো আর অভিভাবকহীন নয়। যেহেতু প্রায় ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার অভাব দেখা যায়, জবাবদিহিতা নেই যেন কোথাও। তাই বলে জেলা শহরের রাস্তা এভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকবে তা হতেই পারে না। যশোর শহর তো কোনো ছিট মহল নয় যে পররাষ্ট্র রীতিনীতির জটিলতা কাটিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। রাস্তা সংস্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। ছোট ছোট গর্তগুলো সংস্কারের জন্য পৌরসভার মেয়র হায়দার গনি খান পলাশের কাছে দাবিনামা পেশ করা হয়েছে। জনউদ্যোগ যশোরের উদ্যোগে পেশকৃত আবেদনে বলা হয়, যানবাহন বা হেঁটে চলা দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই নতুন নির্মিত সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না করা হলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে, শুধু তাই নয় পরবর্তীতে সংস্কার ব্যয়ও বেড়ে যাবে।

দ্রুত শহরের সড়কগুলোর যেসব স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সেই সব স্থান চিহ্নিত করে সংস্কার করার দাবি জানানো হয়।

মানুষের জন্য সব, মানুষের সুবিধার জন্যই সব ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা মনে করি পৌর মেয়র সড়ক উন্নয়নে উন্নয়নে নজর দেবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে