Saturday, July 2, 2022

যশোর-বেনাপোল সড়ক মরা গাছে মৃত্যুঝুঁকি

ইলিয়াস উদ্দীন, ঝিকরগাছা: যশোর-বেনাপোল রোডের দু’পাশে যমদূত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অর্ধশত মরা গাছ। বর্ষা এবং ঝড়ের মৌসুমে শতবর্ষী রেইনট্রি গাছগুলো মরা, আধমরা এবং শুকিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আতঙ্কে আছেন মানুষ।

গত ৩০ মে গাছগুলো অপসারণের জন্য ঝিকরগাছা এবং শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং মামলা জটিলতা নিয়ে গাছ অপসারণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। অচিরেই এর সমাধান না হলে প্রাণহানির আশংকা করছেন দুই উপজেলার মানুষ।

যশোর-বেনাপোল রোডের ঝিকরগাছা অংশে শতবর্ষী ও নতুন রোপণ করা অন্তত ৩০টি রেইন্ট্রি গাছ মরে আছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলা মোড়ে আছে চারটি, ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ডে চারটি, পারবাজার চারটি, ঝিকরগাছা মহিলা কলেজ মোড়ে তিনটি, বেনেয়ালি বালিখোলায় তিনটি, গদখালী পাঁচটি, নবীবনগর একটি, চারাতলা দুইটি, কলাগাছি দুইটি, নাভারণ পূরাতন বাজারে সড়কের পাশে তিনটি গাছ মরা গাছ রয়েছে।
এসব মরা গাছ ছাড়াও ডালপালা বিহীন অন্তত ২০টি মরা গাছ দাঁড়িয়ে আছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ঝিকরগাছা মহিলা মোড়ে দুইটি, বেনেয়ালি বাজারে তিনটি ও কলোনি বাজারে একটি শতবর্ষী গাছ উপড়ে পড়ে। এই গাছ উপড়ে ফল ব্যবসায়ী কলোনি গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের পুরো বসতভিটা ভেঙে পড়েছিল। মহাসড়ক সংস্কারের সময় গাছের বড় বড় শেকড় কেটে ফেলার কারণে এসব গাছ পড়ে গেছে। অন্য গাছগুলোও ঝুঁকিতে আছে।

মাস দুই আগে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে গদখালী ফুল মার্কেটের শ্রমিক পটুয়াপাড়া গ্রামের আল আমিন আহত হয়েছেন। তার চারটি দাঁত ভেঙে গেছে, এছাড়া মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের ফুলের বাজার গদখালীতে পাঁচটি গাছ মরে গেছে। এখন ঝড় বৃষ্টির সময়, আমরা খুব ভয়ে থাকি।

ঝিকরগাছা সেবা সংগঠনের সভাপতি ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মাস্টার আশরাফুজ্জামান বলেন, পরিবেশবাদীরা ২০১৭ সালে গাছ মারার বিপক্ষে আদালতে রিট করলে গাছ মারার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য স্টে আর্ডার হয়। অথচ আজ পর্যন্ত গাছ মারার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। মানুষের নিরাপত্তায় গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।

যশোর জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, যশোর রোডের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ৭৩৭টি গাছ আছে। এসব গাছের মধ্যে শতবর্ষী পুরাতন রেইন্ট্রির সংখ্যা ৭৪৫টি, নতুন রেইন্ট্রি ৬৮টি, মেহগনি ৫৮৮টি, বট ১৭টি, শিশু ১৫টি, ঝাউ ২টি, আম ৫টি, কাঁঠাল ২৫৭টি, বাবলা ১৩টি, দেবদারু ১৬টি, শিমুল ১টি ও সেগুন ১০টি। যশোর রোডের দুই পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ।

যশোর রোডের পুনঃনির্মাণ ও সম্প্রসারণের সময় অনেক গাছের শেকড় কাটা পড়ায় সেগুলো এখন মানুষের মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ জামান জানান, যশোর বেনাপোল মহাসড়কের প্রাচীন গাছগুলো জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গাছ কাটা যাচ্ছে না।
যশোর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, যদি জেলা পরিষদ আন্তরিক হয়, তাহলে আমি আদালতে রিটকারীদের সাথে সমঝোতা করে গাছ কাটার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কেন বিয়ে করেননি, জানালেন সুস্মিতা

বিনোদন ডেস্ক: কেন বিয়ে করেননি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন; এমন প্রশ্ন...

করোনায় নতুন শনাক্ত ১৮৯৭, মৃত্যু ৫ জনের

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল...

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে যে ভূমিকা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়

কল্যাণ ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে...

যশোরের কেশবপুরে নরসুন্দর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কেশবপুর প্রতিনিধি : জেলার কেশবপুর উপজেলায় নরসুন্দর এক যুবকের গলা ও পেট কেটে হত্যা করেছে...

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...