Sunday, May 29, 2022

যশোর যুবলীগের সম্মেলন পেছাচ্ছে
নেতা শূন্য যশোর, আলোচনায় যারা

সুনীল ঘোষ: জেলা যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে নেতা শূন্য হয়ে পড়েছে যশোর। শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের অনেকেই অবস্থান করছেন ঢাকায়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, তদ্বির ও লবিং-গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে সভাপতি ও সম্পাদকের পদ দুটি পক্ষে আনাই তাদের মূল্য লক্ষ্য। নেতৃত্ব দখলের মিশনে দু’পক্ষই জোর তদ্বির চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে দক্ষ বিচক্ষণ ও ক্লিন ইমেজের নেতা বাছাইয়ে আওয়ামী যুবলীগের নীতি নির্ধারকরাও খানিকটা এগিয়ে গেছেন। এরই মধ্যে সম্ভাব্য কয়েক নেতার নাম চাউর হয়েছে।

এদিকে শীর্ষ পদ দুটিতে নেতা চূড়ান্তকরণে শুক্রবার দুপুরের পরই বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক কমিটি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) সভা চলছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, দেশে করোনার নতুন ধরণ ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হওয়ায় যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলন ২৩ জানুয়ারি হচ্ছে না। সংগঠনটির নীতি নির্ধারক কমিটি সম্মেলনের দিনক্ষণ পেছানোর কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছেন। সম্ভাব্য তারিখ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ হতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যশোর জেলা যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ মুনির হোসেন টগর ও যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন মিঠুর নাম আলোচনায় রয়েছে।

এর মধ্যে জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু যুবলীগ ছাড়ার শর্তে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পান। তার মতো মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীও যুবলীগ ছাড়ার শর্তে আওয়ামী লীগের পদে আসিন হন। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের। শর্ত সাপেক্ষে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। যে কারণে যুবলীগের শীর্ষ পদের জন্য তিনি সিভি জমা দেননি।

সূত্রটি জানায়, তিন জনের মধ্যে রেন্টু চাকলাদার আলোচনায় থাকলেও তার পদ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এসব কারণে অপর দু’জনের মধ্যে যেকোন একজনের ঝুলি সভাপতির পদে ভারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তিন জন। তারা হলেন-যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ রায়। এর মধ্যে দেবাশীষ রায় যশোরের সন্তান হলেও তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকেন। সেখানেই সাংবাদিক পেশায় জড়িত। এসব কারণে যশোরে তার সম্ভাবনা একদমই কম।

যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি পদে ১৬ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৪ জন সিভি জমা দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ সম্ভাব্য পদ প্রত্যাশীর ডেমি হিসেবে কাজ করছেন। কেউ আবার যুবলীগের কমিটিতে ঠাঁই পেতে কেন্দ্রের নজরে থাকতেই জমা দিয়েছেন সিভি।

সভাপতি পদের জন্য সিভি জমা দেয়া উল্লেখযোগ্যরা হলেন- যশোর জেলা যুবলীগের মেদায়োত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ মুনির হোসেন টগর ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন মিঠু।

সম্পাদক পদে সিভি জমাদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন- যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ রায়, যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগের নির্বাহী সদস্য শেখ জাহিদুর রহমান লাবু, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, পৌর কাউন্সিলর আলমগীর কবীর, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মারুফ হোসেন ইকবাল প্রমুখ।

সিভি জমা দিয়েও অনেকেই আলোচনায় আসতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, তাদের মধ্যে অনেকে ক্যাসিনোকান্ড, লটারীর নামে জুয়ার আসর বসিয়ে কোটিপতি বনে যাওয়া, টেন্ডারবাজি, হত্যা ও চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে মামলার আসামি হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের নীতি নির্ধারক কমিটি পদ প্রত্যাশীদের ব্যাকগ্রাউ- খতিয়ে দেখছেন। খুঁজছেন ক্লিন ইমেজের নেতা। যে কারণে নেতা বাছাই পর্বেই ছিটকে পড়েছেন অনেকে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, আমি যশোরে আছি। কিছু জানতে হলে অফিসে আসেন।

যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল জানান, মূল নেতৃত্বে কারা আসছেন তা এখনি বলা মুশকিল। তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি।

সর্বশেষ অবস্থা জানতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা সুব্রত পালের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপরপ্রাপ্ত থেকে বলা হয়, নেতা মিটিংয়ে আছেন। তিনি বলেন মিটিং শেষ করে আসার পর তাকে জানাবো। তিনিই ফোন করবেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সোয়া ৮টা) তিনি ফোন করেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

দুই বছর পর যাত্রা শুরু করলো ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’

আইয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল প্রতিনিধি: করোনার জেরে দু’বছর ধরে বন্ধ ছিল খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস। তবে...

ছাত্রনেতা শাহীর মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন যশোর...

খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস আজ ফের চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রোববার থেকে ফের কলকাতা-খুলনা রুটে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ রেল চলাচল শুরু হবে।...

রসুনের গায়ে আগুন!

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা ক্ষুব্ধ ক্রেতা, স্বস্তিতে নেই কিছু বিক্রেতাও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: এবার ভোক্তার...

আনারসের পাতা থেকে সুতা সৃজনশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু হলে কি হবে। সম্ভবনা থাকলেই তো আর আপনা আপনি...

দড়াটানার ভৈরব পাড়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আঁখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড কুইন্স হাসপাতালের পূর্ব পাশে ভৈরব নদের পাড়ে মাদকসেবীদের...