রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের সামনের অধিক জনচলাচল সড়কই তাদের পার্কিং স্থান। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারগুলো পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেনি। ফলে সদর হাসপাতাল মোড় থেকে নিকুঞ্জ মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কেই রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করতে হয়। আর স্বজনদের মোটরসাইকেলও থাকে এ রাস্তার ওপর। এতে সড়কে যানজট যেন চিরস্থায়ী ব্যাধির রূপ আকার নিয়েছে। ফলে প্রতিদিন যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসা ৫ হাজার হাজার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দাদের। তবে বেসরকারি এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকরা পার্কিংয়ের বিষয়ে দূষছেন বাড়ি মালিকদের। আর যশোরের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, শহরে যানজট নিরসনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক কল্যাণে যশোর শহরের যানজটের এক খ-চিত্র প্রকাশ হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। যশোর শহরের সেই পুরনো চিত্র যানজট প্রকট হয়ে উঠেছে। সেই সাথে সাচ্ছন্দ চলাচলের শহরে পরিণত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সেই আগেকার দিনে দড়াটানা থেকে সিভিল কোর্ট, চৌরাস্তা, সদর হাসপাতাল আর বকুলতলার মধ্যে শহরটা সীমাবদ্ধ নেই। এর ব্যাপ্তি আজ একটা বৃহৎ এলাকা জুড়ে। পরিসর বাড়ার সাথে সাথে শহরে লোক সমাগম বেড়েছে, বেড়েছে যানবাহনও। এ অবস্থায় ট্রাফিক ব্যবস্থা যদি জোরদার করা না যায় তাহলে চলাচলের ক্ষেত্রে তো সমস্যা হবেই। কিন্তু সে দিকে কারো নজর আছে বলে মনে হয় না। যাদের ওপর দায়িত্ব তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সীমা নেই। তারা শহরে বেআইনী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে উদাসীন। যার ফলে আজ শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শহরের ব্যস্ততম সড়কে লেগেই থাকে জানজট। অবৈধ ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও নসিমন-করিমনে ভরে গেছে শহর। রাতে নির্দিষ্ট সময়রে আগে শহরে প্রবেশ করছে ভারী যানবাহন। এসব অবৈধ কর্মকা- দেখার কেউ নেই।

যশোর শহরে ট্রাফিকের কম নয়। এতো লোকবল থাকার পরও যশোর শহরে জানজট লেগেই থাকে। আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলেই যানজট নিরসন কোনো কঠিন কাজ নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো ট্রাফিক আইন মেনে না চলা। আজ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজি বাইকের ওপর যে দোষ চাপানো তা কোনো ক্রমেই যুক্তি নির্ভর কথা নয়। শহরে এগুলো চলাচলের আধিক্য আছে ঠিকই; তাই বলে একটি বাইক অথবা রিকশাও যাত্রী না নিয়ে কি খালি ঘুরে বেড়ায়? যদি যাত্রী নিয়ে চলাচল করে তাহলে বুঝতে মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে এগুলো চলছে। শহরে যানজট যেমন সমস্যা তেমনি যদি যানবাহন সংকট হয় তাহলে সেটা একটা সমস্যা হবে। মোদ্দা কথা হলো শহরের যারবাহন কম-বেশি যাই থাকুক না কেন যদি সেগুলোকে কাতারবদ্ধ করা যায় তাহলে এ সমস্যার সমাধান হবে। এর বিকল্প চিন্তা করে কোন লাভ হবে না।

মানুষের প্রয়োজনে ইজিবাইক, রিকশা প্রভৃতি চলে। কেউ রুটি-রুজির প্রয়োজনে চালায়। আবার কেউ জরুরি প্রয়োজনে তাতে চড়ে। ‘মায়ের মাজার কোথায় আর কানছি কোথায়’ এর মতো চিন্তা-চেতনাহীন পদক্ষেপ নেয়া হলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে নেদারল্যান্ডস

কল্যাণ ডেস্ক : নিজের হাজারতম ম্যাচের দিনে সকারুদের হটিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন লিওলেন...

সকালেই কানায় কানায় ভরে গেছে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড

কল্যাণ ডেস্ক : চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডসহ আশেপাশের এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রোববার দুপুর ২টা থেকে...

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক : ভালো-মন্দ মিলিয়েই গতকালের দিনটা গেল ব্রাজিলের। একদিকে হাঁটুর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকেই...

আজকের নবীন অফিসাররাই হবে ২০৪১-এর সৈনিক

কল্যাণ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, '২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে...

টুকু-নয়ন গ্রেফতার: যুবদলের বিক্ষোভের ডাক

কল্যাণ ডেস্ক : রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে আমিনবাজারে গ্রেফতার হয়েছেন যুবদল সভাপতি...

খালেদার বাসার সামনে তল্লাশিচৌকি, রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনের সড়কের দুই পাশে...