সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

লাউ চাষে সফল উচ্চ শিক্ষিত যুবক মতিউর

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর :

কেশবপুরে মতিউর রহমান নামের এক শিক্ষিত যুবক চলতি মৌসুমে লাউ চাষ করে সাফল্যের পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তিনি ২০১৪ সালে যশোর এম এম কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করার পর দীর্ঘদিনেও চাকরি না পেয়ে কৃষি কাজে উদ্যোগী হন। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করে সঠিক পরিচর্যায় ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণ লাউ উৎপাদন করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই লাউ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের মতিউর রহমান সুজন মাস্টার্স পাশ করেও চাকরি না পেয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করার আশায় পরের এক বিঘা জমি বছরে ৩০ হাজার টাকা হারে বর্গা নিয়ে সেখানে উন্নতমানের লাউ চাষ শুরু করেন। বীজ রোপণের ৪০ দিন পরই লাউ ধরতে শুরু করে। বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতিদিন ১৫০শ’ থেকে দুইশ’ লাউ তুলে প্রতিটি ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করেন। তাতে প্রতিমাসে সব খরচ বাদে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হয়। এখনো জমিতে যে পরিমাণ লাউ আছে তাতে আরও প্রায় ২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

সরেজমিনে মতিউরের লাউ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজের সমারোহ ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। শিক্ষিত মতিউর রহমান এবং দিনমজুর আজহারুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম মনোযোগ দিয়ে লাউ ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। ক্ষেতজুড়ে শত শত লাউ ঝুলে আছে। দিনমজুর আজহারুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম বলেন, মাসিক ১২ হাজার টাকা মুজুরিতে আমরা এই ক্ষেতে কাজ করি। এলাকার অনেকেই লাউ ক্ষেত দেখতে আসেন। অনেক চাষী আগামীতে লাউ চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলকোট গ্রামের নুরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, গাছে এতো পরিমাণ লাউ ধরা দেখে আমি মুগ্ধ। ভাবছি আগামীতে লাউ চাষ করবো। সেজন্য ওই ক্ষেত মালিককে বীজ দেয়ার কথাও বলে রেখেছি।

লাউ চাষী মতিউর রহমান বলেন, ২০০৩ সালে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে শহীদ ক্যাপ্টেন মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১২ সালে যশোর এমএম কলেজ থেকে পলিটিক্যাল সাইন্স নিয়ে অনার্স এবং ২০১৪ সালে মাস্টার্স পাস করি। পাশ করার পর সরকারি কোন চাকরি না পেয়ে কিছুটা হতাশায় পড়ি। কৃষকের ছেলে হয়ে কি আর করবো নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পেশা হিসেবে কৃষি কাজকেই বেছে নিয়েছি। কৃষি কাজে মনোযোগী হয়ে পরের জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ শুরু করি। ২০ শতক জমিতে বাঁশের মাচা, সুতা, বীজ, স্যার ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। লাউ বিক্রি শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছি। এছাড়াও পরিবারের সবজির চাহিদা মিটানো ও অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছি। আগামীতে আরো বেশি জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ বা সহযোগিতা পেলে আগামীতে সবজি চাষ করে আরো বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

 কারা পাচ্ছেন নোবেল পুরস্কার, আজ থেকেই জানা যাবে

কল্যাণ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আগামী ১০...

বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যাবে ইলিশ

গ্রাম্য মাদ্রাসার শিক্ষক আনোয়ারুজ্জান ২০ বছর আগে ইলিশ মাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা ভেবেছিলেন, আজ...

জাতীয় ক্রাশ রাশমিকার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট ‘পুষ্পা’

বিনোদন ডেস্ক: তেলেগু ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমাতে অভিনয় করে ভারতজুড়ে খ্যাতি পেয়েছেন রাশমিকা মান্দানা।...

পাঁচ ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন অ্যাসিডিটি

কল্যাণ ডেস্ক: অ্যাসিডিটির সমস্যা নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। নিয়মিত ওষুধ তো খান,...

যশোরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ঢাকায় গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ নুরুজ্জামান বাবুকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।...

ব্যাটিং ব্যার্থতায় পাকিস্তানের কাছে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া ডেস্ক : থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ঘরের মাঠে নারী এশিয়া কাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে...