মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

লাখো গবাদি পশু নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা

কোরবানী ঈদ

আবদুল কাদের: গতবছর ছিল করোনার ছোবল। কিন্তু আসছে কোরবানী ঈদে সেই প্রভাবমুক্ত থাকবে। যেকারণে জেলার পশু খামারিরা আগেই থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এবারের ঈদে পশুর চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১৮৮টি পশু। আর খামারিদের মধ্যে পশু রয়েছে ৯৫ হাজার ১৫৩টি। এরমধ্যে গরু রয়েছে ২৯ হাজার ১৭০টি ও ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৬৫ হাজার ৯৮৩টি। চলতি বছর গরু-ছাগলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। যেকারণে খামারিরা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের মধ্যে বইছে স্বস্তির বাতাস।

সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের রহেলাপুর গ্রামে ৭০ বিঘা জমির উপর গরু-মাছের খামার গড়ে তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। তার খামারে বর্তমানে ৪২টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে আসন্ন কোরবানী ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ২০টি। তিনি বলেন, আমার খামারের গরুগুলোকে ঘাস, ভূষি,ভাত, খৈল ও এসিআই কোম্পানির ফিড খাওয়ানো হয়। এদের মোটাতাজা করণের কোন ওষুধ সেবন করা হয়নি। খামারে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরু রয়েছে।

অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামে রয়েছে পরশ অ্যাগ্রো লিমিটেডের ২০২টি গরু। গরুগুলো আসছে ঈদে বিক্রি করবে বলে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন করি। আমাদের খামারে সব গরু দেশি প্রজাতির। ক্রেতাদের পছন্দ হবার পর আমরা দরদাম করে গরু বিক্রি করব।

যশোর সদরের বাহাদুরপু গ্রামের জহিরুল ইসলাম ১০টি দেশি গরু লালন পালন করছেন। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে তার ব্যয় হচ্ছে ১৭০-২০০ টাকা করে। তিনি জানান, আমরা আশা করছি এবারের ঈদে গরুর ভালো দাম পাবো। কেননা গতবার চাহিদা অনুযায়ী পশু বিক্রি করতে পারেনি।

অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পূঁজি বিনিয়োগ করে কোরবানির পশু পালন করছেন। আবার অনেকের রয়েছে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবারের কোরবানিতে জেলায় ৯১ হাজার ১৮৮টি গরু ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে জেলার ৮ উপজেলায় ৯৫ হাজার ১৫৩টি পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে ৩ হাজার ৯৬৫টি বেশি গরু ও ছাগল বেশি রয়েছে।

খামারিরা জানান, ভারতীয় গরুর চাপে আগে এই খাতে কোন সুফল পাননি। অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে গত ৪ বছর ভারতীয় গরু না আসায় সুফল আসতে শুরু করে খামারিদের। কিন্তু গত বছর করোনায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছিল খামারিদের। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন তারা।

চৌগাছা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, উপজেলার খামারগুলো কোরবানিতে পশু বিক্রি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণে খামারগুলোতে সকল গরু সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাশিদুল হক জানান, এবারের কোরবানির ঈদে চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। আমরা খামারিদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যশোরে শিশু সানজিদা হত্যার প্রতিবাদে হাজারো মানুষের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশু সানজিদা আক্তার মিষ্টিকে হত্যা ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী। হত্যার ঘটনায়...

‘চাঁদ’ নেমে আসছে দুবাইয়ে, খরচ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

কল্যাণ ডেস্ক প্রেমিকাকে আকাশের চাঁদ এনে দিতে চান? ভাবছেন কী উল্টো-পাল্টা কথা! এ আবার সম্ভব...

চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহত রনির...

মাতৃদেবীজ্ঞানে আসন নেয় সৃজিতা ঘোষাল

এসআই ফারদিন : সোমবারের সকালটা জেগে উঠেছে ঢাক-বাদ্যের তালে। আর এই ঢাকের তাল বলছে মহা...

এলজিইডি যশোর অফিসের মধ্যে ঠিকাদারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অফিসের মধ্যে হারুণ অর রশিদ নামে এক...

সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান এমপি নাবিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রীতি ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য...