Tuesday, August 9, 2022

শার্শায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে এমপি আফিল মাঠে

কল্যাণ রিপোর্ট
যশোর শার্শা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতায় মাঠে নেমেছেন শার্শা আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। মঙ্গলবার তিনি উপজেলার উলশী, বাগআঁচড়া, কায়বা ও গোগা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যান। সহিংসতায় আহত নারী পুরুষের সাথে কথা বলা ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। তান্ডব চালানো সন্ত্রাসীদের সতর্ক করে গোগা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পথ সভায় বক্তব্য দেন এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আর একজন কর্মীর রক্ত ঝরলে সহ্য করা হবেনা।

শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা তা-ব চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। নির্বাচনে বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের লোক সেজে কৌশলে নৌকার পরাজয়ের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে তারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বিদ্রোহীদের সাথে আঁতাত করে এলাকায় ফিরে আসে নাশকতা মামলার একাধিক পলাতক আসামি। তাদের সাথে নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় ছিল বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী পরাজয়ের পর থেকেই ওই সন্ত্রাসীরা গ্রামে গ্রামে তা-ব চালানো শুরু করে। তারা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সাথে মিশে কৌশলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা করছে। তাদের বেপরোয়া তান্ডবে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

উলাশী ইউনিয়নের উলাশী পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আপেল প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী মিলন ও তার ভাই পিকুলের বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরবাড়ি। একই গ্রামের মোস্তফার মুদি দোকানেও হামলা চালানো হয়। বিএনপি সমর্থিত নবনির্বাচিত মেম্বর বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে মকল আলী, হাফিজুরসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। বাগআঁচড়া ইউনিয়নের পিপড়াগাছি গ্রামের নৌকার কর্মী মশিয়ার, আবু কালাম ও তার খালাতো ভাই আবু সালামকে মারপিট করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে সোহেল রানা এলাকা ছাড়া। এছাড়া একই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, কবিরুল ইসলাম বাড়ি, সালাম, তরিকুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলামের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তারা নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস কবীর বকুলের পক্ষে কাজ করার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের সমর্থক ছরোয়ার, ইসমাইল ও শান্তির নেতৃত্বে এই তান্ডব চালানো হয়। কায়বা ইউনিয়নের বায়খোলা গ্রামে নৌকার কর্মী জাহাঙ্গীর আলম পল্টু ও তার ছেলে আহসান হাবীবকে মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। পাঁচ কায়বা গ্রামের খোরশেদ গাজীর বাড়ি হামলা চালানো হয়। এছাড়া সন্ত্রাসী আমিরুল ও ইয়াছিনের হুমকিতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন পাঁচ কায়বার নৌকার কর্মী রোস্তম আলী। ওই গ্রামের জব্বার আলী ও হুদা মোড়লের পাটকাঠি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গাজির কায়বা গ্রামের হাসান আলী জানান, নৌকার পক্ষে থাকায় তার বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক সেজে বিএনপির সন্ত্রাসী সাহেব আলী, জিয়া, কামাল, জাকির, জাহাঙ্গীর, মিজান, মনি মেম্বর ও সবুজসহ আরও কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। হাসান আলীর প্রতিবেশী আব্দুস সালাম জানান, ভোটের রাত থেকে তার মতো অনেকেই বাড়িতে বন্দি জীবন যাপন করছেন। গোগা ইউনিয়নের কালিয়ানী গ্রামের হুমায়ন কবীর জানান, নৌকায় ভোট করে তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। বিএনপির সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে সুযোগ বুঝে প্রতিদিন তা বের মাত্রা বাড়াচ্ছে।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতায় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি বাড়ি ছুটে যান ও তাদের সাথে কথা বলেন। দিনব্যাপি তিনি বাগআঁচড়া, কায়বা ও গোগা ইউনিয়নের নৌকার কর্মীদের খোঁজ খবর নেন। হামলা-মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনী সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিভিন্ন পথ সভায় এমপি আফিল উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সাথে জামায়াত বিএনপির লোক ঢুকে গেছে। তারাই এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে কৌশলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের রক্ত ঝরাচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। হামলাকারীদের মধ্যে অনেক নাশকতা মামলার আসামি রয়েছে। তাদের প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে।

এমপি বলেন, নির্বাচনে ফলাফল যা হবার হয়েছে। এখন কাউকে সহিংসতার সুযোগ গ্রহণের সুযোগ দেয়া যাবেনা। আওয়ামী লীগের কোন কর্মীকে জখম ও নির্যাতন করা, মা-বোনদের ওপর হামলা করাসহ কোন প্রকার সহিংসতা মেনে নেয়া হবেনা।

নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সু-সম্পর্ক বজায় রাখার আহবান জানিয়ে সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিন বলেন, আপনারা সকলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি জামায়াতের ক্যাডাররা আওয়ামী লীগের সাথে মিশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের বাড়ি হামলা ও মারপিট করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের রক্ত ঝরছে আর লাভবান হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। বিষয়টি মনে রেখেই আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম জানিয়েছেন, জামায়াত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগ সেজে কৌশলে নৌকার কর্মীদের ওপর হামলা, মারপিট ও তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যশোরে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে যশোরে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা। কারবালার শোক ও হৃদয়বিদারক...

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় তাজিয়া মিছিল

কল্যাণ ডেস্ক : আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা দিবস। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র...

দুই পক্ষের বিরোধ,সাতক্ষীরা থেকে বাস চলাচল বন্ধ

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা থেকে দূরপাল্লার...

এবার পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের হামলা, ৪২ ফিলিস্তিনি হতাহত

কল্যাণ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে দু’জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।...

জীবন জীবিকায় জ্বালানির জ্বালা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছে ট্রাক মালিকরা। বাস মালিকরা বাড়িয়েছেন যাতায়াত ভাড়া। সবজি...

পবিত্র আশুরা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের...