Tuesday, August 16, 2022

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না

কি কাজ ম্যানেজিং কমিটির তা আজ পর্যন্ত শিক্ষকরাতো বটেই জনগণও বুঝতে পারেনি। এরা চেটেতো খাচ্ছেই তার ওপর গরুর রাখালের মতো আচরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের সাথে। তাও কথা ছিল এই কমিটির যিনি চালিকা শক্তি তার বিদ্যার বহরটি সম্মান করার মতো মাপের যদি হতো। মুর্খ লোকেরা স্থানীয় প্রভাব প্রতিপত্তির বদৌলতে ম্যানেজিং কমিটিতে ঢোকে। যেখানে মানুষ গড়া হয়, বড় মাপের মানুষ তৈরির সূতিকাগার যে প্রতিষ্ঠান তার পরিচালিকা শক্তি যদি বিদ্যাহীনের ঘাড়ে চাপে তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকে সহজেই অনুমেয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো যারা নীতি নির্ধারক তারা বিষয়টা বোঝেন না।

নীতিনির্ধারকরাও তো ওই স্তর অতিক্রম করে আজ শীর্ষে উঠেছেন। তারা যদি একবার ভাবতেন এ ভাবে চলতে পারে না, তাহলে সব সমস্যার সমাধান সহজেই হয়ে যেত। কিন্তু এমন একটি জাতীয় জটিল সমস্যা নিয়ে কেউ কিছু ভাবছেন না। গুণীজনের ওপর মূর্খজনের খবরদারি করতে দেয়া সমীচিন নয়। কেউ যদি বিষয়টা দেখেও না দেখার, বুঝেও না বোঝার ভান ধরেন তাহলে এর ফল শুভ হবে না।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে উচ্ছিষ্ট নিয়ে কুকুরে কাড়াকাড়ির ঘটনাকে হার মানিয়েছে। শোনা যাচ্ছে প্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেই টাকা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধিসহ আর যারা ক্ষতাধর আছে তারা সবাই ভাগ করে খেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এই বাণিজ্যের একটি টাকাও স্কুল ফান্ডে পড়েনি।

ওই স্কুলের মতো আর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ভাবছেন যা পরিস্থিতি তা সামাল দিয়ে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন করাতো কঠিন হয়ে যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সাথে যারা জড়িত তারা সবাই আগেভাগে ভাগ পেতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছে। কত বিদ্যালয়ে এ ভাবে টাকা নেয়া হচ্ছে তা অগোচরে থেকে যাচ্ছে। যখন যে সুযোগ আসে তখনই সে সুযোগের অপব্যবহার করে মানুষ গড়ার পরিচালনার নামধারী পরিচালকরা।

সারা দেশের চিত্র হলো, কমিটির কোনো কাজ নেই, কর্ম নেই, উন্নয়নের ভাবনা নেই, শিক্ষার্থী সংগ্রহের চিন্তা নেই, রেজাল্ট ভালো-মন্দের দায়-দায়িত্ব নেই, স্টাফের বেতন-ভাতা দেবার দায়বদ্ধতা নেই, কাজের নামে আছে শুধু সরকারি যে সব বরাদ্দ আসে তা চেটে পুছে খাওয়া। নিয়োগ বাণিজ্য তাদের বড় ব্যবসা। তারা টাকার লোভে মেধাবীদের বাদ দিয়ে মেধাহীন অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা নাজুক করে তোলে। নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধের লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষক বাদে অন্য শিক্ষক পদে নিয়োগ হয় এনটিআরসির মাধ্যমে। কিন্তু তাতে কিছু হয়নি। তারা ফরমান জারি করলো, সরকার নিয়োগ দিয়ে পাঠিয়েছে তাতে কি হয়েছে। যিনি যোগদান করতে আসবেন তাকে ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। নতুবা যোগদান করতে দেয়া হবে না। হয়েছেও তাই। চাকরির একটা প্রয়োজন তাই ঘটি-বাটি, ঝুলি কাঁথা বেচে অথবা শেষ সম্বল অন্য কিছু খুইয়ে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষতি পোষাতে হয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ অবস্থা চলছে। আমরা মনে করি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়েগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে জরুরী ব্যবস্থা নিয়া উচিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কেশবপুর প্রেসক্লাবের ভোট ১১ সেপ্টেম্বর

কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬ আগস্ট প্রেসক্লাব নির্বাচন...

ঝিনাইদহে নবজাতক হত্যায় আটক ৩

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক ছেলে শিশুকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে...

দুই চোরসহ ভ্যান উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযানে ইঞ্জিন ভ্যান চুরির ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২ চোরসহ...

শিশু নাঈমার ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

প্রেমবাগ প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়ার বালিয়াডাঙ্গায় শিশু নাঈমার ঘাতক আমজাদের ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার...

যশোরে ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার রাতে শহরের মুজিব সড়ক সার্কিট হাউজের সামনে...

যশোরে জুয়ার আস্তানা থেকে ছয়জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের এক পরিত্যক্ত টিনের ঘরের মধ্যে...