Saturday, August 20, 2022

সংখ্যায় দেখি পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। দৈর্ঘ্যে যেমন বড়, তেমনি এর নির্মাণযজ্ঞের প্রতিটি পর্বেই বিশালত্বের ছাপ দেখা গেছে। পাইলিং থেকে শুরু করে স্প্যান বসানো—নানা পর্বে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড। অনেক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, যা দেশে আগে কখনো হয়নি। বালু, রড, সিমেন্ট, ইস্পাত, ইট, পাথর—উপকরণের ব্যবহার হয়েছে বিপুল পরিমাণে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে সেসব পরিসংখ্যান পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সেতু-সম্পর্কিত তথ্যের সূত্র সেতু বিভাগ।

কেওক্রাডং থেকে উঁচু, ৫৭টি বুর্জ খলিফার সমান!

মাটির গভীর থেকে শুরু। এরপর নানা উপকরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। এখন এই সেতু যান চলাচলের অপেক্ষায়। কোন উপকরণ কী পরিমাণে লেগেছে—নিশ্চয় এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ আছে। তবে উপকরণের সঙ্গে বিশ্বের অনন্য স্থাপনা কিংবা প্রকৃতির আশ্চর্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে কেমন দেখায়?

পদ্মা সেতুর নদীশাসনে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ জিও ব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। এর কোনো কোনোটির ওজন ৮০০ কেজি। কিছু আবার ১২৫ কেজির। এসব জিও ব্যাগে বালু ভরে নদীর তলদেশে ফেলা হয়েছে। নদীতে পাথর ফেলা হয়েছে প্রায় সোয়া ১০ লাখ ঘনমিটার। এই পরিমাণ পাথরকে ১৩ হাজার বর্গফুট জুড়ে স্তূপ করে রাখলে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কেওক্রাডংয়ের থেকেও উঁচু দেখাবে।

৫৭টি বুর্জ খলিফার সমান
পদ্মায় মূল সেতু, নদীশাসন ও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে মোট বালু ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ঘনমিটার, যা দিয়ে ১৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবন তৈরি করা যাবে। এই আয়তন প্রায় ৫৭টি বুর্জ খলিফার সমান। বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার সব তলা মিলিয়ে আয়তন ৩৩ লাখ ৩১ হাজার বর্গফুট। পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত বালুর সবই দেশীয়।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে রডের ব্যবহার হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টন। এসব রডের সবই দেশীয়। এক টন করে এই রড যদি লম্বালম্বি রাখা হয়, তাহলে পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত রডের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১ হাজার ২৯৬ কিলোমিটার। দেশের সর্ব উত্তরের স্থান তেঁতুলিয়া থেকে দক্ষিণের আরেক প্রান্ত টেকনাফের দূরত্ব ৯৩১ কিলোমিটার। অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত রডের দৈর্ঘ্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্বের চেয়েও বেশি।

কত ট্রাক?
মূল সেতু, নদীশাসন ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাত লাখ টন। এর সবই দেশে উৎপাদিত। এই সিমেন্ট প্রয়োজনমতো নানা সময় পদ্মার পাড়ে এসেছে। ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘ সময় নিয়ে। কিন্তু একবার ভাবুন তো, সব সিমেন্ট যদি একসঙ্গে পরিবহন করতে হতো তাহলে কত ট্রাকের প্রয়োজন? সংখ্যাটা আসলেই অনেক বড়! সব সিমেন্ট একসঙ্গে ৫ টন ক্ষমতার ট্রাক দিয়ে পরিবহন করা হলে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ট্রাকের প্রয়োজন হতো।

এভারেস্টের চার গুণ উঁচু, মিরপুর টু ফার্মগেট

পদ্মা নদী অত্যধিক খরস্রোতা। স্রোতে নদীর তলদেশে সেতুর পিলারের কাছে ৬২ মিটার পর্যন্ত মাটি সরে যেতে পারে। ফলে এই সেতুকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভিত্তি মজবুত হওয়া জরুরি। আর ভিত্তি মজবুতের মূল হচ্ছে পাইলিং।

নদীর তলদেশে যত গভীরে এবং মোটা পাইল বসানো যায়, ততই ভিত্তি মজবুত হয়। এ জন্যই পদ্মা সেতুতে দীর্ঘ পাইল বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতুতে ২৬২টি ইস্পাত বা স্টিল ও ৩২টি রডের পাইল ব্যবহার করা হয়েছে। ইস্পাতের পাইলের প্রতিটির ব্যাস তিন মিটার, যা একতলা ভবনের উচ্চতার সমান।

নদীর তলদেশে সর্বোচ্চ ১২৫.৫ মিটার বা ৪১১.৫০ ফুট গভীরে ইস্পাতের পাইলগুলো বসানো হয়েছে। এর অর্থ হলো—একটি ৪২ তলা ভবন যতটা উঁচু, ততটা গভীরতায় নদীর তলদেশে সবচেয়ে বড় পাইলটি বসানো হয়েছে।

পদ্মা সেতুতে ইস্পাত ও রডের মিলিয়ে ২৯৪টি পাইল বসানো হয়েছে। প্রতিটি পাইল গড়ে ১২০ মিটার গভীরে বসানো হয়েছে ধরে জোড়া দিলে কি দাঁড়ায়? সব কটি পাইলের উচ্চতা হবে ৩৫ হাজার ২৮০ মিটার। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজারে ৮৪৮ মিটার। এর অর্থ হচ্ছে—পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত সব কটি পাইলের মোট উচ্চতা মাউন্ট এভারেস্টের চার গুণেরও বেশি।

মিরপুর টু ফার্মগেট
পদ্মা সেতুতে প্রথমে হয়েছে পাইলিং। এর ওপর তৈরি করা হয় পিলার। আর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে স্প্যান। স্প্যান হলো ইস্পাত বা স্টিলের মূল কাঠামো, যার ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসিয়ে যানবাহন চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট স্প্যান রয়েছে ৪১টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। স্প্যানগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ১৫০ মিটার বা ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, যা ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ফার্মগেটের দূরত্বের সমান। প্রতিটি স্প্যানের ওজন ৩ হাজার ২০০ টন। ভায়াডাক্ট (নদীর বাইরের অংশ) হিসাবে ধরলে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার।

২,১৫৫টি ক্রিকেট মাঠের সমান, চার রেকর্ড
পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৩ দশমিক ২১ হেক্টর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তথ্য অনুযায়ী, একটি আদর্শ ক্রিকেট মাঠের আয়তন গড়ে ১ দশমিক ২৫ হেক্টর। অর্থাৎ, পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা জমি ২ হাজার ১৫৫টি ক্রিকেট মাঠের সমান। এসব জমি অধিগ্রহণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৯২। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নগদ টাকা এবং ২ হাজার ৬০৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতুর আলোয় ক্রিকেট ম্যাচ
পদ্মা সেতুতে মোট ল্যাম্পপোস্ট বা বাতি বসানোর খুঁটি আছে ৪১৫টি। ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হলেও এসব ল্যাম্পপোস্টের কোনো ক্ষতি হবে না। প্রতিটি পোস্টের ওজন ২৭৫ কেজি ও দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ২ মিটার। ল্যাম্পপোস্টে বসানো হয়েছে ১৭৫ ওয়াটের এলইডি বাতি। পদ্মা সেতুতে বসানো বাতিগুলো একটি মোটামুটি আকারের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বসানো হলে দিবারাত্রির ম্যাচ চালানো যাবে।

এক সেতু, চার রেকর্ড
সেতু বিভাগ বলছে, পদ্মা সেতুতে বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে চারটি।

১. প্রকল্পে তিন মিটার ব্যাসের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্যের স্টিল পাইলের ব্যবহার করা হয়েছে। এসব পাইল সর্বোচ্চ ১২৫ দশমিক ৫ মিটার গভীরে বসানো হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি।

২. সবচেয়ে লম্বা স্টিলের স্প্যান বসানো হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। প্রতিটি স্প্যানের ওজন ৩ হাজার ২০০ টন।

২,১৫৫টি ক্রিকেট মাঠের সমান, চার রেকর্ড
৩. সেতুটি ভূমিকম্প সহনীয় করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতার ডাবল কারভেচার ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে। এত শক্তিশালী বিয়ারিং আর কোনো সেতুতে ব্যবহার হয়নি বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

৪.চতুর্থ রেকর্ডটি হলো—নদীশাসন কাজের একক সর্ববৃহৎ দরপত্র। সেতুর সুরক্ষায় নদীশাসন করা হয়েছে ১৪ কিলোমিটার। ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এই কাজ করেছে চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বে শুধু নদীশাসনের জন্য এককভাবে এত টাকার দরপত্র আর আহ্বান করার নজির নেই।

৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে ৬২ মিটার পর্যন্ত মাটি সরে যেতে পারে, এটা ধরে নকশা করা হয়েছে। পদ্মা সেতু রিখটার স্কেলে প্রায় আট মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। সেতুটি চার হাজার ডেড ওয়েট টনেজ (ডিডব্লিউটি) ক্ষমতার জাহাজের ধাক্কা সামলাতে পারবে।

মাটি সরে যাওয়া, জাহাজের ধাক্কা ও আট মাত্রার ভূমিকম্প—তিনটি একসঙ্গে ঘটলেও সেতুটি টিকে যাবে, নকশায় এমনটাই ধরা হয়েছে।

পদ্মা সেতুকে ভূমিকম্প সহনীয় করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতার বিশেষ ধরনের বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে, যার নাম ‘ডাবল কারভেচার ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’। সবচেয়ে বড় বিয়ারিংটির ওজন ১৫ টন। মোট বিয়ারিং লেগেছে ৯৬ সেট। এগুলো পিলার এবং স্প্যানের মাঝখানে বসানো হয়েছে। এসব বিয়ারিং প্রায় এক লাখ টন ক্ষমতার কম্পন প্রতিরোধে সক্ষম।

কীভাবে ভূমিকম্প ঠেকাবে এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রকৌশলীরা। তাঁরা বলছেন, ভূমিকম্প মাটিতে কম্পন সৃষ্টি করে। এই কম্পন প্রথমে পিলারে যাবে। বিয়ারিংগুলো এর কম্পন ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এ ছাড়া স্প্যানে ভূমিকম্পের সামান্য আঘাত গেলেও তা থেকে সেতুকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি জোড়ায় সংকোচন-সম্প্রসারণের বিয়ারিং বসানো হয়েছে।

বড় ভূমিকম্প থেকেও যে সেতুটি রক্ষা পাবে, সেই সেতুর উপরের অংশের ওজন আসলে কত? পদ্মা সেতুর ওপরের কাঠামোর প্রতিটি স্প্যানের ওজন ৩ হাজার ২০০ টন। পুরো সেতুতে এমন স্প্যান আছে ৪১টি। ফলে সব মিলিয়ে স্প্যানের ওজন দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার ২০০ টন। এর ওপর রেলের গার্ডার, দুই স্তরের কংক্রিটের স্ল্যাব বসানো হয়েছে। ফলে তা কয়েক লাখ টন ওজনের একটি স্থাপনা।

২,৭৬৮ দিন, ২০ দেশের মেধা
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। দৈর্ঘ্যে যেমন বড়, তেমনি এর নির্মাণযজ্ঞের প্রতিটি পর্বেই বিশালত্বের ছাপ দেখা গেছে। পাইলিং থেকে শুরু করে স্প্যান বসানো—নানা পর্বে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড। অনেক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, যা দেশে আগে কখনো হয়নি। বালু, রড, সিমেন্ট, ইস্পাত, ইট, পাথর—উপকরণের ব্যবহার হয়েছে বিপুল পরিমাণে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে সেসব পরিসংখ্যান পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সেতু-সম্পর্কিত তথ্যের সূত্র সেতু বিভাগ।

দেশের মানুষ পদ্মা সেতুর চালুর ক্ষণগণনা করছে। ২৫ জুন থেকে চলবে যানবাহন। তখন চাইলে যানবাহনে পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়া যাবে ছয় কিংবা সাত মিনিটে। এই সেতু নির্মাণে বহু মেধা ও মানুষের শ্রম যুক্ত রয়েছে। প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা ধরে চলেছে কাজ।

মূল সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। উদ্বোধন হবে ২০২২ সালের ২৫ জুন। সে হিসাবে, পুরো সেতু নির্মাণে সময় লেগেছে মোট ২ হাজার ৭৬৮ দিন। এই সময়ে করোনা মহামারি, বন্যার ভাঙন, নদীর স্রোত কিংবা পাইলিংয়ে জটিলতা কখনো কখনো কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ এই যাত্রায় একদিনের জন্যও কাজ থেমে থাকেনি।

এই লম্বা সময়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজে জড়িয়ে আছে ২০টি দেশের মানুষের মেধা। দেশগুলো হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, ডেনমার্ক, ইতালি, মালয়েশিয়া, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, তাইওয়ান, নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতুর বিশদ নকশা করা হয় হংকংয়ে। এতে নেতৃত্ব দেন ব্রিটিশ নাগরিক রবিন শ্যাম। তিনি লম্বা স্প্যানের সেতুর নকশা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ। ২০১৮ সালে ব্রিটেনের রানি তাঁকে কমান্ডার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ আম্পায়ার পুরস্কারে ভূষিত করেন। নকশা প্রণয়নে ব্যবস্থাপক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কেন হুইটলার।

সেতুর নির্মাণকাজের তদারকির নেতৃত্ব দেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রবার্ট জন এভস। আর নদীশাসনের নকশা প্রণয়নে ছিলেন কানাডার ব্রুস ওয়ালেস। এ কাজে আরও ছিলেন জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরাও। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ১৩৮ ব্যক্তি। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালকসহ বড় পদে আছেন ৩২ জন। তাঁদের মধ্যে মো. শফিকুল ইসলাম সড়ক ও জনপদের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে থাকাকালে ২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক হন। তাঁর অধীনে ঠিকাদার নিয়োগ ও নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী বছর জুন পর্যন্ত তিনি পরিচালক হিসেবে থাকছেন। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও সরকার তাঁকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে রেখে দেয়।

প্রকল্পের উপপরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে রয়েছেন সওজের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান। তিনি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম লালন শাহ সেতুর নির্মাণে যুক্ত ছিলেন।

পদ্মা সেতুতে ১০টি দেশের বিপুল উপকরণ ব্যবহার করা হয়। আরও প্রায় ৫০টি দেশের কিছু না কিছু উপকরণ এতে ব্যবহার হয়েছে। বাংলাদেশের বাইরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি উপকরণ কেনা হয়েছে চীন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, লুক্সেমবার্গ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মূল সেতুতে প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার টন স্টিলের প্লেট লেগেছে, যার সবই এসেছে চীন থেকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আইন না থাকায় বন্ধ ঘোষিত ক্লিনিক চলছে

গ্রাম্য কথায় আছে ‘বকো ঝকো যাই করো কানে দিয়েছি তুলো/মারো ধরো যাই করো পিঠে...
00:03:31

দুর্বলের অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আবির্ভূত হন যুগাবতার শ্রীকৃষ্ণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ‘তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িয়েছে সে’ প্রসঙ্গ টেনে এমপি কাজী নাবিল আহমেদ...

যবিপ্রবিতে নানা কর্মসূচিতে শুভ জন্মাষ্টমী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আলোচনা সভা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, পূজা অর্চনা, গীতা পাঠসহ নানা কর্মসূচিতে যশোর বিজ্ঞান...

যশোরে মাদকসহ চারজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর কোতোয়ালি থানা ও ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা...

আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে দেশকে দেউলিয়া বানিয়েছে : যশোরে শামসুজ্জামান দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গণসমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আওয়ামী...

যশোরে মারপিটের অভিযোগে দুইজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদরের ইছালী ফুলবাড়ি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের...