বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

সংবাদপত্রের পাতা থকে

সাজেদ রহমান
কলকাতার কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এসেছিলেন যশোর সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ডিসেম্বরে যশোর মুক্ত হবার পর। ফিরে গিয়ে লেখেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। যা প্রকাশ হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর। তাঁর লেখার অংশ বিশেষ। ‘আগের দিন রাতে মোমবাতির আলোয় সাতক্ষীরায় মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে আমি জীবনানন্দ দাশের রুপসী বাংলা পড়ছিলাম। আমার মাথায় তখন একটা আইডিয়া ঘুরছিল। জীবনানন্দের বাংলাদেশ নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি ছবি করার। ইমেজ ইন্ডিয়ার জ্যোতি রায় ছিলেন আমাদের সঙ্গে। আমার ইচ্ছের কথা বলায় জ্যোতি তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেল। রাতে বসে বসে তাই আমি জীবনানন্দের কবিতা থেকে চিত্রকল্পের মালা গাঁথছিলাম। বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রুপ/খুঁজিতে যাই না আর, ..এই কথাগুলো পেরিয়ে আসবার পর আমার চিত্রনাট্যের বাদিকের স্তম্ভে লিখলাম ও অন্ধকার জেগে উঠে ডুমুরের গাছে/ চেয়ে দেখি। ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে/ ভোরের দয়েল পাখি।’ ‘ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস’-এর মুক্তিযোদ্ধা হক সাহেব বসে গল্প করছিলেন। লেখা থামিয়ে হক সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম-আচ্ছা, হক সাহেব এদিকে দয়েল পাখি দেখতে পাওয়া যায়? কুমিল্লার লোক হলেও বেশ কিছুদিন তার কেটেছে যশোর ক্যান্টনমেন্টে। বললেন, নিশ্চয় পাবেন। জ্যোতিকে জিজ্ঞেস করলাম-ভোরবেলা, ডুমুরগাছ, বড় পাতার নিচে বসে থাকা দয়েল পাখি, এসব কী ক্যামেরায় তোলা সম্ভব ? ক্যামেরাম্যান সত্যবাবু বললেন, নিশ্চয় সম্ভব। বিজ্ঞাপন কোম্পানির আংশিক সময়ের চাকরিটা আসবার ঠিক আগে রাগ করে ছেড়ে দিয়ে এসেছি। কাজেই ডকুমেন্টারি ছবি তোলার ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে বেশ তোলপাড় করছিল। নইলে শুধু বই লিখে তো আর সংসার চালাতে পারব না। দয়েল পাখি দেখতে কেমন ? কিছুতেই মনে পড়ছিল না। আরও খানিকক্ষণ লেখালেখি করে মোমবাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। তার ঠিক একদিন পরে সকালবেলায় যশোর শহরের উপকন্ঠে ইটখোলা মাঠে নাকে কাপড় দিয়ে হক সাহেব হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলেন, ঐ দেখুন দয়েল পাখি।’ দয়েল পাখি। হ্যাঁ, সত্যিই দয়েল পাখি। আশপাশের গ্রামের লোকজনও তাই বলল।

একটা দয়েল পাখি। অর্ধভুক্ত একটা শবদেহের ওপর বসে তার গা থেকে খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিল কৃমি। কয়েক হাত দূরে আরেকটা শবদেহ। তন্ময় হয়ে তার পায়ের দিকটা ছিড়ে খাচ্ছিল একটিমাত্র কুকুর। আমরা খুব কাছে নাকে রুমাল দিয়ে দাঁড়িয়ে। জোরে জোরে কথা বলছি। দয়েল পাখি কিংবা কুকুরটার কোন ভ্রুরুক্ষেপ নেই। চারদিকে তাকালাম। অনেকখানি দূরে মাঠের মধ্যে চুপ চাপ বসে রয়েছে একদল কুকুর। ধারে কাছে ছিল বা শকুনের কোনো চিহ্ন নেই। একজন বলল, আগে আগে আকাশ কালো করে শকুনের দল ঘুরে বেড়াত। খেয়ে খেয়ে এখন ওদের অরুচি ধরে গেছে। বাড়ির পোষা কুকুর গুলো এখন আর বাড়ির ভাত খায় না। তারা দিন রাত মাঠেঘাটে ঘুরে মরা খেয়ে বেড়ায়। ইটখোলার মাঠ যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে শহরের ময়লানিকাশের বাঁধানো একসার নর্দমা আর গর্ত। রাস্তার ঠিক ধারেই স্তুপাকার হয়ে রয়েছে কয়েক ডজন মাথার খুলি। পাক ফৌজ থাকার সময় গাছের গায়ে দড়ি টাঙিয়ে মাথার খুলির মালা টাঙানো থাকত। যাবার আগে সেসব মুন্ডমালা ওরা খুলে নিয়ে এদিকে সেদিকে খালে বিলে ফেলে দিয়ে গেছে। তাই নাড়া করতে গিয়ে যে কয়েকটা গাড়ি তলায় গড়িয়ে পড়েছিল, সেই কয়েকটাই এখন রাস্তার ধারে দেখতে পাওয়া যাবে। একটা কথা বলে রাখা ভালো সাতক্ষীরা কিংবা যশোরে যেসব জায়গায় নরকঙ্কাল কিংবা শবদেহ স্তুপাকারে ছড়িয়ে আছে, আমি তার একটা কী দুটো জায়গার বেশি দেখিনি। সঙ্গে গিয়ে দেখে আসার জন্যে গ্রামের লোকজনের টানাটানি করেছে। কিন্তু দ’ুএকটা জায়গার বেশি যাইনি। যেতে ইচ্ছা করেনি।

পঞ্চাশের মন্বন্তরের কথা মনে আছে। সে সময় মেদিনীপুর আর বিক্রমপুরের গ্রামে গ্রামে ঘুরেছি। লোকে যেখানেই ডেকে নিয়ে গেছে গিয়েছি। দুর্ভিক্ষ আর মহামারীতে মৃত মানুষের মিছিল দেখে সেদিন যত না কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে ঢের বেশি মন খারাপ হয়েছে এবার নিহত মানুষের হাড়ের পাহাড় দেখে। তাই নানা অছিলায় এবার গ্রাম শহরের বধ্যভূমিগুলো এড়িয়ে গিয়েছি। একেবারে এড়ানো সম্ভব নয়। যশোরে এসে পৌঁছানোর দিন সার্কিট হাউসের ভেতরে গাড়ি রেখে সবে নেমে দাঁড়িয়েছি, বন্দুকধারী একজন মুক্তিসেনা আমাদের ডেকে বললেন, এই গ্যারেজটার পেছন দিকে একবার আসুন। পেছনে যাওয়া মাত্র নাকে রুমাল চাপা দিতে হল। ইট চাপা দেওয়া একটা গর্তের ভেতর থেকে গন্ধ আসছিল। গর্তের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকটা ছেড়া কাপড়, লুঙ্গি আর গেঞ্জি। তার তিন হাত দূরে বাঙ্কারের মুখে কয়েকটা বালির বস্তা। তার গায়ে ভন ভন করছে মাছি। ইটখোলার আশপাশে ময়লানিকাশী গর্তগুলো বাসি ছিল স্কুলবাড়ি। পাক ফৌজ আর রাজাকারদের হাতে পড়ে লোকমুখে ইস্কুলবাড়িটার নতুন নাম হয়েছিল কসাইখানা।

এই কসাইখানায় খুন হওয়া ঐ এলাকার তিন হাজার জনের মধ্যে একজন ছিলেন চৌবেড়ে গ্রামের প্রবীণ ধর্মপ্রাণ মানুষ আফসার হাফিজ। তাকে ধরে এনে দিনের বেলায় ইস্কুলের সামনের উঠোনে জবাই করে ছেড়ে দেয়া হয়। সারারাত শুয়ে শুয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি কলেমা পড়েছেন। রাস্তা দিয়ে যেতে আসতে গাঁয়ের লোকে শুনেছে। পরদিন সকালেও তিনি বিড় বিড় করে কলমা পড়ছিলেন। তারপর তাকে যখন গর্ত খুঁড়ে শুইয়ে দেওয়া হল, তখনও তিনি কলমা পড়ে যাচ্ছিলেন। শুধু মাটি চাপা দেয়ার ঠিক আগের মুহূর্তটিতে দু’হাত দিয়ে তিনি তার চোখদুটো ঢেকে দিয়েছিলেন। যশোরে আহম্মদ খানের ইটের ভাটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আরেক ইটের ভাটা তাহের আলীর। এখানেও সেই একই দৃশ্য। গর্তের মধ্যে পচাগলা শবদেহ। মাঠের মধ্যে ইতস্তত মরা ছিড়ে খাচ্ছে তিন চারটে ঘাড়েগর্দানে হওয়া কুকুর। এখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে টুকরো কাপড়, লুঙ্গি, গেঞ্জি। নতুনের মধ্যে শুধু একটা উলে বোনা পুলওভার। কিন্তু আশ্চর্য, এক পার্টি জুতোও কিন্তু কোথাও পড়ে থাকতে দেখিনি। ইটখোলার আসবার রাস্তায় হঠাৎ দেখা হয়ে গেল নিউ টাউনের উত্তরে বাহাদুরপুরের লুৎফর রহমানের সঙ্গে। বছর কুড়ি বয়স। রক্তহীন ফ্যাকাশে চেহারা। একজন তার শার্টের বোতাম খুলে ডান কাঁধের দিকে কন্ঠার হাড়ের কাছটা দেখাল। ডুমো ডুমো হওয়া ক্ষতবিক্ষত দাগ। ঘা এখনও পুরো শুকোয়নি। তার শুকিয়ে যাওয়া দুর্বল শরীরটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছিল। ছোরা না বেওয়ানেটে? উঁহু। বলে এবার পিঠের দিকে দেখাল দুটো ফুটোর দাগ।

লুৎফরকে ওরা গুলি মারতেই চেয়েছিল। একা লুৎফরকে নয়। এক সঙ্গে চল্লিশ জনকে। গুলি খেয়েও কপালের জোরে বেঁচে গিয়েছিল চারজন। সেই চার জনের একজন লুৎফর। চাষির ছেলে লুৎফর। চৈত্র সংক্রান্তির দিন হাল দিয়েছিল মাঠে। তারপর বীজ বোনার পালা। পয়লা বৈশাখ সকালবেলা গাঁসুদ্ধ লোক যে যার বাড়িতেই ছিল। হঠাৎ বাহাদুরপুর গ্রামে এসে হানা দিল চব্বিশ জন পাক সেপাই। লুৎফরকে তারা গ্রামের রাস্তাতেই পাকড়াও করেছিল। বলেছিল কোন কোন বাড়িতে হিন্দুরা থাকে দেখিয়ে দাও। লুৎফর বলেছিল, হিন্দু যারা ছিল, তারা অনেক আগেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তাই বলে লুৎফরকে তারা ছাড়েনি। বাঙালি মুসলমানদের বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে জোয়ান-মরদ চল্লিশ জনকে ধরে তারা গ্রামের বাইরে মাঠের মধ্যে নিয়ে গেল। তারপর তাদের লাইন বেঁধে কী দাঁড় করিয়ে দিল ? না। কনুইতে ভার দিয়ে তাদের শুয়ে পড়তে বলা হল। তারপর সামনে থেকে গুলি করল ? না গুলি করল পেছন থেকে। লুৎফরের পিছে দুটো ফুটো সেইজন্যেই। গুলি দুটো বেরিয়ে গিয়েছিল কন্ঠার হাড় ভেঙ্গে। গুলি লাগার পর লুৎফরের যে খুব যন্ত্রণা হয়েছিল তা নয়। পুরো হুঁশ ছিল লুৎফরের। সে দেখতে পেল যারা দু-দুটো গুলি খেয়ে আধমরা হয়ে কাতরাচ্ছিল। তাদের কাছে এসে পাক সেপাইরা আরও দু-চারটে গুলি করে তাদের চিৎকার বন্ধ করে দিচ্ছিল। লুৎফর তাই দেখে একেবারে মরার মতো ঘাপটি মেরে পড়ে থাকল। সেপাইরা চলে যাবার আধাঘন্টা পরে লুৎফর তার ক্ষতস্থানে গেঞ্জি গুজে দিয়ে কোন রকমে টলতে টলতে গ্রামে ফেরে। ঢুকবার মুখে প্রথম যে বাড়ি, সেই বাড়িতে এসে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। হাসপাতালে তাকে থাকতে হয়েছিল একটানা ছ’মাস। ¯œানমুখে লুৎফর বলল-ডান হাতটা এখন আর ওঠাতে পারি না। কেমন করে আর চাষের কাজ করব বলেন তো ? ইটখোলার ভেতর কাঁচা কবরগুলো দেখছিলাম, তাকিয়ে দেখি একজন চশমাচোখে বুড়ো ইটের পাঁজার গায়ে দাঁড়িয়ে বলল, আমার বৃত্তান্তটা একটু লিখে নেন।
কী নাম ? কালাই শেখ। বয়স কত ? আশী। কালাই শেখ থাকতেন বাহাদুরপুর গ্রামে জামাইয়ের বাড়িতে। জামাই করত চাষের কাজ। আর ওই গ্রামেই কালাই শেখের ছেলের ছোট দোকান ছিল। সেপাহিরা বাহাদুরপুরে ঢুকে দোকানটা লুট করে। কালাই শেখের ছিল জমানো সত্তরটা টাকা। সেটাও তারা লুট করে নিয়ে যায়। আর যাবার সময় ধরে নিয়ে যায় তার ছেলে আর জামাইকে। গুলি খেয়েও জামাই কোনরকমে প্রাণে বেঁচে যায়। কিন্তু জীবনে তার সে চাষের কাজ আর করতে পারবে না। দুটো হাতই তার অকেজো হয়ে গেছে। গুলি খেয়ে মারা গেছে কালাই শেখের অন্ধের নাড়ি, ছেলেটা। দিনের খানিকটা সময় কালাই শেখ ছেলের দোকানে গিয়ে বসতেন। এখন ? জামাইয়ের সংসারও তো অচল, কালাই শেখকে তাই বুড়ো বয়সে ভিক্ষেয় বেরোতে হয়। কত খুন হয়েছে এ তল্লাটে? কে হিসাব রাখে তার ? ওয়াপদার যে রেস্ট হাউসে আমরা ছিলাম, সেখানকার ঝাড়–দার সুখলাল ডোম বলল, ‘তা কম করে সাত হাজার হবেই। মরা ফেলার কাজ তাকেও করতে হয়েছে। তবে পয়সা দেয়নি। মরা ফেলার জন্যে দিয়েছে আটা আর তেল। রাজাকার কত ছিল ? এক সাতক্ষীরা মহকুমাতেই পঁচিশ হাজার। বাড়িতে চাল টাকা ঘুষ দিয়ে লোক জোটানো হত। কেউ এসেছে অভাবে, কেউ লোভে, কেউবা বাড়ির লোকদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে পারার আশায়। মাসে মাইনে নব্বই টাকা। কিন্তু অনেকেই এই মওকায় কামিয়ে নেবার জন্যে লুটপাট করে মাসে পাঁচ-ছশো টাকা রোজগার করেছে। আর পাক সেপাইরা ? সাতক্ষীরার কাছে এক বাঙ্কারের ধারে মুক্তিফৌজের হাতে নিহত এক পাক সেপাইয়ের পকেটে পাওয়া গিয়েছিল নগদ সতেরো হাজার টাকা। আর সেই দয়েল পাখি ? বড় হৃদয়হীন একটা ব্যাপার ঘটে গেল আমার জীবনে। আমি কি আর আমার কবিতায় কোনদিন শান্তভাবে দয়েল পাখির কথা বলতে পারব?’
-জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

মহেশপুরে একাধিক মামলার আসামি টিটনকে কুপিয়ে হত্যা

মহেশপুর প্রতিনিধি: মহেশপুর উপজেলার ধানহাড়িয়া গ্রামে জীবন চৌধুরী ওরফে টিটন (৩০) নামে একজনকে কুপিয়ে...

অভয়নগরে দুই মাদক বিক্রেতা আটক

অভয়নগর প্রতিনিধি: অভয়নগরে এপিবিএন পুলিশের অভিযানে ৫শ’ গ্রাম গাঁজা ও এক বোতল ফেনসিডিল ও...

জীবননগরের ২৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি মানসিক প্রতিবন্ধী জসিমের

জীবননগর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের মাননিক প্রতিবন্ধি জসিম উদ্দিন (৩৭) দীর্ঘ ২৬...

দ্রুত এগোচ্ছে যশোর-ঢাকা রেলপথ নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দিয়ে গত ২৫ জুন ঘটা করে...

রাতভর অভিযানে ডাকাত চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রাতভর অভিযান চালিয়ে যশোরের পুলিশ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এসময়...

তাঁর প্রতিদিনের আয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ লাখ টাকা

বিনোদন ডেস্ক: এই সময়ের আলোচিত সুপারমডেল কারা ডেলেভিন। মডেলিংয়ের সঙ্গে অভিনয়টাও ভালো পারেন। আলোচিত...