Thursday, July 7, 2022

সত্যি হলো হত্যার ঘটনা!

 মামলা থেকে মুক্তি নেই ডা. আব্দুর রউফের

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের আলোচিত পঙ্গু হাসাপাতালে কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী মফিজুর রহমানের (৬৫) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখন পুলিশের হাতে। আঘাত জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মাথা, বুক, পেট, হাত ও পায়ে জোরালো আঘাতে তিনি মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে হত্যা মামলা থেকে রেহায় পাচ্ছেন না হাসপাতালটির মালিক ডা. আব্দুর রউফ ও তার সাঙ্গাপাঙ্গারা। মফিজুরের মৃত্যুর পর ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে দৈনিক কল্যাণ। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রত্যেক প্রতিবেদনেই তথ্য প্রকাশ করে। সেই তথ্য সত্যি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আঘাতে হত্যার কথা উঠে এসেছে।

মফিজুর রহমানের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে। ২ এপ্রিল দুপুর ১২ টার পর মফিজুরর লাশ যশোর শহরের মুজিব সড়কের পঙ্গু হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়। মফিজুর রহমানের মা ৯০ বছর বয়সী আছিয়া বেগমকে ২৭ মার্চ পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মফিজুর রহমান ৩১ মার্চ হাসপাতালর সপ্তম তলায় মাকে দেখে নিচে আসেন হাসপাতাল ফার্মসিতে ওষুধের বিল পরিশাধের জন্য। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলে থানায় ডায়রি করা হয়। ২ মার্চ কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন পঙ্গু হাসপাতালের লিফটের নিচে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিফটের দরজার চাবি নিয়ে মফিজুরের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ হাসপাতালের লিফটের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে মফিজুরের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। লাশের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। মফিজুরের গলার নিচে বুকে ও ডান পায়ে কোপানোর চিহ্ন পাওয়া যায়। পরের দিন ৩ এপ্রিল মফিজুরের ছোট ছেলে শেখ সোয়েব উদ্দীন বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি অজ্ঞাত দেখানো হয়। এ ঘটনায় পঙ্গু হাসপাতালর ম্যানেজার আতিয়ার রহমান, লিফটম্যান আব্দুর রহমান ও জাহিদ গাজীকে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব হাসপাতালর কর্মচারী বাবু, কম্পিউটার ম্যান রনি, ইদ্রিসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত নেয়। কিন্তু টাকা ও উপরের তদবিরে পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নিহত মফিজুরের ভাই আলী হক ও ভাগ্নে অপু দাবি করেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি মিথ্যা বলে পঙ্গু হাসপাতালের মালিক আব্দুর রউফ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এরপর থেকে দৈনিক কল্যাণ অনুসন্ধানে নামে। পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করে র‌্যাব। আর ঘটনা ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন ডা. আব্দুর রউফ। পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। কিন্তু গণমাধ্যমের কারণেই শেষ পর্যন্ত সফল হননি তিনি।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট পঙ্গু হাসপাতালে
জোরালো আঘাতে মৃত্যু হয় মফিজুরের

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস ২ এপ্রিল মফিজুর রহমানের ময়নাতদন্ত করেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট জমা দেন ৭ এপ্রিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বাবলু কিশোর তার মন্তব্যে বলেছেন, রক্তক্ষরণ জনিত কারণে মফিজুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রক্তক্ষরণের কারণ হিসেবে বলেছেন মাথা, বুক, পেট, ও হাতে, পায়ে জোরালো আঘাতে রক্তক্ষরণ হয়। এর ফলে রক্ত শূন্যতায় মফিজুর রহমান মারা যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কোথাও বলা হয়নি পঙ্গু হাসপাতালের লিফট থেকে পড়ে আঘাতের কারণে মফিজুরের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার বাবলু কিশোর বলেন, আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণে মফিজুরের মৃত্যু হয়েছে। তবে কিভাবে আঘাত পেয়েছে এটা আমি বলতে পারবো না। এটি বলবেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আমি মর্গে লাশ পেয়েছি। কিভাবে মারা গেছেন এ তথ্য বলতে পারি। এর বেশি আমি বলতে পারবো না। কারণ ঘটনাস্থলে তো আমি ছিলাম না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কাজী আবু জুবাইর বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রত্যেকটি জিনিস আলাদা করে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ডিভিশন আছে। সাব ডিভিশন আছে। এটা আরো তদন্তের বিষয় আছে। লিফটের বিষয় নিয়ে লিফট কোম্পানির কাছে মতামত চেয়েছি। এছাড়া ঘটনার দিন ৭তম তলায় যারা ছিলো তাদের খোঁজ করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। শেষ হলে বিস্তারিত জানতে পারবো।
সূত্র মতে, পঙ্গু হাসপাতালের মালিক ডাক্তার আব্দুর রউফ। দীর্ঘদন ধরে ওই হাসপাতাল চিকিৎসার নাম গলাকাটা ব্যবসা করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর ওই সব অপকর্ম সেল্টার হিসেবে ষষ্ঠীতলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ম্যানসেল, রায়পাড়া কয়লাপট্টির পলিথিন বাবু, সজল, বাপ্পি, আশিক, শিমুল, রমজান ও মদুলসহ অনেককে ব্যবহার করে। ঘটনার দিন ৩১ মার্চ দুপুরে যখন মফিজুর রহমানের সাথে ডাক্তার রউফর বাকবিতন্ডা হয়। তখন ওই সন্ত্রাসীদের ডেকে আনে ডাক্তার রউফ। সজলের নেতৃত্ব বাপ্পি, আশিক, শিমুল, রমজান ও মদুলসহ একদল সন্ত্রাসী এসে মফিজুর রহমানকে হাসপাতালের গেট থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় রায়পাড়ায়। সেখানকার এক আইনজীবীর বাড়ির দ্বিতীয়তলায় আটকে রেখে মফিজুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশটি রাতেই পঙ্গু হাসপাতালের লিফটের নিচে ফেলে রেখে যায় বলে সূত্রের দাবি।

আরো পড়ুন:
যশোরে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর কালীগঞ্জের একজনের লাশ উদ্ধার
আলোচিত পঙ্গু হাসপাতালে রোগীর স্বজন খুনে ম্যানেজারসহ আটক ৮
কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী মফিজুর খুনে জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়নি আট দিনেও
ডা. রউফ-সন্ত্রাসী মধুর সম্পর্ক !
পঙ্গু হাসপাতালের মালিক ডা. রউফকে নিয়ে ফেসবুকে ঝড়
২০ দিনেও কোনো আসামি আটক নেই
ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া ডা. আব্দুর রউফ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ঈদের আগে আনন্দধারায় শিক্ষক-কর্মচারীরা

এমপিওভুক্ত যশোরের ৬০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রতিবেদক :  সরকার ২ হাজার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত ঘোষণা...

নতুন রোটারী বর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রোটারী ডিস্ট্রিক-৩২৮১-এর রোটারী বর্ষের সূচনা উপলক্ষে বুধবার বিকেলে যশোর শহরের বর্ণাঢ্য র‌্যালি...

যশোর বাস মালিক সমিতির নির্বাচন : মনোনয়নপত্র কিনেই ভোটযুদ্ধে প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মনোনয়নপত্র কিনেই ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন যশোর বাস মালিক সমিতির নির্বাচনের প্রার্থীরা। শুরু...

যশোরে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ১৫ জন আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলার চার এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় আলাদা চারটি মামলা করা...

সহসা কমছে না লোডশেডিং

ঢাকা অফিস গ্যাস সংকট চলছে তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘœ ঘটাছে। দেশজুড়ে চলছে লোডশেডিং চলছে। কবে...

অপতৎপরতা রুখতে একসাথে কাজ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী স্বপন

মণিরামপুর প্রতিনিধি :  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা...