টিকে থাক ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব

এই হেমন্তে বাংলার ঐতিহ্য শস্যভিত্তিক লোকোৎসব নবান্ন উদযাপিত হচ্ছে সারা দেশে। বাংলার লোক ঐতিহ্যের অংশ এই উৎসবটি ছিল একান্তভাবেই গৃহস্থদের। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ কিংবা পৌষ মাসে গৃহস্থরা এ উৎসব পালন করত। সেই প্রাচীনকাল থেকেই নবান্নে আয়োজন হতো নতুন ধানের পিঠাপুলির। একটা সময় ছিল, যখন নবান্ন উপলক্ষে বাড়ির প্রাঙ্গণে আলপনা আঁকা হতো। পিঠা-পায়েসের আদান-প্রদান ছিল। বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনের আগমন ঘটত। গ্রামে গ্রামে শোনা যেত ঢেঁকিতে চালের গুঁড়া তৈরির শব্দ। নবান্নে গ্রামাঞ্চল হয়ে উঠত প্রাণবন্ত। একসময় তো পাড়ায় পাড়ায়, বাড়িতে বাড়িতে বসত কীর্তন-পালাগান ও জারিগানের আসর।

গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে নবান্ন এসেছে শহরেও। কিন্তু নাগরিক নবান্ন ঐতিহ্যকে ম্লান করতে পারেনি। বরং নানা আয়োজনে বাংলার গ্রাম এখনো টিকিয়ে রেখেছে এ অঞ্চলের সহজাত অথচ আদি উৎসবটিকে। আর সে খবরটি তুলে ধরেছে কালের কণ্ঠ। গতকাল জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী আর নন্দীগ্রামে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহে উথলীতে শত বছরের প্রাচীন এ মাছের মেলা বসে। এ সময়ে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর বসে মাছের মেলা। উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর, বেড়াবালা, আকনপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, মেদনীপাড়া, বাকশন, রহবল, মোকামতলাসহ ২২ গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে উৎসবের আবহ বিরাজ করে। মাছের পাশাপাশি জমি থেকে সদ্য তোলা নতুন শাক-সবজির পসরাও সাজানো হয় মেলা চত্বরে। এ ছাড়া জয়পুরহাটের কালাইয়ের পাঁচশিরা বাজারেও চলছে তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিককালে শুরু হওয়া এক মেলা। অগ্রহায়ণের প্রথম বৃহস্পতিবার নবান্ন উৎসব পালন উপলক্ষে প্রতিবছর বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমরপুর, রণবাঘা, নাগরকান্দি, হাটকড়ই, ধুন্দার ও নন্দীগ্রামে মাছের মেলা বসে। বড় মেলা দুটি হয় ওমরপুর ও রণবাঘায়। উপজেলাজুড়ে বাড়ি বাড়ি মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়। সব মেলায়ই ভিড় করে দূর-দূরান্তের মানুষ। ছোট-বড় নানা আকারের বিচিত্র মাছ পাওয়া যায় এসব মেলায়। এসব এলাকার ঘরে ঘরে চলে বড় মাছ ও শীতের নতুন সবজি কিনে মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের আপ্যায়নের আয়োজন। এসব মেলায় ব্যাপক ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় জমে।

কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় গড়ে ওঠা শস্যভিত্তিক লোকজ উৎসব নবান্ন। বাংলার গ্রামগঞ্জে কৃষকের ঘর ছাড়িয়ে নাগরিক জীবনেও স্থান করে নিয়েছে। ঐতিহ্য স্পর্শ দিয়ে দিয়ে নবান্ন ছড়িয়ে যাক সারা দেশে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে