রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

সারের বাড়তি দামে কৃষক ক্ষুব্ধ

শাহিনুর রহমান, ঝাঁপা: বোরো বা আমনের মৌসুম না হলেও যশোরের মণিরামপুরে চলতি রবি চাষিদের বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই সার ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম নিচ্ছেন কৃষকদের কাছ থেকে। সরকারি দামে সার না পেয়ে এ অঞ্চলের কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রকারভেদে তাদের প্রতি কেজি সার ৪ থেকে ১২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে সার কিনতে যেয়ে কৃষক দামে ঠকলেও এর কোনো তথ্য নেই উপজেলা কৃষি দপ্তরে। বাজার তদারকিতে দপ্তরটির নেই কোনো উদ্যোগ। গত এক মাসে উপজেলায় এ সংক্রান্ত কোনো অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি।

কৃষকরা বলছেন, কেবলমাত্র আমনের মৌসুম শেষ হয়েছে। এখন সরিষা, মসুর, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজির মৌসুম চলছে। আমনে আমরা যে বাড়তি দামে সার কিনেছি। এখনো সে দামেই সার কিনতে হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ইউরিয়া ২৬-২৭ টাকা, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৩০-৩৪ টাকা, ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ড্যাপ) ২২-২৭ টাকা ও মিউরেট অব পটাশ ২৪-২৫ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। সরকারি পরিবেশকরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে সার বিক্রি করলেও বাইরের খুচরা সার বিক্রেতারা ইচ্ছেমত দাম নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য মতে, চলতি নভেম্বরে উপজেলায় ১৫ মেট্রিকটন ইউরিয়া, ৪.৮৫ টন টিএসপি, ১০.০৫ টন এমওপি এবং ২০.৮৫ টন ডিএপি বরাদ্দ এসেছে। প্রতিকেজি ইউরিয়া ও টিএসপি ২২, এমওপি ও ডিএপি কেজি প্রতি ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দপ্তরটির ভাষ্যমতে, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ২০০ হেক্টর জমিতে মসুর, ১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি ও ৯৪ হেক্টর জমিতে ভূট্টার আবাদ হয়েছে।

খেদাপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কদিন আগে সরিষা লাগানোর সময় স্থানীয় বাজার থেকে ২৬ টাকা করে ড্যাপ কিনেছি।

মশ্মিমনগর এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ৬ কাঠা সরিষা বুনিছি। খেতে ছিটানোর জন্য কাঁঠালতলা বাজার থেকে ৬ কেজি ইউরিয়া ও ৬ কেজি ড্যাপ ২৫ টাকা করে কিনিছি।

ঝাঁপার কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন সার ও পানি দিয়ে এবার বেশি লাভ হচ্ছে না। নিজেদের কষ্টেরও কোন মূল্য থাকছে না।

খেদাপাড়া ইউনিয়নের সারের খুচরা পরিবেশক আলী হোসেন বলেন, এ মাসে শুধু ইউরিয়ার বরাদ্দ পেয়েছি। তালিকা করে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা সার বিক্রেতা বলেন, আমাদের ইউরিয়ার কেজি ২৪ টাকা, টিএসপি ৩১ টাকায়, ড্যাপ ১৯ টাকা ও পটাশ ২২ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এরপর পরিবহন খরচ আছে। ২-৪ টাকা লাভ না হলে চলব কি করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহীন ইসলাম বলেন, প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সামনে বোরো মৌসুম আসলে সারের ব্যাপারে অভিযানে জোর দেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

খালেদার বাসার সামনে তল্লাশিচৌকি, রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনের সড়কের দুই পাশে...

নিজের ১০০০তম ম্যাচ রাঙিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : ৬৫ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে চিতার মতো অস্ট্রেলিয়ান মিডফিল্ডের ট্রাইঙ্গেল...

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া ডেস্ক  : গ্রুপ লিগের পর নকআউট পর্বের শুরুটাও দুরন্ত করলো নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাউন্ড...

প্রযুক্তির মাধ্যমে দিনবদল করেছেন শেখ হাসিনা : প্রতিমন্ত্রী স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে যশোরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী...

কুয়েতে প্রতারণার শিকার শতাধিক বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুয়েতে শতাধিক বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আকামা পরিবর্তনসহ...

চাঁদাবাজির অভিযোগে হিজড়ার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে এক হিজড়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন...