Friday, August 12, 2022

সার্ভিস চার্জের সেবা কই ?

যশোর বিসিকে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন

আবদুল কাদের: করোনার মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে যশোর বিসিক শিল্প নগরীতে ৫৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় বাজারে ৪শ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি এবং রফতানি করা হয়েছে ১৮৬ কোটি টাকার পণ্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যশোর বিসিক শিল্প নগরীতে ৬৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন হয়েছিল।

২০১৮-১৯ অর্থবছরও ৪৪৮ কোটি টাকা পণ্য উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যশোর বিসিক শিল্প নগরীতে ৬৪৪ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে স্থানীয় বাজারে ৩৯৬ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি এবং রফতানি করা হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকার পণ্য। এর আগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৫৮ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হয়েছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, বাজার মন্দার কারণে গত দু’বছর উৎপদন কম হচ্ছে।

এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিসিক শিল্পনগরী যশোরের কোন উন্নয়ন হয়নি। অবহেলিত থেকে গেছে যশোর বিসিক। কর্তৃপক্ষের প্রতিবছর সার্ভিস চার্জ নিলেও উন্নয়নে কোন নজরই দিচ্ছে না। এখানে দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের উদ্যোগটিও থমকে আছে। সেই সাথে আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি। আর এসব কারণে স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি কিছু রাস্তা নির্মাণ করেছে বিসিক কর্তৃপক্ষ।

যশোর শহরের পাশেই ঝুমঝুমপুরে ৫০ একর জমির উপর ১৯৬২ সালে গড়ে উঠে এ শিল্পনগরী। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, এই শিল্পনগরীতে মোট ১১৮টি ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি ইউনিটেই শিল্প-কলকারখানা চালু রয়েছে। এসব শিল্প কারখানায় ৫ হাজার ৯১৮ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ শ্রমিক রয়েছে ২ হাজার ৯৩২ জন ও নারী শ্রমিক রয়েছে ২ হাজার ৯৮৬ জন।

এখানকার শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, যশোর বিসিক শিল্পনগরী থেকে সরকার নানাভাবে লাভবান হলেও এর উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কোন দৃষ্টিই নেই। এখানে কোন পুলিশ ক্যাম্প নেই। নেই সড়ক বাতি। সন্ধ্যার পর পুরো বিসিক শিল্প এলাকা ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়। চুরি, ছিনতাই, নিত্যকার ঘটনা। এ শিল্পনগরীতে ৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ৬ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে, যার মধ্যে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ড্রেনগুলো। প্রত্যেকটি শিল্প-কলকারখানার জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। যশোর বিসিক শিল্পনগরীর জন্য ১৯৬২ সালে মাত্র ২৫টি ইউনিটের জন্য পানির পাম্প স্থাপন করা হয়। অথচ ইউনিটের সংখ্যা এখন ১১৮-এ পৌঁছালেও সেই অর্ধশত বছরের পুরনো পাম্প দিয়েই এখনও কাজ চালানো হচ্ছে। তাও আবার দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পানি সরবরাহ ঠিকমতো হয় না।

এ বিষয়ে শিল্প উদ্যোক্তা এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সত্ত্বাধিকারী আকতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যশোর বিসিক নানা সমস্যায় জর্জারিত। এখানকার অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সেই সাথে আছে পানি, বিদ্যুত সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান হলে এখানে আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠত। প্রতিবছর সার্ভিস চার্জ নিলেও ন্যূনতম সেবা দিচ্ছে না তারা।

বিসিকের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এমইউ সিইএ ফুডসের সত্ত্বাধিকারী শ্যামল দাস জানান, আমরা কর দিচ্ছি, আবার বিসিক নিচ্ছে সার্ভিস চার্জ। নিয়ম হলো এই সার্ভিস চার্জ নিয়ে তারা আমাদেরকে সেবা দেবে। কিন্তু বিসিক থেকে আমরা কোন সুবিধা পায় না। এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। নিজেদের অর্থে ড্রেনেজ পরিস্কার করাতে হয়। নেই কোন সীমানা প্রাচীর ও মেইন গেইট। একই সাথে এখানে বৈদ্যুদিক ফিডারও নেই।
যশোর বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা আলী বলেন, এখন গ্রীষ্ম মৌসুম চলছে। কোন ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে তা নেভানোর জন্য পানি নেই। ৬২ সালে স্থাপন করা পানি সরবরাহ লাইন পুরোপুরি অকেজো হয়ে আছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যতটুকু পানি সাথে করে নিয়ে আসবে, সেটুকুই কেবল ব্যবহার করতে পারবে, বাড়তি পানি বিসিক শিল্পনগরী থেকে পাবে না।

তিনি বলেন, নারী-পুরুষ মিলিয়ে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক এখানে কাজ করে। রাত-দিন মিলিয়ে ৩ শিফটে কাজ হয়। রাত ১০ টার দিকে যেসব নারী শ্রমিক বাড়ি ফেরে ও কাজে যোগদান করতে আসে, তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মহিলা শ্রমিকদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। এসব ব্যাপারে বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোন কাজ হয়নি। এখন আবার আমাদের সব শিল্পের উপর সার্ভিস চার্জ চার গুণ বাড়ানো হয়েছে। অথচ সার্ভিসের কোনো বালাই নেই।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, যশোর বিসিক একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন ধরণের শিল্প পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছে না। সহজ শর্তে আর্থিক সহযোগিতা পেলে বিসিকে আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠত। সেই সাথে পণ্য উৎপাদনও অনেক গুণ বেড়ে যেত।

এব্যাপারে যশোর বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক গোলাম হাফিজ জানান, আমরা ইতিমধ্যে নতুন রাস্তা নির্মাণ করেছি। অন্যান্য সমস্যাও থাকবে না। কিভাবে আধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, বিল হরিনায় ৪শ একর জমির উপর দ্বিতীয় বিসিক গড়ে তোলার কাজ এগিয়েছে। মন্ত্রণালয় এটার অনুমোদন দিয়েছে। তারপরেও দেশের অন্য জেলার বিসিকের চেয়ে যশোর বিসিকের অবস্থা অনেক ভালো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

বার বার ঘুম ভেঙে গেলে শরীরের যেসব মারাত্মক ক্ষতি

কল্যাণ ডেস্ক : শরীরের জন্য ঘুম খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। তবে এ ঘুম যদি কম...

আগামী মাসেই দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে দুটি দেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে...

‘হাওয়া’য় আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলল

কল্যাণ ডেস্ক : ‘হাওয়া’ সিনেমার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন -২০১২ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল...

এবার প্রেমের টানে দিনাজপুরে অস্ট্রিয়ান যুবক, বিয়েও করলেন

কল্যাণ ডেস্ক : প্রেমের টানে বাংলাদেশে দিনাজপুর শহরের আব্দুল রাজ্জাকের মেয়ে রুম্পার কাছে ছুটে এসেছেন...

কাতার বিশ্বকাপ এক দিন এগিয়ে এনেছে ফিফা

কল্যাণ ডেস্ক : দুই দিন আগেই আভাস মিলেছিল বদলে যেতে পারে কাতার বিশ্বকাপের সূচি। স্বাগতিক...

এটিএম বুথে ব্যবসায়ীকে হত্যা, ছিনতাইকারীকে পুলিশে দিল জনতা

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে মো. শরিফ উল্লাহ (৪৪) নামের...