রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

স্বগৌরবে ফিরলো ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যশোরের ঐতিহ্য বি. সরকার মেমোরিয়াল হলে নতুনরুপে যাত্রা শুরু করলো ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ। ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ এতদিন ঢাকা পড়েছিল তসবীর সিনেমা হলের সাইনবোর্ডে। কয়েক যুগ পর সেই ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করলো স্বগৌরবে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং নানা শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ভার্চুয়ালিযুক্ত হয়ে ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, যশোরে যোগদানের পর ইচ্ছে ছিল বি. সরকার মেমোরিয়াল হল ও ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চকে চালু করবো। সেই স্বপ্ন আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বাস্তবায়িত হল। তিনি বলেন, যশোরের যত ঐতিহ্য রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের পর আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সুইচে চাপ দিলে ‘ঘূর্ণায়মান মঞ্চ’ ঘুরতে থাকে। এ সময় দর্শক স্রোতা করতালীর মাধ্যমে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট চুন্নু সিদ্দিকী জেলা প্রশাসকের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশংসা করে বলেন, কয়েক দশক পরে বি. সরকার মেমোরিয়াল হল ও তসবীর সিনেমা হলের সাইনবোর্ডে ঢাকা পড়া ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ ফিরে পেলো প্রাণ। কিন্তু এখনো সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ করা যায়নি। তিনি অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, বিশিষ্ট কলামিস্ট আমিরুল ইসলাম রন্টু ও অ্যাডভোকেট মো. ইসহক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নজরুল ইসলাম, পরিবেশের ওপর আশিক মাহমুদ সবুজ ও কামরুল ইসলামকে সস্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পরে পাকিস্তান কারাগারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ‘২৮৮ দিন’ বিষয়ের ওপর রচিত নাটক মঞ্চায়িত হয়। এ সময় দর্শক-শ্রোতার উপচেপড়া ভিড় ছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালে ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ নির্মিত হয়। নামকরণ করা হয় বিশ্বেস্বর-বি. সরকার মেমোরিয়াল হল। ১৯২৮ সালে এই থিয়েটার নাট্যকলা সংসদ নামে যশোর ইনস্টিটিউটের সঙ্গে একীভূত হয়। উপমহাদেশের নাট্য আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছিল এ প্রতিষ্ঠানটি। পরে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য এই হল ইজারা দেয় নোমানী পরিবারের কাছে। ইজারাদার নাম পরিবর্তন করে নাম দেন তসবীর সিনেমা হল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

কোটচাঁদপুরে সক্রিয় অপরাধী ও প্রতারক চক্র

কামাল হাওলাদার, কোটচাঁদপুর : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দিনে দুপুরে চুরি ছিনতাইসহ প্রতারক চক্রের প্রতারণার মাত্রা বেড়ে...

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...