বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের জেলা যশোর

আজ যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। যদি বলা হয় আজ যশোরবসীর গৌরবের দিন তাহলে এ অর্জনকে খাটো করা হবে। দিনটি বাঙালি জাতির গর্বের দিন। জাতির প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশের মাটি থেকে হানাদার বাহিনীকে উৎখাত করার যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল সে সংগ্রামের বিজয় আসে যশোরের পথ ধরে। দেশ হানাদারমুক্ত করতে বিভিন্ন প্রান্তের মুক্তিপাগল মানুষ তথা মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করেছেন । এই যশোরের সেনানিবাসে যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন কুমিল্লার কৃতী সন্তান বীর উত্তম সেকেন্ড লে. আনোয়ার হোসেনসহ আরো ৪০ যোদ্ধা, নড়াইলের কৃতি সন্তান বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ। আরো নাম না জানা অনেকে আছেন, যাদের মধ্যে কেউ শহিদ আবার কেউ বেঁচেও থাকেন। তাই স্বাধীনতা অর্জনের পথে সর্বপ্রথম যশোর মুক্ত মানে সারাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিজয়। যশোর স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের জেলা।

৭১ সালের ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এ সময় মিত্রবাহিনীও সীমান্ত এলাকা থেকে যশোর সেনানিবাসসহ পাক আর্মিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা ও গোলা নিক্ষেপ করে।

এক পর্যায়ে পর্যুদস্তু হানাদার বাহিনী ৫ ডিসেম্বর থেকে পালাতে শুরু করে। যশোর সেনানিবাস ছেড়ে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে খুলনার গিলাতলা সেনানিবাসের দিকে চলে যেতে থাকে। পলায়নকালে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রচন্ড লড়াই হয়।

৬ ডিসেম্বর বিকেলের আগে যশোর সেনানিবাস খালি করে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। বিকেলে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তি বাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে দখল নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তির আনন্দে উচ্ছসিত মুক্তিযোদ্ধা-জনতার ঢল নামে শহরে। পাড়া মহল্লায়ও চলে খন্ড খন্ড আনন্দ মিছিল। মুক্তির আনন্দে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে ফেটে পড়ে গোটা জেলার মানুষ।

৩ মার্চ যশোর কালেক্টরেটের সামনে শহরের রাজপথে বের হয় জঙ্গি মিছিল। যশোরবাসী শপথ নেয় স্বাধীনতা যুদ্ধের। এই মিছিলে হানাদার বাহিনী গুলি চালালে শহীদ হন চারুবালা কর। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনিই যশোরের প্রথম শহিদ। এরপর থেকেই যশোরে সংগঠিত হতে থাকে প্রতিরোধ। নেতৃত্ব দেয় সংগ্রাম পরিষদ। সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হতে থাকে ছাত্র, যুবক ও মহিলাদের। ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী তদানীন্তন জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা মশিয়ূর রহমানকে তার বাসভবন থেকে ধরে যশোর সেনানিবাসে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ২৯ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী যশোর শহর ছেড়ে সেনানিবাসে চলে যায়। ৩১ মার্চ নড়াইল থেকে হাজার হাজার লোকের এক বিশাল মিছিল শহরে আসে। শহরবাসীর সাহায্যে সশস্ত্র মিছিলটি হামলা চালায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তি পায় সব রাজবন্দী। মার্চের দিনগুলোতে তৎকালীন ইপিআর বিদ্রোহ ছিল অন্যতম। সামরিক, বেসামরিক স্বাধীনতাকামী মানুষের অকুতোভয় লড়াইয়ে এক সগর রক্তের বিনিময়ে যে দিনটিতে জাতি স্বাধীনতার সূর্য দেখেছিল সেই ঐতিহাসিক দিন আজ ৬ ডিসেম্বর। আজকের দিনে স্বাধীনতার স্বাদ সব মানুষের কাছে পৌছানের শপথ হোক আমাদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ নাকি মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

ক্রীড়া ডেস্ক: প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এক হারেই...

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিজয়ী রাহার আয়োজকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক: থাইল্যান্ড পাঠানোর নাম করে তার দেওয়া ৬ লাখ টাকা আয়োজকরা আত্মসাৎ করেছেন...

মেসিকে হুমকি দেওয়া মেক্সিকান বক্সারকে পেটাবেন আর্জেন্টাইন ফাইটার

ক্রীড়া ডেস্ক: আর্জেন্টাইন ফাইটার ফ্রাঙ্কো তেনাগ্লিয়াকে তেমন খ্যাতিমান কেউ নন। লাইটওয়েট শ্রেণিতে লড়াই করেন...

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে ব্রাজিলকে সমর্থন দেবেন স্কালোনি!

ক্রীড়া ডেস্ক: আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, আর্জেন্টিনা কাতার বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে গেলে...

মাগুরায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা শহরের পশু হাসপাতাল পাড়ায় মিম (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রী গলায়...

শতভাগ পাস ঝিকরগাছায় শীর্ষে বিএম হাইস্কুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দীন মুসলিম হাইস্কুলের শতভাগ পাসের সাফল্য এবারও উপজেলার শীর্ষে রয়েছে।...