সড়ক এত প্রাণহানি মানা যায় না

সম্পাদকীয়

সারা দেশে গত এক বছরে চার হাজার ৬৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৫৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ২০২০ সালে নিহত হয়েছিল পাঁচ হাজার ৪৩১ জন। সে হিসাবে গত বছর এক হাজার ১২২ জন বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে বলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করেছে ।
বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে প্রাণহনির দায়ে চালকের বিচার ও শাস্তি হয় না। এমনকি শাস্তির দাবি উঠলে কিংবা মামলা হলে শ্রমিকরা বেআইনীভাবে আন্দোলন শুরু করে। আইনকে নিজস্ব গতিতে হাঁটার ক্ষেত্রে বাধা দেয়ার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথমে আইন প্রণয়ন করতে হবে। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গাড়িতে বিকল্প চালক রাখা, একজন চালকের ৫ ঘন্টার বেশি গাড়ি না চালানোসহ ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনার মধ্যে ছিল গাড়ির চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া, নির্দিষ্ট দূরত্বে সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা বা সিগন্যাল মেনে পথচারী পারাপারে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের সিটবেল্ট বাধা নিশ্চিত করা।

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। এখনই এর রশি টেনে ধরতে হবে। সেই সাথে পর্যালোচনা দেখতে হবে দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর যথোপযুক্ত নির্দেশনাগুলো দিয়েছিলেন তা কতটুকু পালিত হয়েছে। তা না করে ছোট গাড়ির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে এমন সব কথা বলে মহাসড়কে ছোট যান চলাচল বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে অহেতুক কষ্টের মধ্যে ফেলার কোনো যুক্তি নেই। সম্প্রতি যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটলো তার একটিও ছোট গাড়ির কারণে ঘটেছে বলে জানা যায়নি। তাছাড়া বাসে তো ৪-৫ কিলোমিটারের দূরত্বের যাত্রীদের উঠায় না। তাহলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কি ভাবে স্কুল-কলেজে যাবে সেটা ভেবে দেখতে হবে। সিদ্ধান্ত একটা চাপিয়ে দিলেই হবে না। আর যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালিত না হয় তাহলে নতুন করে সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে লাভটা কি? সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নয় এ কথা সত্যি, তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখাটা অসম্ভব নয়। যাদের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে, একই সাথে দুর্ঘটনা রোধে সচেনতা সৃষ্টি ও আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরিতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। কঠোর আইন প্রণয়ন এবং এর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে তা দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সহায়ক হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে