১০ মাসে চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যা করেছে ২৯৬ জন

১০ মাসে চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যা করেছে ২৯৬ জন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
একই শ্রেণির ছাত্রকে বিয়ে করতে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। চলতি মাসের ১৬ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দশমী পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। একই মাসে ১৫ নভেম্বর স্বামীর ওপর অভিমান করে শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান এক গৃহবধূ। ১৫ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জোয়ার্দ্দারপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এক তরুণীর (১৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ায় তিশা আত্মহত্যা করে বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা।

জেলা পুলিশের তথ্যানুযায়ী ২০২১ সালের ১০ মাসে এখন পর্যন্ত ২৯৬ জনের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ কিশোর ও তরুণ বয়সের। যাদের বয়স ১৫ থেকে ২২ বছর। আর প্রেমের ঘটনায় অধিকাংশ আত্মহত্যা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, জেলায় প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০ জন আত্মহত্যা করেন। এদের মধ্যে ১৫ বছরের কিশোর থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত নারী-পুরুষ রয়েছেন। তবে সঠিক পূর্ণাঙ্গ মোট আত্মহত্যার কোনও জরিপ নেই জেলা পুলিশের কাছে।

জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার কনস্টেবল তাহের জানান, চলতি মাসে জেলায় ৬ জন আত্মহথ্যা করেন। আর গত মাসে আত্মহত্যা করেন ২২ জন।

পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, চুয়াডঙ্গায় আত্মহত্যার সংখ্যা অন্য জেলার তুলনায় বেশি। তবে পুলিশ সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা রোধে সচেতনতামূলক কর্মকা- পরিচালনা করছে।

জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে আত্মহত্যার দিক থেকে সদর উপজেলা প্রথম ও দামুড়হুদা উপজেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। করোনাকালে আত্মহত্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। মানসিকভাবে ভেঙেপড়া, মাদক, আর্থিক সংকট, হতাশা, পারিবারিক জটিলতা, সম্পর্কের অবনতি, চাকরি নিয়ে হতাশাসহ নানা কারণে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি ও বেসরকারিভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে বিভিন্ন সামজিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কোনও কাজে আসছে না বলে মনে করছেন জেলার সুশীল সমাজ।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট মনিটরিং সেল চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মানিক আকবর জানান, সামাজিকভাবে মানুষের মাঝে আত্মহত্যা রোধে ধর্মীয়ভাবে প্রচার চালানো উচিত। তাহলে কিছুটা হলেও আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

চুয়াডাঙ্গা ওয়েব ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক জহির রায়হান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রতি বছর নারী-পুরুষের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। অধিকাংশ নারী-পুরুষ কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছর আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়লেও তা ঠেকাতে জেলায় আজ পর্যন্ত কোনও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, জেলার মানুষ অনেক বেশি আবেগ প্রবণ। এ কারণে তুচ্ছ কারণেই তারা আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন। জেলায় দরিদ্র পরিবার, বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে